শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬ ।। ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮


‘রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালির সঙ্গে সাম্প্রদায়িকতার সম্পর্ক কী?’

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে কালি মাখানোর ঘটনাকে সাম্প্রদায়িকতার সঙ্গে যুক্ত করার যৌক্তিকতা নেই বলে মন্তব্য করেছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী। তিনি বলেছেন, যারা গ্রাফিতিতে কালি মাখিয়েছেন, তারা আধিপত্যবাদবিরোধী অবস্থান থেকে প্রতিবাদস্বরূপ কাজটি করেছেন বলে তারা মনে করেন।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের মাধ্যমে পূর্ববাংলার অবহেলিত মুসলমানদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ঐতিহাসিক সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল। সেই বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতার প্রেক্ষাপটে ‘আমার সোনার বাংলা’ গান রচনা করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তাঁর গ্রাফিতিতে কালি মাখানোর প্রতিবাদকে সাম্প্রদায়িকতার সঙ্গে মেলানোর কোনো যৌক্তিকতা নেই।

তিনি বলেন, রবীন্দ্রনাথ কোনো ধর্মের অবতার বা দেবতা নন। তাই তাঁর সমালোচনা করলেই তা সাম্প্রদায়িকতা হয়ে যায় না। তাঁর মতে, রবীন্দ্রনাথকে আধিপত্যবাদের সাংস্কৃতিক প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করে সমালোচনা করা হলে সেটিকে ধর্মবিদ্বেষের আলোচনায় নিয়ে আসা সমালোচনার জবাব এড়িয়ে যাওয়ার কৌশল।

বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশের মুসলমানদের ওপর হিন্দুত্ববাদী সাংস্কৃতিক আধিপত্য বজায় রাখতে সাংস্কৃতিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘রবীন্দ্রবাদ’ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হয়েছে। তাঁর দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ ১৭ বছরের শাসনামলে এ ধরনের সাংস্কৃতিক অবস্থান রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সরকারের পতনের পরও বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে এ ধারার প্রভাব রয়ে গেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

শিল্পকলা একাডেমির তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশের জাতীয় ব্যক্তিত্বদের চেয়ে আধিপত্যবাদের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের গ্রাফিতিতে অগ্রাধিকার দেওয়ার মাধ্যমে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, স্বাধীন বাংলাদেশে এ দেশের মানুষ আধিপত্যবাদের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত কারও ‘প্রজা’ নয়; এ ধরনের আধিপত্যের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো জনগণের রাজনৈতিক দায়িত্ব।

রবীন্দ্রনাথের ধর্মীয় ও সাহিত্যিক অবস্থান নিয়েও সমালোচনা করেন মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী। তিনি বলেন, ব্রাহ্মধর্মের অনুসারী হিসেবে পরিচিত হলেও রবীন্দ্রনাথের ধর্মাচার ও রচনায় হিন্দুধর্মের প্রভাব ছিল। তাঁর মতে, রবীন্দ্রনাথকে ধর্মনিরপেক্ষতার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে উগ্র বাঙালি জাতীয়তাবাদের সাংস্কৃতিক আইকন বানানোর চেষ্টা একটি পুরোনো আধিপত্যবাদী রাজনৈতিক প্রকল্প।

বিবৃতিতে তিনি আরও দাবি করেন, রবীন্দ্রনাথ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সাহিত্যচিন্তায় প্রভাবিত ছিলেন এবং তাঁর কিছু রচনায় মুসলমানদের অবমাননাকর শব্দে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া ১৯০৪ সালে বঙ্গভঙ্গবিরোধী আন্দোলনের প্রাক্কালে রচিত ‘শিবাজী উৎসব’ কবিতায় উগ্র হিন্দু জাতীয়তাবাদী ভাবনার প্রকাশ ঘটেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

রবীন্দ্রনাথের জমিদারি কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, পূর্ববাংলার মুসলিম কৃষকদের শোষণ করে তিনি অন্যত্র সম্পদ গড়ে তুলেছিলেন এবং এ অঞ্চলের দরিদ্র মুসলমানদের উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেননি।

এসএইচ/ 


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ