রবিবার, ২৪ মে ২০২৬ ।। ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ৭ জিলহজ ১৪৪৭


রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে প্রাণ গেল ২ বাংলাদেশির


নিউজ ডেস্ক

নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

রাশিয়ায় ভালো চাকরির আশায় গিয়ে যুদ্ধে জড়িয়ে প্রাণ হারিয়েছেন আরও দুই বাংলাদেশি যুবক। এ নিয়ে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রুশ বাহিনীর হয়ে যুদ্ধে জড়িয়ে নিহত বাংলাদেশির সংখ্যা দাঁড়ালো অন্তত ৩৯ জনে।

নিহতরা হলেন মাদারীপুরের সুরুজ কাজী (৩৫) এবং কিশোরগঞ্জের জাহাঙ্গীর হোসেন (২৪)। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিও বার্তায় কুমিল্লার ইউসুফ খান নামের আরেক বাংলাদেশির মৃত্যুর খবরও জানা গেছে।

নিহত সুরুজ কাজীর বাড়ি মাদারীপুর সদর উপজেলার দক্ষিণ খাগড়াছড়া এলাকায়। পরিবারের সদস্যরা জানান, উন্নত জীবনের আশায় তিনি রাশিয়ায় গিয়েছিলেন।

কিন্তু যুদ্ধের ময়দান থেকেই আসে তার মৃত্যুর খবর। বুধবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া।

সুরুজ ছিলেন তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে সবার বড়। শোকে ভেঙে পড়া বাবা শাহাবুদ্দিন কাজী বলেন, ছেলেটা ভালো থাকার আশায় বিদেশে গেল, এখন সব শেষ হয়ে গেল। অন্তত শেষবারের মতো ছেলের মুখটা দেখতে চাই।

আরও হৃদয়বিদারক বিষয় হলো, মাত্র তিন মাস আগে ঠান্ডাজনিত রোগে মারা যায় সুরুজের দুই বছরের ছেলে। সন্তান হারানোর শোক কাটতে না কাটতেই এবার স্বামীকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তার স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার।

অন্যদিকে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার জয়কা ইউনিয়নের বাগপাড়া গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেনও কয়েকদিন আগে যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত হন বলে জানিয়েছে তার পরিবার। এর আগে চলতি মাসেই একই জেলার আরেক যুবক রিয়াদ রশিদ ড্রোন হামলায় নিহত হন।

এদিকে অভিযোগ উঠেছে, ভালো বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন রিক্রুটিং এজেন্সি ও দালাল চক্র বাংলাদেশি যুবকদের রাশিয়ায় পাঠাচ্ছে। সেখানে পৌঁছানোর পর অনেককে সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হচ্ছে।

গোপালগঞ্জের তিন যুবকের পরিবার অভিযোগ করেছে, নির্মাণ খাতে চাকরির আশ্বাস দিয়ে তাদের রাশিয়ায় নেওয়া হলেও পরে যুদ্ধ করতে বাধ্য করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগও করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় রাশিয়ায় অবস্থানরত এক বাংলাদেশি তরুণ দাবি করেন, চাকরির কথা বলে তাদের সাতজনকে নেওয়া হয়েছিল। পরে তাদের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের মধ্যে তিনজন ইতোমধ্যে মাইন ও ড্রোন বিস্ফোরণে নিহত হয়েছেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, একজনকে রাশিয়ায় পাঠাতে পারলে দালালরা বিপুল অঙ্কের অর্থ পায়। নাগরিকত্ব ও উচ্চ বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে অনলাইনের মাধ্যমে লোক সংগ্রহ করা হচ্ছে। তাদের একটি বড় অংশকে পরে যুদ্ধে অংশ নিতে বাধ্য করা হয়।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যুদ্ধের উদ্দেশ্যে যেন কেউ রাশিয়া বা ইউক্রেনে যেতে না পারে, সে বিষয়ে সরকার নজরদারি বাড়িয়েছে। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো এবং প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কাজ করছে বলে জানানো হয়েছে।

জেডএম/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ