শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬ ।। ৩১ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
ইসলামি শ্রমনীতি ও শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে হবে: গাজী আতাউর রহমান ৩০ পেরিয়েছেন? সুস্থ থাকতে গড়ে তুলুন ৭ অভ্যাস জমজমের বরকতে দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার এক বিস্ময়কর অভিজ্ঞতা দেশমাতৃকা উলামায়ে কেরামের নির্দেশনার অপেক্ষায় আছে: মুফতি আবুল হাসান এমপি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হাফেজদের মধ্যে ব্রেইল কুরআন ও সাদাছড়ি বিতরণ দেশে ফিরেছেন সৌদি আরবে আটকে পড়া ৫০ ওমরাহযাত্রী মাওলানা নূরুল হক রহ.-এর কবর জিয়ারত করলেন খেলাফত মজলিস আমির ঢাবির গবেষকদের ‘স্মার্ট ফাঁদে’ শনাক্ত হবে এডিস মশার বিস্তার দুর্নীতির বিরুদ্ধে তরুণদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান ডেপুটি স্পিকারের ভারত থেকে কেনা ২০০ রেলকোচের প্রথম ১৮টি দেশে পৌঁছেছে

বিয়ে নিবন্ধনে আসছে নতুন নিয়ম

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: ফাইল ছবি

বিয়ে ও তালাক নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ ও স্বচ্ছ করতে অনলাইনভিত্তিক নিবন্ধন ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বিবাহের তথ্য গোপন করে পুনরায় বিয়ে, বাল্যবিবাহ ও অননুমোদিত বহুবিবাহের মতো অনিয়ম প্রতিরোধ করা সহজ হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে (বিএলসি) ‘অনলাইনে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনে সফটওয়্যারের ব্যবহারবিধি এবং প্রাসঙ্গিক বিষয়াদি’ শীর্ষক ১০ দিনব্যাপী আবাসিক প্রশিক্ষণের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বৈবাহিক সম্পর্কের তথ্য সমন্বিত ডাটাবেজে সংরক্ষিত থাকায় দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে, এমনকি বিদেশ থেকেও, প্রয়োজনীয় তথ্য দ্রুত যাচাই করা সম্ভব হবে।

আইনমন্ত্রী বলেন, এই ব্যবস্থার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো দেশের মানুষের বৈবাহিক সম্পর্কের তথ্য একটি নির্ভরযোগ্য ও সমন্বিত ডাটাবেজে সংরক্ষণ করা। এর ফলে প্রতিবছর কতটি বিবাহ হচ্ছে, বাল্যবিবাহের ঘটনা ঘটছে কিনা এবং বিবাহ-সংক্রান্ত আইন যথাযথভাবে কার্যকর হচ্ছে কিনা এসব বিষয় পর্যবেক্ষণ ও যাচাই সহজ হবে। তিনি বলেন, অনলাইনে বিবাহ নিবন্ধন চালু হলে কোনো ব্যক্তি আগে বিবাহ করেছেন কিনা, করলে কতটি বিবাহ করেছেন এবং নতুন বিবাহের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আরবিট্রেশন কাউন্সিলের পূর্বানুমতি নেওয়া হয়েছে কিনা- এসব তথ্য যাচাই করা যাবে। ফলে তথ্য গোপন করে বিবাহ, গোপন বিবাহ এবং পরবর্তীতে বিবাহ অস্বীকারের সুযোগ কমবে। একজন নারী বা পুরুষও সম্ভাব্য জীবনসঙ্গীর পূর্ববর্তী বিবাহের তথ্য জেনে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। এতে সামগ্রিকভাবে বহুবিবাহের প্রবণতা কমবে।

তিনি বলেন, বৈবাহিক তথ্য সংরক্ষিত থাকলে ভবিষ্যতে কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার স্ত্রী বা সন্তান হিসেবে একাধিক ব্যক্তি দাবি করলেও নিবন্ধিত তথ্যের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য যাচাই করা সম্ভব হবে। এতে এ ধরনের বিরোধ ও মামলা-মোকদ্দমার সম্ভাবনা কমবে। বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রেও বৈবাহিক সম্পর্কের তথ্য যাচাইয়ের প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অনলাইনে নিবন্ধিত তথ্য যাচাই করতে পারবে। ফলে প্রচলিত পদ্ধতিতে বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগের প্রয়োজনও কমবে।

পর্যায়ক্রমে বিবাহ নিবন্ধনের তথ্য জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন ও পাসপোর্টসহ অন্যান্য সরকারি তথ্যভান্ডারের সঙ্গে আন্তঃসংযোগের আওতায় আনার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সরকারি তথ্যব্যবস্থাগুলো সমন্বিত ও আন্তঃসংযুক্ত হলে নাগরিকের পরিচয় ও সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই আরও দ্রুত ও কার্যকর হবে। বিশ্ব দ্রুত তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশেরও এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।

‘সিভিল রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড ভাইটাল স্ট্যাটিসটিক্স : বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের আইসিটি অবকাঠামো উন্নয়ন’ শীর্ষক পাইলট প্রকল্পের আওতায় এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। এতে ৫টি জেলার ২৭ জন বিবাহ ও তালাক নিবন্ধক (নিকাহ রেজিস্ট্রার) অংশগ্রহণ করছেন। প্রশিক্ষণে অনলাইনে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন সফটওয়্যার ব্যবহারের পদ্ধতি, নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনা, তথ্য সংরক্ষণসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ব্যবহারিক ধারণা দেওয়া হচ্ছে।

নিকাহ রেজিস্ট্রারদের উদ্দেশে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, তারা সমাজে একটি সম্মানজনক ও মর্যাদাপূর্ণ পেশার সঙ্গে যুক্ত। অনলাইনে নিবন্ধন ব্যবস্থা চালুর ক্ষেত্রে তাদের দক্ষতা ও প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ। প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা নিজে দক্ষ হওয়ার পাশাপাশি নিজ নিজ এলাকার অন্যান্য নিকাহ রেজিস্ট্রারদেরও প্রস্তুত করবেন। পর্যায়ক্রমে দেশের সব নিকাহ রেজিস্ট্রারকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে।

তিনি আরও বলেন, সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে প্রাথমিকভাবে ঢাকা জেলার সাব-রেজিস্ট্রারদের পদায়নে লটারি ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিয়মনীতি অনুসরণ করে লটারির মাধ্যমে পদায়ন করা হলে দীর্ঘদিন একই স্থানে দায়িত্ব পালন এবং পদায়ন নিয়ে তদবিরের সুযোগ কমবে। নিকাহ রেজিস্ট্রারদের বিষয়েও যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তাদের উত্তরসূরিরা যাতে এই পেশায় আসার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাওয়ার সুযোগ পান, সে লক্ষ্যে যুগোপযোগী আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত সচিব মো. খাদেম উল কায়েস ও এসএম এরশাদুল আলম, বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মঞ্জুরুল হোসেন, নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক শামীমা আফরোজ, প্রকল্প পরিচালক মো. আজিজুল হক, ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচির পরিচালক শ্বাশ্বতী বিপ্লবসহ আইন ও বিচার বিভাগ এবং ব্র্যাকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এসএইচ/ 


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ