বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ।। ১২ কার্তিক ১৪৩৩ ।। ১৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
নাঙ্গলকোটে মাদরাসার বার্ষিক মাহফিলে দাওয়াহ ক্যাম্প, পুরস্কৃত মেধাবী শিক্ষার্থীরা ‘নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠায় সবারই দায়িত্ব রয়েছে’ হাফেজ মাওলানা যুবায়ের আহমদ আনছারী রহ.: বর্ণাঢ্য জীবন, কর্ম ও সাধনা (পর্ব: ৬) দুর্যোগ মোকাবিলা ও সামরিক প্রশিক্ষণ বাড়াবে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র শ্রম আইন বাস্তবায়নে বাংলাদেশের পাশে থাকবে জার্মানি উপকূলে আঘাত হেনেছে ‘অর্ণব’, দেশের চার বন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত সাংস্কৃতির অন্ধানুকরণ ও আমাদের ধর্মীয়চর্চা ইরানের মধ্যস্থতায় হামলা বন্ধে হুতিদের ১০০ কোটি ডলার দেওয়ার প্রস্তাব সৌদির লেখকপত্র পরিবারের সঙ্গে কক্সবাজার ইসলামী সাহিত্য ও গবেষণা পরিষদের আড্ডা জাফর ইকবালসহ ৫ আসামিকে আত্মসমর্পণে সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ

‘নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠায় সবারই দায়িত্ব রয়েছে’

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

চালকদের আচরণ পরিবর্তন এবং গাড়ির ফিটনেসের কথা বললে কারও কারও সমস্যা হয় বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, সড়কে দুর্ঘটনা বন্ধে কোন পদক্ষেপ কার্যকর হবে, তা নির্দিষ্ট করে জানালে সরকার সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, চালকদের আচরণ পরিবর্তন কিংবা গাড়ির ফিটনেস নিয়ে কথা বললেই অনেকে ক্ষুব্ধ হন। অথচ সড়কে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি কমাতে এসব বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। কেউ যদি বলতে পারেন, যোগাযোগ মন্ত্রণালয় কোন কাজটি করলে সড়কে একটি প্রাণও ঝরবে না, তাহলে আমরা তা করতে প্রস্তুত। সরকারও সেই দায়িত্ব নিতে চায়।

এ সময় আলোচনা সভায় কয়েকজন বক্তার বক্তব্যের সময় উপস্থিত চালকদের একাংশ হৈচৈ শুরু করেন।

তাদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, পরিবহন খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যেভাবে মেজাজ হারাচ্ছেন, স্টিয়ারিংয়ে বসেও যদি এভাবে মেজাজ হারান, তাহলে দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হবে না। সবার কথা শুনতে হবে, তা মানতে হবে এবং সে অনুযায়ী কাজ করতে হবে। নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠায় কেউ কারও প্রতিপক্ষ নন; বরং সবারই দায়িত্ব রয়েছে।

সড়কে প্রাণহানির ঘটনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে শেখ রবিউল আলম বলেন, প্রতিদিনই আশঙ্কাজনক হারে মানুষ সড়কে মারা যাচ্ছেন। তবে সব দুর্ঘটনাকেই সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন। প্রত্যন্ত অঞ্চলে কোনো ভ্যান উল্টে খাদে পড়ে কেউ মারা গেলে তার দায় সরাসরি সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের ওপর চাপানোর দৃষ্টিভঙ্গিতেও পরিবর্তন আনতে হবে।

পাশাপাশি চালকদের সচেতনতা ও দক্ষতার অভাব সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে দক্ষ ও যোগ্য চালক নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য পরিবহন মালিক সমিতির দায়িত্বশীল নেতাদের এগিয়ে আসতে হবে। পরিবহন খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও পরিবর্তন চান। তবে কিছু ক্ষেত্রে রাতারাতি পরিবর্তন আনা সম্ভব হচ্ছে না। তার অর্থ এই নয় যে সরকার হাল ছেড়ে দিয়েছে। যে কোনো মূল্যে নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠা করতে চায় সরকার।

তিনি আরও বলেন, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ, পরিকল্পনা ও কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে, যেগুলোর বাস্তবায়ন চলছে। জাতিসংঘে বাংলাদেশ সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ও নিহতের সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনার অঙ্গীকার করেছে। সেই লক্ষ্য অর্জনে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। একে অপরের ওপর দায় চাপানোর সংস্কৃতি থেকেও বেরিয়ে আসতে হবে।

এছাড়া ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অটোরিকশার চলাচল ও ফুটপাত দখলের বিষয়েও কথা বলেন সড়কমন্ত্রী। তিনি বলেন, অটোরিকশার কারণে জনজীবনে সমস্যা তৈরি হওয়া নিয়ে অনেকে আপত্তি জানান। কিন্তু যারা এর বিরোধিতা করেন, তাদের মধ্যে কতজন নিজেরা অটোরিকশায় ওঠা বন্ধ করেছেন, সেই প্রশ্নও বিবেচনায় নেওয়া দরকার।

 এমএম/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ