মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬ ।। ১০ চৈত্র ১৪৩২ ।। ৫ শাওয়াল ১৪৪৭

শিরোনাম :

সাফল্যের রহস্য কী? করাচি থেকে যা বললেন দাওরায় প্রথম স্থান অধিকারী খালেদ

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

|| নিজস্ব প্রতিবেদক ||

কওমি মাদরাসার সর্বোচ্চ স্তর দাওরায়ে হাদিস (তাকমিল) পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। আল-হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশের অধীনে অনুষ্ঠিত এই পরীক্ষায় পাসের হার ৮৯.৯৯ শতাংশ। এবারের ফলাফলে ছাত্রদের মধ্যে দেশসেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি বিদ্যাপীঠ মাদরাসা বায়তুল উলূম ঢালকানগর। প্রতিষ্ঠানটি থেকে প্রথম স্থানসহ যৌথভাবে তৃতীয় স্থান অধিকার করে শিক্ষার্থীরা দেশজুড়ে চমক সৃষ্টি করেছেন।

৯৩২ নম্বর পেয়ে ছাত্রদের মেধা তালিকায় সারা দেশে শীর্ষস্থান অধিকার করেছেন ঢালকানগর মাদরাসার মেধাবী ছাত্র খালেদ হাসান। বর্তমানে তিনি উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে পাকিস্তানের বিশ্ববিখ্যাত দ্বীনি প্রতিষ্ঠান দারুল উলুম করাচীতে অবস্থান করছেন। করাচী থেকেই নিজের এই অভাবনীয় সাফল্যের সংবাদ শুনেছেন তিনি।

দেশসেরা হওয়ার পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে খালেদ হাসান বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, সুম্মা আলহামদুলিল্লাহ। এই ফলাফলের পেছনে আমার মাদরাসা বাইতুল উলূম ঢালকানগরের মুহতামিম সাহেব, নাযেম সাহেব এবং সকল আসাতিজায়ে কেরামের অবদান অপরিসীম। মুহতামিম মুফতি জাফর আহমাদ (দা.বা.)-এর দোয়া ও মেহনত এবং নাযেম মুফতি হাবিবুল্লাহ মিসবাহ (দা.বা.)-এর উৎসাহের কথা না বললে না-শোকরি হবে।’

খালেদ আরও জানান, গত বছর হজের সফরে এবং রমজানে ওমরাহর সফরে নাযেম সাহেব হুজুর তার জন্য বিশেষভাবে দোয়া করেছিলেন। মেশকাত জামাতে বেফাকে প্রথম হওয়ার পেছনেও হুজুরের বড় অবদান ছিল।

খালেদ হাসান বর্তমানে শাইখুল ইসলাম আল্লামা তাকি উসমানি (দা.বা.)-এর কাছে বুখারী শরীফ ও ইফতা পড়ার জন্য করাচীতে রয়েছেন। সেখানে যাওয়ার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে তিনি বলেন, ‘গত বছর যখন আব্বু নাযেম সাহেব হুজুরের হাতে আমার পাসপোর্ট তুলে দেন, তখন হুজুর একটি শর্ত দিয়েছিলেন—দাওরায়ে হাদিসের বোর্ড পরীক্ষায় পুরো বাংলাদেশে প্রথম হতে হবে এবং পড়ালেখায় কোনো ব্যাঘাত ঘটানো যাবে না। কারণ অনেক তালিবে ইলম নিজের মুরুব্বিরদের সাথে পরামর্শ না করে দাওরায়ে হাদীসের পর বিদেশে পড়তে যাওয়ার জন্য দৌড়াদৌড়ি ও পেরেশানি করতে করতে নিজের শিক্ষা জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ও শেষ বৎসরটাকে নষ্ট করে দেয়। হুজুর তার কথা রেখেছেন, আমাকে স্টুডেন্ট ভিসার জন্য একবারও এম্বাসিতে যেতে হয়নি। হুজুরের উসিলায় আমি বাসায় বসেই ভিসা ও বিমানের টিকিট পেয়েছি।’

খালেদ হাসান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন মুফতি ইদ্রিস সাহেবকে, যিনি পুরো বছর তার নেগরানি করেছেন এবং হযরত মাওলানা আবুল কালাম সাহেবকে, যিনি তার প্রস্তুতির খাতাগুলো দেখে দিতেন। সেই সাথে তিনি তার শিক্ষা জীবনের শুরুর প্রতিষ্ঠান কুমিল্লার দারুল উলুম বরুড়া মাদরাসার শিক্ষকদের প্রতিও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

পরিশেষে খালেদ হাসান দোয়া চেয়ে বলেন, ‘আল্লাহ তাআলা বাইতুল উলূম ঢালকানগর ও দারুল উলূম বরুড়া—উভয় মাদরাসার কবুলিয়াত বৃদ্ধি করুন এবং আমাদের দ্বীনের মুখলিস খাদেম হিসেবে কবুল করুন।’

ঢালকানগর মাদ্রাসার নাযেমে তালিমাত মুফতি হাবিবুল্লাহ মিসবাহ বলেন, আমাকেও ঢালকানগরের হজরতওয়ালা মুফতি জাফর আহমদ সাহেব ২০০৪ সালে দাওরায়ে হাদিসের পর করাচিতে নিয়ে গিয়েছিলেন। তার শেখানো পদ্ধতিতেই আমরা চেষ্টাটুকু করছি। আমি খালেদ হাসানের জন্য দোয়া চাই, সে যেন পাকিস্তান বেফাকেও গৌরবময় রেজাল্ট করতে পারে।

 এমএম/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ