শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬ ।। ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮


হাটহাজারীতে আলেম ও তাঁর শাশুড়িকে নিয়ে অভিযোগ ভিত্তিহীন: আল-হাইআতুল উলয়া

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে এক মাওলানা ও তাঁর শাশুড়িকে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে আটকে রেখে ভিডিও ধারণ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে কওমি মাদরাসাসমূহের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশ। সংগঠনটি জানিয়েছে, পুলিশের তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে ভিডিও ধারণ ও প্রচারে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে তারা।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সংগঠনটির অফিস ব্যবস্থাপক মাওলানা মু. অছিউর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এসব কথা বলা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, গত কয়েক দিন ধরে ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কয়েকটি অনলাইন গণমাধ্যমে ওই মাওলানা ও তাঁর শাশুড়িকে নিয়ে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে বোরকা পরিহিত এক মধ্যবয়সী নারী ও পাঞ্জাবি পরা এক যুবককে একটি কক্ষে আটকে রেখে কয়েকজন আনসার সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে দেখা যায়। এ সময় তাঁদের বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ তোলা হয়।

আল-হাইআতুল উলয়ার বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, গত ১১ অক্টোবর চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ঘটে যাওয়া কথিত ঘটনার সত্যতা যাচাই করে হাটহাজারী থানা পুলিশ। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার তিন দিন পর ১৪ অক্টোবর পুলিশ জানায়, তদন্তে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কোনো ভিডিও ফুটেজও পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক আনসার সদস্য পুলিশের তদন্তকারী দল ও গণমাধ্যমের সামনে নিজের বক্তব্য দিয়েছেন। তাঁর দাবি, ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তিনি এক নারী ও এক পুরুষকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন। এক ব্যক্তি তাঁদের সেখানে নিয়ে এসে ঘটনাটি অতিরঞ্জিত করে বর্ণনা করেছিলেন। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে তিনি ভিডিও ধারণ করেন বলেও জানান ওই আনসার সদস্য।

ওই সদস্যের ভাষ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যার পর তাঁর মুঠোফোন থেকে ভুলবশত ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট হয়ে যায়। পরে সেটি ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনার জন্য তিনি সবার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। ভিডিও ধারণ ও প্রচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরাও পরবর্তী সময়ে প্রকাশ্য ভিডিও বক্তব্যে ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

আল-হাইআতুল উলয়া বলেছে, বিনা প্রমাণে একজন আলেম ও একজন নারীকে আটকে রেখে ভিডিও ধারণ, জিজ্ঞাসাবাদ এবং তা প্রচার করা আইনবিরুদ্ধ ও শরিয়তবিরোধী। এ ঘটনায় ওই মাওলানা, তাঁর শাশুড়ি ও তাঁদের পরিবার মানসিক যন্ত্রণা এবং সামাজিক হেনস্তার শিকার হয়েছেন। এর দায় ভিডিও ধারণ ও প্রচারকারীদের নিতে হবে।

এ ছাড়া যাচাই-বাছাই ছাড়া ভিডিওটি শেয়ার করা এবং মন্তব্যের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চরিত্রহননে জড়িতদের পোস্ট ও মন্তব্য মুছে ফেলে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

 

ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে স্থানীয় আলেম সমাজ এবং আল-হাইআতুল উলয়ার অধীন বোর্ডগুলোর থানা কমিটিকে যেকোনো অভিযোগের সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত তথ্য যাচাই করে জনসমক্ষে তুলে ধরায় সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদও জানিয়েছে সংগঠনটি।

বিবৃতিতে সংশ্লিষ্ট সব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে ভিডিও এবং এ-সংক্রান্ত পোস্ট সরিয়ে ফেলার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি ভিডিও ধারণ ও প্রচারে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, সংশ্লিষ্ট আনসার সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া, ভিডিও প্রচারকারী গণমাধ্যমগুলোতে তদন্তের ফলাফল ও সংশোধনী সমান গুরুত্বে প্রকাশ এবং ভুক্তভোগী পরিবারের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।

বিবৃতির শেষে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে আল-হাইআতুল উলয়া বলেছে, কোনো তথ্য বা ভিডিওর সত্যতা যাচাই না করে তা বিশ্বাস, শেয়ার কিংবা এ নিয়ে মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকতে হবে। বিশেষ করে আলেম-ওলামা ও নারীদের বিরুদ্ধে প্রমাণ ছাড়া হেনস্তা ও চরিত্রহননের ঘটনা প্রতিরোধে প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

আরএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ