শনিবার, ২৩ মে ২০২৬ ।। ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ৬ জিলহজ ১৪৪৭


রাজনীতিতে ‘স্পষ্ট’ কথা বলা বেশি জরুরি

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

|| মুফতি এনায়েতুল্লাহ ||

বৃটিশ খেদাও আন্দোলন এবং পাকিস্তান গঠনে আলেম-উলামাদের অবদান অনস্বীকার্য। কিন্তু পাকিস্তানের সংবিধান রচনা, নির্বাচন এবং ক্ষমতার অংশীদারিত্বের সময় সেভাবে তাদের মূল্যায়ন করা হয়নি। অন্যদিকে একাত্তরে আলেম-উলামাদের ভূমিকার কথা তো আলোচনায়ই আসে না, এরই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন সময় রাজনীতিতে জোট গঠন ও নির্বাচনী সমঝোতা হলেও ক্ষমতার প্রশ্নে আলেমরা দূরে থাকেন। বলা ভালো, দূরে রাখা হয়।

চব্বিশের আন্দোলনে আলেম-উলামা ও কওমি মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষকদের ভূমিকা সর্বজনবিদিত। কিন্তু ক্ষমতার প্রশ্নে, ইতিহাসের বয়ান তৈরিতে, রাজনৈতিক নথিপত্রে আলেম-উলামারা অচ্ছুৎ।

অর্থাৎ আন্দোলন-সংগ্রাম করে মাঠ তৈরিতে ভূমিকা রাখবে, জে*ল-জু*লুম-হু*লিয়া সহ্য করবে, র*ক্ত ঝরাবে, মৃ*ত্যুকে আলিঙ্গন করবে। কিন্তু ক্ষমতা ভোগ এবং সুসময়ে তাদের ডাকা হবে না। ভাগ দেওয়া হবে না কোনো সুযোগ-সুবিধার। নিজর দলের নেতৃস্থানীয় থেকে শুরু করে সহযোগী কিংবা জোটভূক্ত বড় দলগুলোরও একই আচরণ। 

প্রশ্ন হলো, এভাবে বারবার কেন বঞ্চিত হতে হয়?

ঘুরে ফিরে বঞ্চনার ইতিহাস একই ধরনের কেন?

রাজনীতির কোন জায়গায় আমরা ব্যর্থ হচ্ছি?

অনেক উত্তর রয়েছে এসব প্রশ্নের। কিন্তু সহজ উত্তর হলো, সরল আচরণ। দ্রুত নেতাদের বিশ্বাস করা। রাজনৈতিক আচার-আচরণে দর-কষাকষির প্রক্রিয়াকে ভিন্ন চোখে দেখা। দলীয় আলোচনাকে ব্যক্তিগত পরিসরে মিলিয়ে ফেলা। নিজেকে সর্বজ্ঞানী কিংবা সর্বেসর্বা মনে করা।

আরেকটি বিষয় হলো-রাজনীতির ক্ষেত্রে চরম অবস্থান গ্রহণ করা। যা দলে এবং অন্যদের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসার সুযোগগুলো নষ্ট করে দেয়। ফলে রাজনীতিতে সবকিছু আবার নতুন করে শুরু করতে হয়। মাঝখান থেকে হারিয়ে যায় এক একটা প্রজন্ম। আর ইতিহাসে লেখা হয় আমাদের ব্যর্থতার খতিয়ান।

প্রত্যেকবার আন্দোলনের সময় কিংবা চূড়ান্ত সময়ে বলা হয়েছে কিংবা আশ্বস্ত করা হয়েছে, কিন্তু প্রতারণার জাল থেকে মুক্তি মেলেনি। ব্যর্থতার সময় আমাদের নেতারা নিচু সারির কর্মীদের সঙ্গে মন খুলে কথা বলেন না। নিজেদের বলয় ভেঙে আলোচনা করেন না। ফলে অভিমান ও হতাশা থেকে কর্মীরা হাতগুটিয়ে ফেলে, আবার নেতৃস্থানীয়রা বিভেদে জড়িয়ে নতুন নতুন দল বানান, আলাদা পথে চলা শুরু করেন। এমতাবস্থায় তারা শুধু সেটাই শুনতে পছন্দ করে, যা তারা শুনতে চায়। অনেক সময় তারা ইচ্ছাকৃতভাবেই এটা করে, যাতে মূল ও কঠিন সমস্যাগুলো এড়িয়ে গিয়ে একে অপরের কথার মাঝপথে থাকতে পারে। এই গ্যাপেই আলেমদের রাজনীতি নাই হয়ে যায়। হিসাব মিলিয়ে দেখুন, কথা মিলবে।

রাজনীতিতে এটা বেশি জরুরি, আপনি যা বলতে চান- তা স্পষ্ট করে বলবেন এবং যেটা বলবেন সেটা কার্যকর করবেন। এটাই কর্মী এবং অন্যদলগুলোর সঙ্গে আস্থা অর্জনের একমাত্র পথ।

আরেকটি কথা, আমাদের নেতাদের কেউ নতুন কর্মী বানানোর কাজে মনোযোগ দেন না। কিন্তু তাদের আবেগ নিয়ে খেলতে পছন্দ করেন। বিপদের সময় তাদের পাশে দাঁড়ান না। রাজনৈতিক প্রস্তাব ও আলাপ-আলোচনাকে বাঁকা চোখে দেখেন। এমনসব কারণে আমাদের রাজনীতি সেই অর্থে সফলতার মুখ দেখে না। ফলে প্রত্যেকটা সফল আন্দোলন শেষে গভীর অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা হয় আমাদের নিত্যসঙ্গী। এই অবস্থা কবে কাটবে- আল্লাহই ভালো জানেন।

লেখক: সিনিয়র আলেম সাংবাদিক ও বিশ্লেষক

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ