রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬ ।। ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ ।। ১২ সফর ১৪৪৮

শিরোনাম :
আদালতের রায়ে রক্ষা পেল সাহারানপুরের শতবর্ষী ঐতিহাসিক মসজিদ ভারতের নতুন শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বে প্রহ্লাদ যোশী ভিসা আবেদনে নতুন নির্দেশনা মার্কিন দূতাবাসের আসামে ভয়াবহ বন্যা, হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সবার পাশে মাওলানা বদরুদ্দিন আজমল কুবিতে শায়খে চরমোনাই, জুলাই শহীদদের স্মরণে দোয়া লন্ডনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের শিক্ষা সফর জুলাই অভ্যুত্থানে ইসলামী আন্দোলনই ছিল সক্রিয়: পীর সাহেব চরমোনাই মসজিদে নববীর কুরআন শিক্ষক শায়খ কারিম হাসুনার ইন্তেকাল আয়া সোফিয়ায় পুনরায় নামাজ শুরুর ছয় বছর পূর্তিতে এরদোগানের বার্তা ইসলামী আন্দোলন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মারুফ, সেক্রেটারি শরীয়াতুল্লাহ

ধামতী ইসলামিয়া কামিল মাদরাসার সাবেক শায়খুল হাদিসের ইন্তেকাল

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

কুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী দীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ধামতী ইসলামিয়া কামিল মাদরাসার সাবেক শায়খুল হাদিস আল্লামা ফজলুল করিম (৮৬) ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১টায় মরহুমের নিজ বাড়ি চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলাধীন আশরাফপুর গ্রামে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

মৃত্যুকালে তিনি ৫ পুত্র ও ২ কন্যা সন্তানসহ বহু আত্মীয় স্বজন, ভক্ত ও অসংখ্য ছাত্র রেখে গেছেন। বড় ছেলে মাওলানা আবু নছর আশরাফী হাজীগঞ্জ আহমদীয়া কামিল মাদরাসার হেড মুহাদ্দিস এবং দেশবরেণ্য আলিম ও জনপ্রিয় মুফাসসিরে কুরআন।

আল্লামা ফজলুল করীম কর্মজীবনে ১৯৬৩ সালে ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়িয়া ফাজিল মাদরাসার উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগ লাভ করেন। অল্প সময়েই অসাধারণ যোগ্যতাবলে যথেষ্ট সুনাম ও সুখ্যাতি অর্জন করেন। ১৯৬৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইল দারুল উলুম কামিল মাদরাসায় মুহাদ্দিস হিসাবে যোগদান করেন। অতঃপর ১৯৬৭ সালে সিলেটের সৎপুর কামিল মাদরাসায় হেড মুহাদ্দিস হিসেবে যোগদান করেন। সেখানে তিনি টানা সাড়ে নয় বছর হাদিস শাস্ত্রের পাঠদান করেন।

১৯৭৬ সালে কুমিল্লার ধামতী ইসলামিয়া কামিল মাদরাসায় হেড মুহাদ্দিস হিসেবে গমন করেন। সাড়ে সাতাশ বছর জনপ্রিয় শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। যার ফলে ধামতী মাদরাসার সুনাম সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মেধাবী ছাত্ররা ধামতী মাদরাসায় ভর্তি হতে শুরু করে। ধামতী মাদরাসা প্রতি বছর কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় গোটা দেশের মধ্যে শ্রেষ্ঠ স্থান অধিকার করতে থাকে। অবশেষে তিনি ধামতী মাদরাসা থেকে ২০০৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অবসর গ্রহণ করেন। যোগ্য ও দক্ষ আলিম তৈরি করার লক্ষ্যে কঠোর পরিশ্রম করেন।

দীর্ঘ ৪১ বছরের শিক্ষকতার জীবনে বহু যোগ্য আলিম তৈরি করতে সক্ষম হন। তাঁর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশ-বিদেশের স্কুল-কলেজ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদরাসায় তাঁর অগণিত শিক্ষার্থী বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাইরেও সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরে একাধিক পদে নিয়োজিত তার হাতেগড়া শিক্ষার্থীরা। ছাত্রজীবন থেকেই ইমান ও আকিদার প্রশ্নে তিনি ছিলেন আপসহীন। কোথাও ইসলাম বহির্ভূত কর্মকাণ্ড দেখলেই সাথে সাথে জোর প্রতিবাদ করতেন। শিরক-বিদয়াতের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর এবং সোচ্চার ছিলেন।

লেখালেখিতেও তাঁর সবিশেষ অবদান ছিল। জনসাধারণের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত শিরক-বিদয়াত ও কুসংস্কার দূর করতে রচনা করেন অনেক গ্রন্থ। তিন খণ্ডে রচিত 'বিদয়াত পরিচিতি ও বিদয়াতের পরিণতি' তারমধ্যে অন্যতম।

আজ শুক্রবার দুপুর ৩টায় চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলাধীন আশরাফপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে মরহুমের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

এনএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ