রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ।। ৯ কার্তিক ১৪৩৩ ।। ১৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ ঘনীভূত, ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের শঙ্কায় ভারতের উপকূলে সতর্কতা  প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরসঙ্গী হচ্ছেন হেফাজত নেতা মাওলানা ইসলামাবাদী মসজিদে নববীতে রওজা জিয়ারত: প্রবেশের আদব, সালাম ও দোয়ার পদ্ধতি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই হবে আগামী নির্বাচন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হাম উপসর্গে প্রাণ গেল ৫ শিশুর  ওযু ছাড়া ছোট শিশুদের কুরআন স্পর্শে বাধা নেই, কী বলছে ফিকহ? ১ নভেম্বর খুলছে সেন্টমার্টিন, পর্যটক ভ্রমণে বাড়ছে আগ্রহ সৌদিতে এক সপ্তাহে গ্রেপ্তার প্রায় ১৪ হাজার প্রবাসী বাবুই সেরা লেখক সম্মাননা পেলেন কবি মুনীরুল ইসলাম  জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের ১০১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা

ডিভোর্সি ও বিধবাদের বিয়ের প্রচলন সহজ হোক


নিউজ ডেস্ক

নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

|| আবুল ফাতাহ কাসেমী ||

সাহাবীদের সময়ে একটা সুন্দর সিস্টেম ছিল। সাহাবারা কোনো নারীকে একা ফেলে রাখতেন না। সে বিধবা হোক, তালাকপ্রাপ্তা হোক, তার আবার বিয়ে হত।

আমরা দেখি, আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যুগে কোনো কোনো সাহাবিয়াতের তিন-চার-পাঁচবারও বিয়ে হয়েছে! কিন্তু আমাদের বর্তমান সময়ে একজন মেয়ের এতবার বিয়ের কথা ভাবাই যায় না। ৪/৫ বার তো দূরের কথা ২য় বার বিয়েতেই কত সমস্যা।

আবু বকর, উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুম, উনাদের মত সেরা সেরা সাহাবীরাও তালাক দিয়েছেন, একাধিক বিয়ে করেছেন। তাদের তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীদের আবার অন্য সাহাবীরা বিয়ে করে নিয়েছেন।

কেউ এমন ভাবেনি, ‘নিশ্চয়ই অমুক মেয়ের দোষ আছে, নইলে কি আবু বকর-উমারের মত মানুষ তাকে তালাক দেয়! এমন মেয়েকে কে বিয়ে করে!’ বরং তারা মানুষকে মানুষ-ই মনে করতেন, ফেরেশতা মনে করতেন না।

মানুষের কিছু চাহিদা বাবা-মা-ভাই-বোন-সন্তান-সন্ততি দ্বারা পুরো করা যায় না। একজন সঙ্গী লাগে। যে বিধবা তারও একজন সঙ্গীর প্রয়োজন। যে তালাকপ্রাপ্ত তারও একজন সঙ্গী দরকার। সাহাবীদের আমলে কেউ কোনো নারীকে একাকী নিঃসঙ্গ পড়ে থাকত না। মায়ের বয়সী হোক, দাদীর বয়সী হোক, তার আগে বাচ্চাকাচ্চা থাকুক- সব রকম নারীকেই বিয়ে করে নেওয়া হত।

আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে ইসলাম দান করেছেন যেন আমাদের জীবনগুলো সুন্দর হয়, শান্তির হয়। একাকী পড়ে থাকার মত অসহনীয় জীবন আর কিছু নেই। তাই আল্লাহ তায়ালা বিয়ের বিধান দিয়েছেন।

বিয়ের সময় কম-বয়সী, কুমারী নারীকে বিয়ে করতে কোনো বাধা নেই। কিন্তু সমাজের সার্বিক দিকের কথা চিন্তা করে বিধবা এবং তালাক-প্রাপ্ত, গরীব, অসহায় বোনদেরও তো কাউকে না কাউকে অন্তত আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য বিয়ে করা উচিৎ।

স্বয়ং আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রথম স্ত্রী খাদিজা রাদিয়াল্লাহ তায়ালা আনহা তাঁর চেয়ে বয়সে বড় ছিলেন। দুই/এক বছরের না, বেশ কয়েক বছরের বড়। এমনকি তাঁর আগে একাধিক বিয়েও হয়েছিল। অর্থাৎ তিনি কুমারী ছিলেন না। কাজেই পূর্ব বিবাহিত পাত্রীকে বিয়ের ব্যাপারে কোন ধরনের অস্বস্তিবোধের জায়গা ইসলাম দেয় না।

আমরা আসলেই গোঁড়া। একবিংশ শতাব্দীতে এসেও আমরা সাহাবীদের মত উন্নত মানসিকতা ধারণ করতে পারি না। সাহাবী-সাহাবিয়াতরা সব ক্ষেত্রেই সর্বোত্তম দৃষ্টান্ত রাখতে পেরেছিলেন।

কেএল/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ