ভারতের গুজরাট রাজ্যের সুরাটে একটি মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় বুলডোজার চালিয়ে ১০৬টি বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় পৌরসভার অনুমতি বা পূর্ব নোটিশ ছাড়াই এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
শুক্রবার (১২ জুন) ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, সুরাটের নাসির নগর এলাকায় অবস্থিত অন্তত ১০৬টি মুসলিম পরিবারের বসতবাড়ি বুলডোজার দিয়ে ধ্বংস করা হয়। ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের অভিযোগ, কোনো ধরনের পূর্ব সতর্কতা বা উচ্ছেদের নোটিশ ছাড়াই হঠাৎ করেই এই অভিযান চালানো হয়।
ঘটনার পর স্থানীয় পৌরসভা দাবি করেছে, তাদের নির্দেশে এই বুলডোজার অভিযান পরিচালিত হয়নি এবং এ ধরনের কোনো উচ্ছেদ কার্যক্রমের জন্য তারা কোনো নোটিশও জারি করেনি।
আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, দীর্ঘ সময় ধরে ধ্বংসযজ্ঞ চললেও ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করেননি। তবে এ বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য ভিন্ন। তাদের দাবি, পৌরসভার পক্ষ থেকে ফোনের মাধ্যমে বুলডোজার অভিযান পরিচালনার তথ্য জানানো হয়েছিল। ফলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ বাহিনী সেখানে মোতায়েন করা হয়।
ঘরহারা পরিবারগুলো গুজরাট হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়ে অবিলম্বে বিকল্প আশ্রয়, বিদ্যুৎ ও পানীয় পানির ব্যবস্থা করার আবেদন জানিয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার জন্য পৌরসভাকে নির্দেশ দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।
এছাড়া বিনা নোটিশে পরিচালিত এই উচ্ছেদ অভিযান এবং এতে জড়িত তৃতীয় পক্ষের সংশ্লিষ্টতা তদন্তে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট পৌর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের দাবিও জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
জেডএম/
