শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬ ।। ২০ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ১৯ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
দলে গতি আনতে পরিকল্পনা জানালেন ইসলামী আন্দোলনের নতুন মহাসচিব ‘এ দেশে এক পীরের যত মুরীদ আছে পুরো জামায়াত মিলেও এত লোক নেই’ জমিয়তের ঢাকা মহানগর উত্তর কাউন্সিল সফল করতে মতবিনিময় সভা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কওমি শিক্ষার্থীদের ভূমিকার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দাবি অবিলম্বে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি নেজামে ইসলাম পার্টির ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির কে কোন দায়িত্ব পেলেন জুলাইয়ের প্রত্যাশা বাস্তবায়নে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা ইসলামী আন্দোলনের প্রবাসীর স্ত্রীকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়া সেই যুবক মুয়াজ্জিন নন! আমিরে মজলিসের সঙ্গে বগুড়া জেলা নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় সভা মৎস্য পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচি উদ্বোধন করলেন পীর সাহেব চরমোনাই

দলে গতি আনতে পরিকল্পনা জানালেন ইসলামী আন্দোলনের নতুন মহাসচিব

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: আওয়ার ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদক

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নবনিযুক্ত মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেছেন, দলের মহাসচিবের দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি আগের মতো স্বাধীনভাবে কথা বলা ও কাজ করার সুযোগ পান না বলে অনুভব করছেন। নতুন দায়িত্বের সঙ্গে বেড়েছে আত্মনিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহিতার চাপ। তবে এই দায়িত্বকে তিনি সংগঠনের প্রতি আল্লাহর অর্পিত আমানত হিসেবে দেখছেন এবং মানুষের আস্থা অটুট রাখাকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন। তিনি দলকে পুনর্গঠনের মাধ্যমে গতি আনতে চান বলে জানিয়েছেন।

সম্প্রতি আওয়ার ইসলামকে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে তিনি নেতৃত্ব, সাংগঠনিক পরিকল্পনা, ইসলামী ঐক্য, গণমাধ্যম, নির্বাচন ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন। সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেন আওয়ার ইসলামের সম্পাদক মুফতি হুমায়ুন আইয়ুব।

গাজী আতাউর রহমান বলেন, প্রায় ২৫ বছর ধরে জাতীয় রাজনীতিতে এবং তার আগে দীর্ঘ সময় ছাত্ররাজনীতিতে কাজ করেছেন তিনি। অতীতে বিভিন্ন দায়িত্বে থাকলেও মহাসচিব হওয়ার পর নিজের প্রতিটি বক্তব্য ও সিদ্ধান্ত আরও সতর্কতার সঙ্গে নিতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, আগে মনে হতো, আমার ওপর একজন দায়িত্বশীল আছেন, যিনি প্রয়োজনে ভুল-ত্রুটি সংশোধন করবেন। এখন সেই জায়গায় আমাকেই ভাবতে হচ্ছে। ফলে নিজের মধ্যে এক ধরনের আত্মনিয়ন্ত্রণ চলে এসেছে। এটিই এখন আমার কাছে সবচেয়ে বড় চাপ।

দলের মহাসচিব পদে দীর্ঘ ১৮ বছর পর পরিবর্তন প্রসঙ্গে গাজী আতাউর রহমান বলেন, ইসলামী সংগঠনের নেতৃত্বে পরিবর্তন একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবে কেবল সময়ের হিসেবে নেতৃত্ব পরিবর্তনের প্রয়োজন হয় না। দায়িত্ব পালনে সক্ষমতা, সংগঠনের আস্থা এবং শরয়ি দৃষ্টিকোণই এখানে মুখ্য।

তিনি বলেন, আমাদের সংগঠনের আমিরের একটি স্বতন্ত্র অবস্থান রয়েছে। শূরা, প্রেসিডিয়াম ও আমিরের পরামর্শেই প্রয়োজনীয় পরিবর্তন হয়েছে। এটি সংগঠনের স্বাভাবিক সিদ্ধান্ত।

নবনিযুক্ত মহাসচিব জানান, সারাদেশে দলের জনশক্তিকে আরও দক্ষ ও কার্যকর রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করাই হবে তাঁর অন্যতম অগ্রাধিকার। এজন্য প্রশিক্ষণ, সাংগঠনিক পুনর্গঠন এবং তৃণমূলকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, আমাদের কর্মী-সমর্থকদের মানোন্নয়নের জন্য প্রশিক্ষণ বাড়ানো হবে। কেন্দ্র থেকে ইউনিয়ন পর্যন্ত সাংগঠনিক কাঠামো আরও শক্তিশালী করা হবে।

নিজেকে ‘মিডিয়ার মানুষ’ উল্লেখ করে গাজী আতাউর রহমান বলেন, গণমাধ্যমে ইসলামী আন্দোলনের অবস্থান আরও সুসংহত করতে তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেবেন। তবে দলীয় মালিকানাধীন মিডিয়ার চেয়ে আদর্শের পক্ষে কাজ করে এমন স্বাধীন গণমাধ্যমকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন।

তিনি বলেন, দলের নিজস্ব মিডিয়া থাকতেই হবে—এমনটি আমি মনে করি না। আদর্শের পক্ষে যারা কাজ করে, তারাই আমাদের শক্তি।

ইসলামপন্থী দলগুলোর ঐক্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইসলামী ঐক্য কেবল রাজনৈতিক কৌশল নয়, বরং ইসলামের নির্দেশনা। তবে সেই ঐক্য অবশ্যই ইসলামের নীতি ও আদর্শের ভিত্তিতে হতে হবে।

তার ভাষায়, ঐক্য আমাদের স্থায়ী এজেন্ডা। তবে মানদণ্ডের বাইরে কোনো ঐক্য নয়। ইসলামের ভিত্তিতে যে কেউ এগিয়ে এলে আমরা ঐক্যের জন্য প্রস্তুত।

সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে প্রত্যাশিত ফল না এলেও সেটিকে তিনি বিপর্যয় হিসেবে দেখছেন না। বরং দুই প্রধান জোটের বাইরে থেকেও দল একটি সংসদীয় আসন এবং উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন, কাঙ্ক্ষিত ফল আসেনি, এটা সত্য। কিন্তু আমরা পিছিয়ে যাইনি। বিগত সময়ের তুলনায় ভোট ও সাংগঠনিক অবস্থান—দুই ক্ষেত্রেই এগিয়েছি।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে ইতোমধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাই শুরু হয়েছে বলেও জানান মহাসচিব। তিনি বলেন, দলীয় প্রতীক না থাকলেও দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে সংগঠনের সাংগঠনিক ভিত্তি রয়েছে এবং সব জায়গায় অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

নারীদের সাংগঠনিকভাবে আরও সম্পৃক্ত করতে পৃথক কাঠামো গঠনের কাজ চলছে বলেও জানান তিনি। তাঁর মতে, ভবিষ্যতের নারী নেতৃত্ব গড়ে তুলতে ছাত্রীদের মধ্যে সাংগঠনিক ও আদর্শিক প্রশিক্ষণ জরুরি।

বাংলাদেশে ইসলামী রাজনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে গাজী আতাউর রহমান বলেন, দেশের তরুণ সমাজের মধ্যে ইসলামী মূল্যবোধ ও আদর্শের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। এটিই আগামী দিনের সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা।

তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ ইসলামেরই। মানুষ এখন ইসলামী রাজনীতির প্রতি আগের চেয়ে বেশি আগ্রহী হচ্ছে। তরুণদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলনের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো জনগণের আস্থা অক্ষুণ্ন রাখা এবং সেই আস্থার প্রতিফলন ঘটাতে সংগঠনকে আরও দক্ষ, গতিশীল ও জনমুখী করে গড়ে তোলা।

[পুরো সাক্ষাৎকারটি পড়তে চোখ রাখুন আওয়ার ইসলামে]

আরএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ