সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ ।। ৩ রবিউস সানি ১৪৪৮

শিরোনাম :
‘আল্লাহর আইনের বিরুদ্ধে আইন করার এখতিয়ার কারো নেই’ ঢাকা-রংপুর লংমার্চ সফল করার আহ্বান বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নারায়ণগঞ্জে হেফাজতে ইসলামের জেলা ও মহানগর পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা সৌদির কিং খালিদ বিমান ঘাঁটিতে হুতিদের ভয়াবহ হামলা  শিল্পে গ্যাসের সরবরাহ দেড় মাস আগের অবস্থায় ফিরবে কাল থেকে: প্রধানমন্ত্রী ‘আদালতের রায়ের প্রতিবাদে হরতাল-ধর্মঘট নিষিদ্ধ জুলাই চেতনার পরিপন্থী’ ব্রিটিশ বাংলাদেশি মুসলিমদের প্রশংসা দ্য ইকোনমিস্টের ডেঙ্গুতে একদিনে ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১ হাজর ৭৩৩ ‘জনগণের অর্থে নির্মিত রাস্তা কেটে জনভোগান্তি সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না’  ‘মুমিনের অন্তরে নবীজির জীবনাদর্শের চেতনা সবসময় জাগ্রত রাখতে হবে’

শেষ অসুস্থতা ও বিদায়ের মুহূর্ত

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

আজকের সন্ধ্যাটা কেমন যেন মনে হচ্ছে। গুড়িগুড়ি বৃষ্টি পড়ছে। মনে হচ্ছে কোন বিরহে আকাশটা কাঁদছে। এর মধ্যেই গল্পের আসর বসেছে। উপস্থিত হয়েছে নাতি-নাতনিরা।

দাদা চেয়ার টেনে বসে বললেন, এসো দাদুভাইয়েরা, আজ আমি তোমাদের এমন একটি গল্প শোনাব, যে গল্প শুনলে মনটা ভারী হয়ে আসে। চোখের অশ্রু ঝরে। এটা আমাদের প্রিয়নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পৃথিবীর জীবনের শেষ দিনের গল্প।

দাদা বলতে শুরু করলেন- বিদায় হজ থেকে ফিরে আসার পর সবাই ভেবেছিল, এখন হয়তো শান্তির দিন আরও দীর্ঘ হবে। কিন্তু আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয় রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে নিজের কাছে ডেকে নেওয়ার সময় নির্ধারণ করে রেখেছিলেন।

একদিন হঠাৎ নবীজি অসুস্থ হয়ে পড়লেন। প্রথমে সাহাবিরা ভাবলেন, হয়তো সাধারণ জ্বর। কিন্তু দিন যত গেল, অসুস্থতাও তত বাড়তে লাগল।

দাদা বললেন, জানো দাদুভাইয়েরা, মানুষ যখন খুব অসুস্থ হয়, তখন সাধারণত নিজের কষ্ট নিয়েই ব্যস্ত থাকে। কিন্তু আমাদের নবীজি ছিলেন সবার থেকে আলাদা। তীব্র জ্বরের মধ্যেও তিনি বারবার সাহাবিদের উপদেশ দিতেন, 'নামাজের প্রতি যত্নবান হও।' তিনি আরও বলতেন, মানুষের হক নষ্ট করো না, একে অপরের প্রতি দয়া ও ন্যায়বিচার করো। নিজের কষ্টের চেয়ে উম্মতের ভবিষ্যৎই ছিল তাঁর সবচেয়ে বড় চিন্তা।

একদিন অসুস্থতা এতটাই বেড়ে গেল যে নবীজি আর মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়াতে পারলেন না। তখন তিনি বললেন, 'আবু বকরকে বলো, তিনি যেন মানুষের ইমামতি করেন।'

সাহাবিরা বুঝতে পারলেন, এটি শুধু নামাজের ইমামতি নয়; এর মধ্যে ভবিষ্যৎ নেতৃত্বেরও এক গভীর ইঙ্গিত রয়েছে। আবু বকর (রা.) অশ্রুসজল চোখে সেই দায়িত্ব পালন করতে লাগলেন।

তারপর এলো সেই স্মরণীয় সোমবার সকাল। নবীজি হুজরাখানা থেকে কিছুটা পর্দা সরিয়ে মসজিদের দিকে তাকালেন। সাহাবিরা তখন আবু বকর (রা.)-এর ইমামতিতে ফজরের নামাজ আদায় করছিলেন। সেই দৃশ্য দেখে তাঁর মুখে এক অপূর্ব হাসি ফুটে উঠল। যেন তিনি নিশ্চিন্ত হলেন— উম্মত নামাজে অটল আছে।

এরপর যোহরের আগে, কোন কোন ঐতিহাসিক লেখেছেনে যোহরের পরে তিনি আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে এই পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেন। "ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন"

দাদা বললেন, "দাদুভাইয়েরা জানো, সেই খবর ছড়িয়ে পড়তেই পুরো মদিনা যেন থমকে গেল। অনেক সাহাবি বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না যে, তাঁদের প্রিয়নবী আর তাঁদের মাঝে নেই। কেউ কাঁদছিলেন, কেউ বাকরুদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন।

এমন সময় আবু বকর (রা.) দৃঢ় কণ্ঠে মানুষকে বললেন, 'যে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ইবাদত করত, সে জেনে রাখুক— মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইন্তেকাল করেছেন। আর যে আল্লাহর ইবাদত করে, তিনি তো চিরঞ্জীব; তাঁর কখনো মৃত্যু নেই।'

এই কথাগুলো শুনে সাহাবিরা ধীরে ধীরে বাস্তবতা মেনে নিলেন এবং আবার আল্লাহর দিকে ফিরে দাঁড়ালেন।

এরপর নবীজিকে তাঁর প্রিয় স্ত্রী আয়িশা (রা.)-এর ঘরেই দাফন করা হলো। সেই স্থান আজও পৃথিবীর কোটি কোটি মুসলমানের হৃদয়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছে।

মনে রেখো দাদুভাইয়েরা, নবীজি আমাদের চোখের আড়ালে চলে গেছেন, কিন্তু তাঁর শিক্ষা, তাঁর আদর্শ, তাঁর ভালোবাসা আজও জীবন্ত। তাই তাঁর গল্পের শেষ মানে আসলে শেষ নয়। তাঁর দেখানো পথ ধরে চললেই আমরা তাঁকে সত্যিকারের ভালোবাসতে পারব। এই কারণেই আজও কোটি কোটি মানুষ তাঁর নাম শুনলে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় দরুদ পাঠ করে—

'আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদ।'

দাদা চোখে অশ্রু নিয়ে গল্প শেষ করলেন। নাতি-নাতনিদের চোখেও পানি। একজন বলল, দাদা গল্প কি এখানেই শেষ? দাদা বললেন, না। আগামীকালও গল্প হবে। তোমরা কিন্তু এসে পড়বে।

গল্পে গল্পে প্রিয় নবীজি (পর্ব: ২৮)

লেখক: আকিদুল ইসলাম সাদী

চলবে....

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ