আওয়ার ইসলাম ডেস্ক
ইসলামে নামায আদায়ের ক্ষেত্রে কেরাত পাঠের কিছু বিধান রয়েছে। কোনো কোনো নামাযে জোরে কেরাত পড়তে হয়। আবার কোনো কোনো নামাযে নীরবে কেরাত পড়ার বিধান রয়েছে। তবে প্রশ্ন হলো, যেসব নামাযে জোরে কেরাত পড়তে হয়, সেসব নামায ছুটে গেলে পরে কাযা আদায়ের সময়ও কি জোরে কেরাত পড়তে হবে?
এ বিষয়ে ইসলামী ফিকহের কিতাবগুলোতে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে।
একাকী কাযা আদায় করলে কেরাতের বিধান
ফিকহে হানাফির আলোকে, যেসব নামাযে জোরে কেরাত পড়ার বিধান রয়েছে, সেসব নামাযের কাযা একাকী আদায় করলে উচ্চৈঃস্বরে কেরাত পড়া জরুরি নয়। এ ক্ষেত্রে নিম্নস্বরেও কেরাত পড়া যাবে।
অর্থাৎ, কোনো ব্যক্তি একাকী ফজর, মাগরিব বা এশার নামাযের কাযা আদায় করলে কেরাত জোরে পড়তেই হবে—এমন বাধ্যবাধকতা নেই। তিনি চাইলে নিম্নস্বরেও কেরাত পড়তে পারবেন।
জামাতে কাযা আদায় করলে কেরাতের বিধান
অন্যদিকে, যেসব নামাযে জোরে কেরাত পড়ার বিধান রয়েছে, সেসব নামাযের কাযা জামাতের সঙ্গে আদায় করা হলে ইমামকে সশব্দে কেরাত পড়তে হবে। এ ক্ষেত্রে নিঃশব্দে কেরাত পড়ার সুযোগ নেই।
সুতরাং, একাকী কাযা আদায় এবং জামাতের সঙ্গে কাযা আদায়ের ক্ষেত্রে কেরাত পাঠের বিধানে পার্থক্য রয়েছে।
সংক্ষেপে উত্তর
যেসব নামাযে জোরে কেরাত পড়ার বিধান রয়েছে, সেসব নামাযের কাযা একাকী আদায় করলে নিম্নস্বরেও কেরাত পড়া যাবে। তবে জামাতের সঙ্গে কাযা আদায় করলে ইমামকে সশব্দে কেরাত পড়তে হবে।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সঠিকভাবে নামায আদায় করার এবং শরিয়তের বিধান মেনে চলার তাওফিক দান করুন। আমিন।
—কিতাবুল আছার, ইমাম মুহাম্মাদ, বর্ণনা ১৬৮; শরহুল জামিইস সগীর, বাযদাবী ১/১৬৪; শরহুল জামিইস সগীর, কাযীখান ১/১৪২; আলকাফী শরহুল ওয়াফী ১/৩৭৬; আননাহরুল ফায়েক ১/২২৮; রদ্দুল মুহতার ১/৫৩৩
সূত্র: মাসিক আল-কাউসার
এসএইচ/