বুধবার, ১০ জুন ২০২৬ ।। ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ২৪ জিলহজ ১৪৪৭

শিরোনাম :
দেশে বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ দ্রুত কর্মসংস্থান সৃষ্টি: বাণিজ্যমন্ত্রী বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে উঠলো ইরানের কেশম দ্বীপ আপনি গুলি করলে আমরা কি বসে থাকব: বিএসএফ-কে বিজিবি প্রাথমিকে সংগীত, নাট্যকলা, নৃত্যকলা, চারু ও কারুকলা অন্তর্ভুক্ত করছে সরকার প্রশাসনিক কার্যক্রমে দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী সারাদেশের সীমান্তে প্রতিবাদী সমাবেশ ও শাহবাগে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক ১১ দলের হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু আদ্-দ্বীনের শোকজের জবাবে সন্তুষ্ট নই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী শুক্রবার ঢাকায় আসবেন ভারতের নতুন হাইকমিশনার ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক জুড়তে লেবাননের প্রতি হিজবুল্লাহর আহ্বান

সুযোগ দিয়ে দেখুন, মাদরাসার ছাত্ররাই বদলে দিতে পারে চিত্র

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মুফতী মুঈনুল ইসলাম

মাদরাসার ছাত্ররা দেশের যেকোনো সেক্টরে এলে সেই সেক্টরের চিত্র বদলে যাবে, ইনশাআল্লাহ। প্রয়োজনে পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকটি সেক্টরে তাদেরকে নিয়োগ দিয়ে দেখা যেতে পারে।

উদাহরণ হিসেবে আমরা এখানে সাম্প্রতিক কালের কয়েকটি দৃষ্টান্ত পেশ করার চেষ্টা করছি।

০১. উদাহরণ: একজন বয়স্ক যাত্রী ফার্মগেটে বাসে উঠতে যাচ্ছিলেন। হেলপার একজন মাদরাসার ছাত্র। তিনি বাসের দরজা থেকে নেমে সেই যাত্রীকে বললেন,'চাচা !  আপনি এই বাসেও যেতে পারবেন। তবে আপনার কষ্ট হতে পারে। কারণ, এই বাসে সিট খালি নেই। পরের বাসটির সিট খালি আছে। সেই বাসে আপনি সহজে সিট পাবেন ,সেটাতে উঠুন।'-তথ্যসূত্র : সাম্প্রতিক কালের সোশ্যাল মিডিয়া।

সাধারণত হেলপাররা যাত্রী পেলে সিট থাকুক বা না থাকুক, জোর করে যাত্রীকে গাড়িতে উঠিয়ে নেন। কিন্তু মাদরাসা পড়ুয়া এই লোকটি তা করেননি।

০২. উদাহরণ: কয়েক দিন আগে মেট্রোরেলে করে আমরা কয়েকজন মতিঝিল থেকে মিরপুর- ১০ স্টেশনে যাচ্ছিলাম। একজন মাদরাসার ছাত্র সিটে বসে ছিলেন। ইতিমধ্যে একটি স্টেশন থেকে একজন মধ্য-বয়স্ক পুরুষ মেট্রোরেলে উঠলেন। ছাত্রটি তাঁকে দেখামাত্র সিট ছেড়ে দিয়ে বললেন- 'চাচা! এখানে বসুন।'

চাচা বসতে রাজি না হলেও ছেলেটির একান্ত আকুতির দরুণ চাচা বাধ্য হয়ে বসে ছেলেটির মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললেন- 'বাবা রে! এই যুগে পাবলিক পরিবহনে এমন তো দেখা যায় না।'

মাদরাসার ছাত্রটি মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকলেন। এই দৃষ্টান্ত দেখে শব্দহীন বাক্যে অনেকেই ছেলেটির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন।

০৩. উদাহরণ: গেল কুরবানির ঈদের দিন মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষকগণ গায়ে-গতরে গরু -ছাগলের রক্ত মেখে মাদরসার কল্যাণে চামড়া কালেকশন করলেন। আমি নিজে উপযাজক হয়ে একজন শিক্ষককে জিজ্ঞাসা করলাম-'হুজুর! কতদিন এই কাজ করছেন?' তিনি বললেন- '৪০ বছর।'

আমি আবার জিজ্ঞাসা করলাম-'এই চল্লিশ বছরে কি কোনো মাদরাসার ছাত্রকে মাদরাসার জন্য সংগৃহীত কুরবানির চামড়া চুরি করে বিক্রি করতে দেখেছেন কিংবা কেউ বিক্রি করেছে শুনেছেন?'

তিনি অবাক বিস্ময়ে আমার দিকে তাকিয়ে উত্তর দিলেন-'অসম্ভব, এরকম ঘটনা অতীতে কখনো ঘটেছে বলে আমি শুনিনি। এমনকি ভবিষ্যতে এধরনের ঘটনা ঘটার মাদরাসা অঙ্গনে কোনো আশঙ্কা আছে বলে আমি মনে করি না।'

রাষ্ট্র কর্তৃপক্ষের কাছে বিনীত কিছু অনুরোধ।

০১. বিনীত অনুরোধ: পরীক্ষামূলকভাবে অন্তত ঢাকা সিটি করপোরেশনের প্রধান সড়কগুলোর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় শুধু সার্জেন্ট পোস্টে আমাদের মাদরাসার ছাত্রদের নিয়োগ দিয়ে দেখুন, শতভাগ সততা, নিষ্ঠা, একাগ্রতা ও দেশপ্রেম অবলোকন করবেন, ইনশাআল্লাহ।

০২. বিনীত অনুরোধ : বাংলাদেশ রেলওয়েতে দেশের এক দুইটি বিভাগে পরীক্ষামূলকভাবে মাদরাসা পড়ুয়াদের নিয়োগ দিয়ে দেখুন, সেই নির্ধারিত বিভাগসমূহে বাংলাদেশ রেলওয়ে শতভাগ লাভজনক খাতে পরিণত হবে, ইনশাআল্লাহ।

০৩. বিনীত অনুরোধ: বাজার মনিটরিং এর জন্য শুধুমাত্র সিটি কর্পোরেশন গুলোতে মাদরাসা পড়ুয়াদেরকে দিয়ে 'মনিটরিং সেল' গঠন করে দিন, মুনাফাখোরী, মজুদদারী ও ভেজাল কিভাবে নির্মূল হয়ে যায়, কয়েক মাসের মধ্যেই ইনশাআল্লাহ অবলোকন করবেন।

অতএব, আমাদের অত্যন্ত শ্রদ্ধাভাজন সরকার কর্তৃপক্ষকে সীমাহীন শ্রদ্ধার সাথে আরজ করছি যে, দেশ-প্রেমিক, নিষ্ঠাবান, সৎ, ঈমানদার ও কর্মঠ এই জনগোষ্ঠীকে রাষ্ট্রের মূলধারা থেকে দূরে না রেখে রাষ্ট্রের সকল ক্ষেত্রে তাঁদেরকে সম্পৃক্ত করুন,এতে  উপকৃত হবে দেশ জাতি ও রাষ্ট্র। মূলধারার সাথে সম্পৃক্ত হবে, এদেশের বিশাল একটি জনগোষ্ঠী।

শুভকামনা অবিরাম, হে মাতৃভূমি বাংলাদেশ। নিরাপদ থাক, তোমার প্রতি ইঞ্চি মাটি, প্রতিকণা জলাধার ও আকাশের প্রতি ইঞ্চি শূন্যতা। সব সময় ভালো থেকো, হে প্রিয় জন্মভূমি!

লেখক: প্রিন্সিপাল ও রেক্টর, জামিয়া ইসলামিয়া ঢাকা; বহু গ্রন্থপ্রণেতা

আরএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ