বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ।। ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮


কৃষিকে লাভজনক খাতে রূপান্তরের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, কৃষি বিজ্ঞানীরা যথাযথ সুযোগ-সুবিধা না পেলে মেধাবী শিক্ষার্থীদের এ পেশায় আকৃষ্ট করা কঠিন হবে। কৃষি বিজ্ঞানীদের পেনশন-সংক্রান্ত বিধিমালা পরিবর্তনের উদ্যোগ নিতে তিনি কৃষিমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের কৃষিকে একটি লাভজনক খাতে পরিণত করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। 

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিএআরআই উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও পুষ্টি নিরাপত্তায় বিএআরআই-এর অবদান, বর্তমান অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা শীর্ষক উপস্থাপনা ও মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বাংলাদেশের কৃষি এখন আর লাভজনক কোনো খাত নয়। কৃষিকাজ করে পর্যাপ্ত আয় না হওয়ায় শ্রমিকরা এ পেশা ছেড়ে যাচ্ছেন। এ কারণে এখন মাঠে কাজ করার জন্য কৃষক পাওয়া যায় না। তাই এই খাতকে লাভজনক করতে করতে হবে। এ সময় তিনি কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রযুক্তির সম্প্রসারণ, কৃষকদের প্রণোদনা বৃদ্ধি এবং কৃষি গবেষকদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, কৃষিপণ্যের উৎপাদন বাড়লেও যথাযথ সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের অভাবে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে কৃষিপণ্য সংরক্ষণ প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, উত্তরাঞ্চলে প্রচুর আলু উৎপাদিত হলেও ওই অঞ্চলের কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পান না। অনেক সময় তারা আলু রাস্তায় ফেলে দিতে বাধ্য হন, অথচ পরবর্তী সময়ে বীজ আলুর দাম বেড়ে যায়। একইভাবে উৎপাদনস্থল থেকে ঢাকায় পৌঁছানোর পর আলুর দাম অনেক বেড়ে যায়। অন্যান্য সবজির ক্ষেত্রেও এ সমস্যা রয়েছে। 

তিনি বলেন- শুধু আলু নয়, টমেটোসহ অন্যান্য সবজি ও ফলমূল দীর্ঘদিন সংরক্ষণের উপযোগী কোল্ড স্টোরেজ এবং আধুনিক প্রযুক্তির সম্প্রসারণ প্রয়োজন।

এ সময় রাষ্ট্রপতি পেঁয়াজ উৎপাদনে গবেষকদের সাফল্যের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, একসময় পেঁয়াজ আমদানিতে বিপুল অর্থ ব্যয় হতো। বর্তমানে আমদানির প্রয়োজন না হওয়ার বিষয়টি ইতিবাচক। তিনি ফলের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কৃষি উন্নয়নে অবদানের কথা স্মরণ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, খাল খনন কর্মসূচি ও উচ্চফলনশীল ধানের বীজ সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের কৃষিখাতে পরিবর্তন এনেছিলেন। 

তিনি মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা, কৃষিবিদ ও কৃষি বিজ্ঞানীদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং আহতদের সুস্থতা কামনা করেন। 

এর আগে রাষ্ট্রপতি বিএআরআই-এর প্রধান কার্যালয়ের সামনে এসে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, স্থানীয় সংসদ সদস্য এম মঞ্জুরুল করিম রনি, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার, গাজীপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক চৌধুরী ইশরাক আহমেদ সিদ্দিকী, গাজীপুর মেট্রো পুলিশ কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া, গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দিন প্রমুখ। 

রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের ‘বারি জিন ব্যাংক’ পরিদর্শন, বৃক্ষ রোপণ এবং বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রযুক্তি প্রদর্শনীর স্টলসমূহ ঘুরে দেখেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বারি’র মহাপরিচালক ড. মো. মঞ্জুরুল কাদির। নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও পুষ্টি নিরাপত্তায় বিএআরআই এর অবদান, বর্তমান অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিষয়ক তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপনা করেন বারি’র পরিচালক (সেবা ও সরবরাহ) ড. মো. মোশাররফ হোসেন মোল্লা। 

আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) এর মহাপরিচালক ড. মো. রফিকুল ইসলামসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, কৃষি বিজ্ঞানী, বারি’র বিভিন্ন কেন্দ্র/বিভাগ/শাখার সিনিয়র বিজ্ঞানী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

এসএইচ/ 


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ