সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৭ রবিউস সানি ১৪৪৮

শিরোনাম :
বিদেশি আলেমদের বাংলাদেশ সফর নিয়ে দুটি কথা রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হলো ‘ইসলামিক সোশ্যাল ফাইন্যান্স মিট-আপ ২০২৬’ ময়মনসিংহের শীর্ষ আলেমদের সঙ্গে এমপি মুফতি মোহাম্মদুল্লাহর সৌজন্য সাক্ষাৎ ‘সন্ত্রাস-চাঁদাবাজ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে সরকারের বিরুদ্ধে গণক্ষোভ বিস্ফোরিত হবে’ পরিবারিক শান্তি ও নিরাপদ দাম্পত্য নিয়ে ইনসাফ ফাউন্ডেশনের প্রশিক্ষণ কর্মশালা  ইলিশের প্রজনন রক্ষায় জেলেদের নৌকা-জাল জমা নেওয়ার প্রস্তাব দ্রুত বাড়ছে তিস্তার পানি, ভাঙন আতঙ্কে ৯ গ্রামের মানুষ সিলেটে মাইকিং করে সংঘর্ষে জড়ালেন দুই গ্রামের বাসিন্দারা, আহত ৩০ সুন্দরবনে ১৫ জন অপহরণের ঘটনায় আতঙ্কে জেলে-মহাজন বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে মা-ছেলের মৃত্যু 

বিদেশি আলেমদের বাংলাদেশ সফর নিয়ে দুটি কথা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

|| মুফতি এনায়েতুল্লাহ ||

প্রতি বছর ভারত, পাকিস্তান, সৌদি আরব, মিসর, ইরাক, ইরান, ফিলিস্তিন, কাতার ও দক্ষিণ আফ্রিকাসহ বিভিন্ন দেশের ইসলামি স্কলার, আলেম, পীর-বুজুর্গ ও ধর্মীয় নেতারা বাংলাদেশ সফর করেন। এটা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়।

এমনিতেও অতিথি পরায়ণ জাতি হিসেবে বাংলাদেশিদের বিশ্বজুড়ে আলাদা পরিচিত, সুনাম ও সুখ্যাতি রয়েছে। এমতাবস্থায় বাংলাদেশে বিদেশি আলেমদের আগমন ইসলামি অঙ্গন, দ্বীনি শিক্ষা এবং দাওয়াতি কার্যক্রমকে সমৃদ্ধ করে। বিদেশি অতিথিদের আগমন বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যে অত্যন্ত সম্মানীয় একটি বিষয়।

তাবলিগ জামাতের বিশ্ব ইজতেমা, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সেমিনার এবং ইসলামি মহাসম্মেলনকে কেন্দ্র করে বিদেশি আলেমরা বাংলাদেশে আসেন। অন্য দশজন মানুষ যেভাবে বিভিন্ন দেশ সফর করেন, তারাও সেভাবেই বাংলাদেশে আসেন। অর্থাৎ বাংলাদেশের ভিসা নিয়ে আসেন এবং প্রকাশ্য কর্মসূচি অর্থাৎ ওয়াজ মাহফিল,সেমিনার-সিম্পোজিয়াম ও ইসলামি মহাসম্মেলনে যোগ দেন। তাদের নাম ফলাও করে পোস্টার-হ্যান্ডবিলে প্রচার করা হয়। তার পরও নানা সময় তাদের বাংলাদেশে আগমনকে কেন্দ্র করে নেতিবাচক প্রচারণা ও খবর প্রচারিত হয়।

অনাকাঙ্খিত এই পরিস্থিতি এড়াতে বিদেশি মেহমানদের বাংলাদেশের আনার পেছনে যারা কাজ করেন, প্রোগ্রামের ব্যবস্থা করেন, তাদের জন্য আমার কয়েকটি পরামর্শ হলো-

এক. যে মেহমান আসবেন- তার আগমনের এক-দুইদিন আগে একটি প্রেস কনফারেন্স করে তিনি কেন আসছেন, কোথায় কোথায় তার প্রোগ্রাম হবে বিস্তারিত জানিয়ে দেওয়া। এর ফলে আয়োজক কে বা কারা তাদের সম্পর্কে যেমন সবার ধারণা সৃষ্টি হবে তেমনি মেহমান সম্পর্কেও আগ্রহীদের জানা থাকবে।

দুই. আগত মেহমান কোন বিষয়ে অভিজ্ঞ, কী তার বিশেষত্ব, তার পরিচিতি ও শুদ্ধ বানানে তার নাম প্রচারের ব্যবস্থা করা।

তিন. সম্ভব হলে কর্মসূচির ফাঁকে ফাঁকে দেশের প্রতিনিধিত্বশীল আলেম, তরুণ আলেম ও লেখক-সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাদাভাবে মতবিনিময়ের ব্যবস্থা করা।

চার. ভালো হয়, বাংলাদেশ ত্যাগ করার আগে মেহমানকে দিয়ে আরেকটি প্রেস কনফারেন্স করানো। যেখানে তিনি বাংলাদেশ সম্পর্কে তার মূল্যায়ন ও সফর সম্পর্কে অভিব্যক্তি পেশ করবেন।

পাঁচ. এমনও হয়েছে, আন্তর্জাতিকমানের কোনো আলেম বাংলাদেশ সফর করছেন, কিন্তু শুধু আয়োজক আর যেখানে তিনি আসছেন- তারা ছাড়া কেউ জানে না। অথচ তার আগমনের কথা মানুষ জানলে আরও বেশি উপকার হতো। মেহমানও খুশি হতেন।

মেহমানের বিশ্রাম ও নিরাপত্তা অটুট রেখে- কাজগুলো জটিল কিছু নয়। এজন্য দরকার আয়োজকের সচেতনতা ও সদিচ্ছা।

মনে রাখতে হবে, যেকোনো বিদেশি মেহমান আমাদের জন্য গর্বের। তাকে নিয়ে কোনো ধরনের নেতিবাচক প্রচারণা যেমন কাম্য নয়, তেমনি তাকে যেনতেনভাবে উপস্থাপন এবং অযাচিত, হালকা অনুষ্ঠানে অতিথি বানানোও কাম্য নয়।

আমরা জানি, কোনো বিদেশিকে মেহমানদারি করতে যেয়ে নানা ধরনের বিড়ম্বনা পোহাতে হয়, কাজটি খুব মসৃণ নয়। এমন কষ্টসাধ্য কাজের পরও কোনো ব্যবস্থাপক ও আয়োজক অন্যায় কোনো অভিযোগ ও গসিপের শিকার হোন- আমরা তা চাই না।

লেখক: জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও বিশ্লেষক

এসএইচ/ 


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ