বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬ ।। ১১ চৈত্র ১৪৩২ ।। ৭ শাওয়াল ১৪৪৭

শিরোনাম :
বেফাকে সানাবিয়ার ২৭ মেধাস্থানের ২৩টিই জামিআ রাব্বানিয়ায়, সাফল্যের রহস্য কী? জামিয়াতুল উস্তায শহীদুল্লাহ ফজলুল বারী রাহি. ঢাকায় ভর্তি ৭ ও ৮ শাওয়াল ‘নদওয়াতুল উলূম আশ-শরইয়্যাহ’য় ভর্তি শুরু আগামীকাল ‘স্বাধীনতাকে অর্থবহ করার জন্য রাষ্ট্রের পদ্ধতিগত সংস্কার জরুরী’ আল-হাইয়াতুল উলইয়া ও বেফাকে শীর্ষস্থান অর্জনকারী ‘ঢালকানগর মাদরাসা’র ভর্তি আগামীকাল ঢালকানগর মাদরাসার শাখা ‘জামিয়া আশরাফুল মাদারিস কমপ্লেক্স’-এ ভর্তি আগামীকাল মাদরাসাতুল মাদীনাহ বারিধারায় ভর্তি চলছে মাইজগাঁও দারুল উলূম ইসলামিয়া মাদরাসায় ভর্তি শনিবার, বিনা খরচে পড়াশোনার সুযোগ দৌলতদিয়ায় বাসডুবি, ৪০ জনের মতো প্রাণহানীর আশঙ্কা ‘স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও জনগণ বঞ্চিত, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করুন’

শাওয়াল যেভাবে বিয়ের মাস হলো

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

|| নূর মুহাম্মদ রাহমানী ||

জগতের সবকিছু মহান আল্লাহর সৃষ্টি। তার হুকুম ছাড়া গাছের একটি পাতারও নড়াচড়া করার যোগ্যতা নেই। দিন-রাত সবই তার সৃষ্টি। চান্দ্র ও সৌরবর্ষ তিনিই সৃষ্টি করেছেন। আর সৃষ্ট বস্তু স্রষ্টার অধীনে পরিচালিত হওয়াই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।

তাই এ মহান স্রষ্টা-ই সবকিছু পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করেন। কোরআনে স্পষ্ট বলা হয়েছে, নিশ্চয় মাসসমূহের গণনা আল্লাহর কাছে বার মাস আল্লাহর কিতাবে, (সেদিন থেকে) যেদিন তিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন। এর মধ্য থেকে চারটি সম্মানিত, এটাই প্রতিষ্ঠিত দীন। সুতরাং তোমরা এ মাসসমূহে নিজদের উপর কোন জুলুম করো না। (সুরা তওবা : ৩৬) আয়াতটি দ্বারা বুঝা যায়, চান্দ্র ও সৌরবর্ষ যেমন আল্লাহর সৃষ্টি ঠিক তেমনি সব মাসের বিধিবিধানও তারই সৃষ্টি। রাসুল (সা.)-এর মাধ্যমে কোরআন-সুন্নাহ দিয়ে সারা বছরের সব মাসের বিধিবিধান তিনি বয়ান করেছেন। এ বিধানগুলোতে বাড়ানো, কমানো এবং পরিবর্তন-পরিবর্ধন আল্লাহ ও তার রাসুলের সঙ্গে বিরোধিতার শামিল।

‎আমাদের কোনো কোনো সমাজে শাওয়াল মাসে বিয়ে করাকে যে অশুভ মনে করা হয়। এটাও একটা ভ্রান্ত চিন্তা এবং আল্লাহ ও রাসুলের বিরোধিতার শামিল। কারণ, কোনো মাসে বিয়ে অশুভ হওয়ার বিধান তো দেবেন আল্লাহ। কোনো বান্দার সে ইখতিয়ার নেই। আল্লাহ কোরআনে পরিষ্কার বলেছেন, তাদের কল্যাণ-অকল্যাণ তো আল্লাহর কাছে। কিন্তু তাদের অধিকাংশ জানে না। (সুরা আরাফ : ১৩১)।

‎নবী (সা.)ও অসংখ্য হাদিসে অশুভ-অলক্ষুণে থাকার বিষয়টি নাকচ করেছেন। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে তিনি একে শিরক আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘অশুভ বিশ্বাস করা বা নির্ণয়ের চেষ্টা করা শিরক, অশুভ বিশ্বাস করা বা নির্ণয়ের চেষ্টা করা শিরক, অশুভ বিশ্বাস করা বা নির্ণয়ের চেষ্টা করা শিরক। (সুনানে আবু দাউদ : ৩৯১০) কোরআন ও হাদিসের আলোকে বুঝা গেল, ইসলামে অশুভ বলতে কিছু নেই। তাই বিয়েতেও অশুভ কোনো দিন নেই। যেকোনো দিন বিয়ে করা যাবে। করা যাবে শাওয়াল মাসেও। এতে কোনো অসুবিধা নেই।

‎এ মাস তো হজের মহান তিন মাসের প্রথম মাস। এ মাসে নবীজির নিজের বিয়ে আম্মাজান আয়েশা (রা.)-এর সঙ্গে হয়। বিষয়টির বর্ণনা আয়েশা (রা.) নিজেই এভাবে দিয়েছেন, রাসুল (সা.) আমাকে শাওয়াল মাসেই বিবাহ করেছেন এবং শাওয়াল মাসেই আমার রুখসতি হয়েছে। অথচ তাঁর অনুগ্রহ লাভে আমার চেয়ে অধিক সৌভাগ্যবতী স্ত্রী আর কে আছে? (সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৪২৩) এ হাদিসে আয়েশা (রা.) জাহেলি যুগের ধারণা খণ্ডন করেছেন। তারা ধারণা করত, শাওয়ালে বিয়ে-বাসর হলে স্বামী-স্ত্রীর মহব্বত উঠে যাবে। তাদের মধ্যে কোনো আন্তরিকতা থাকবে না। তারা হজের মাস এবং দুই ঈদের মাঝামাঝি সময়ে বিয়ে-বাসরকে অকল্যাণকর মনে করত। আয়েশা (রা.) তাদের অলীক এ ধারণা খণ্ডন করেছেন।

‎এ হাদিস দ্বারা ইবনে হাজার হাইতামি (রহ.) ও অনেক ওলামায়ে কেরাম শাওয়াল মাসে বিয়ে করা মুস্তাহাব আখ্যা দিয়েছেন, যদিও হানাফি ওলামায়ে কেরাম শুধু জায়েজ আখ্যা দিয়েছেন, মুস্তাহাবের কথা বলেননি। (ফতোয়ায়ে শামি : ৩/৮; তুহফাতুল মুহতাজ ফি শরহিল মিনহাজ : ৭/২১৬)

‎নবীজির অন্য আরেক স্ত্রী উম্মে সালামা (রা.)-এর বিয়েও শাওয়াল মাসেই হয়েছে। যে মাসে দুইজন উম্মাতুল মুমিনিনের বিয়ে নবীজির সঙ্গে হয়েছে এ মাসে বিয়ে করা অশুভ হয় কি করে?

এ ছাড়া কোনো কারণ ছাড়া বিয়েতে বিলম্ব করা নিষেধ। এটি প্রিয় নবীর প্রিয় সুন্নত। উপযুক্ত পাত্রপাত্রী পাওয়া গেলে বিলম্ব করা অনুচিত। নির্ধারিত মাস কিংবা নির্ধারিত দিন অনুসন্ধান করতে গেলে এ নেক কাজে বিলম্ব হওয়া স্বাভাবিক। আলি ইবনে আবি তালেব (রা.)-কে উদ্দেশ্য করে নবীজি বলেছেন, হে আলি, তিন কাজে বিলম্ব করো না। ১. সময় হয়ে গেলে নামাজে বিলম্ব করো না, ২৷ জানাজা প্রস্তুত হয়ে গেলে বিলম্ব করো না এবং ৩. উপযুক্ত পাত্র পাওয়া গেলে স্বামীহীনা নারীর বিয়েতে বিলম্ব করো না। (মুসতাদরাকে হাকেম : ২৭৪)। অতএব, বিয়ের সবকিছু গোছগাছ হয়ে গেলে অশুভ মনে করে শাওয়াল কিংবা অন্য যেকোনো মাস থেকে বিয়ে পিছিয়ে নেওয়া অপছন্দনীয় কাজ। 

‎লেখক : শিক্ষাসচিব ও সিনিয়র মুহাদ্দিস, জামিয়া আরাবিয়া দারুল উলুম বাগে জান্নাত, চাষাড়া, নারায়ণগঞ্জ।

 এমএম/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ