সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
রিয়াদে হামলায় নাসরুল্লাহ বদরের মৃত্যুতে ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের শোক-প্রতিবাদ আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় হিরার সাফল্যে বিএনপির অভিনন্দন ‘পবিত্র ভূমিতে হামলা মুসলিম উম্মাহর জন্য গভীর উদ্বেগের’ আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন পরিদর্শনে জামিয়া ইমদাদিয়ার শায়খুল হাদিস চাঁদ দেখা যায়নি, জমাদিউল আউয়াল মাস শুরু মঙ্গলবার বরাদ্দকৃত অর্থের প্রতিটি পয়সা দেশ ও জনগণের স্বার্থে ব্যয় করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী গণরায় কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে: আমিরে মজলিস ‘হে কাবার মালিক! মক্কা-মদিনাকে হেফাজত করো’ রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় প্রাণহানি, জমিয়তের শোক ও নিন্দা মালয়েশিয়ায় কোরআন প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হাফেজ হিরাকে সংবর্ধনা দেবে সরকার

পূজা উপলক্ষে পণ্যে ডিসকাউন্ট: শরঈ দৃষ্টিকোণ

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: আওয়ার ইসলাম

|| মুফতি ইলিয়াস আমিন ||

ইসলাম যেমন পারস্পরিক লেনদেন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও উপার্জনের পথকে উন্মুক্ত ও উৎসাহিত করেছে, তেমনি তাতে আকিদার বিশুদ্ধতা, তাওহীদের স্বকীয়তা এবং ধর্মীয় আত্মমর্যাদা সংরক্ষণের বিষয়েও তাগিদ দিয়েছে। ব্যবসা কেবল মুনাফা অর্জনের মাধ্যম নয়; বরং এটি শরিয়তের নির্ধারিত সীমারেখার ভেতর পরিচালিত একটি নৈতিক দায়িত্বও বটে। আধুনিক বিপণনব্যবস্থায় বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে বিশেষ মূল্যছাড় বা ডিসকাউন্ট দেওয়ার প্রবণতা লক্ষ করা যায়। বিধর্মীদের ধর্মীয় উৎসব বা পূজাপার্বণ উপলক্ষে বিশেষ অফার বা মূল্যছাড় দেওয়া তার অন্যতম। আপাতদৃষ্টিতে এটি নিছক ব্যবসায়িক কৌশল মনে হলেও, ইসলামের দৃষ্টিতে বিষয়টি অত্যন্ত গভীর ও সংবেদনশীল। একজন মুসলমানের জন্য এ ধরনের শিরকি উৎসবকে কেন্দ্র করে ডিসকাউন্ট বা মূল্যছাড় ঘোষণা করা এবং ঘোষিত মূল্যছাড় গ্রহণ করা জায়েজ কিনা—এ বিষয়ে সম্যক ধারণা থাকা অপরিহার্য।

ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে বিধর্মীদের যেকোনো ধর্মীয় উৎসব ও নিদর্শনের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা, প্রচার-প্রচারণায় অংশগ্রহণ করা, তাদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে সশরীরে অংশগ্রহণ করা, তাদের দল ভারী করা কিংবা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তাদের ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে কোনো প্রকার সহযোগিতা করা সম্পূর্ণ নাজায়েজ ও হারাম।

পূজা কিংবা অন্য যেকোনো শিরকি উৎসব উপলক্ষে উৎসবের নাম জড়িয়ে ডিসকাউন্ট বা মূল্যছাড় ঘোষণা করা মূলত উক্ত উৎসবের প্রতি সম্মান প্রদর্শন, সমর্থন ও প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে সহযোগিতা করার নামান্তর। তাই এ ধরনের উৎসব উপলক্ষে ডিসকাউন্ট বা মূল্যছাড় ঘোষণা করা জায়েজ নেই। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,

وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَىٰ ۖ وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ.

"সৎকর্ম ও তাকওয়ার ব্যাপারে তোমরা একে অপরকে সাহায্য কর এবং পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে একে অপরকে সাহায্য করো না।" (সুরা আল-মাইদাহ, আয়াত: ২)

বিখ্যাত ফকীহ ইমাম যাইলায়ী রহ. বলেন,

رَجُلٌ اشْتَرَى يَوْمَ النَّيْرُوزِ شَيْئًا لَمْ يَكُنْ يَشْتَرِيهِ قَبْلَ ذَلِكَ إنْ أَرَادَ بِهِ تَعْظِيمَ ذَلِكَ الْيَوْمِ كَمَا يُعَظِّمُهُ الْمُشْرِكُونَ كَفَرَ،

"কোনো ব্যক্তি যদি নওরোজের দিনে এমন কোনো পণ্য ক্রয় করে যা সে সচরাচর বা পূর্বে কিনত না—এখন মুশরিকরা যেভাবে দিনটির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে, সে-ও যদি ঠিক সেই উদ্দেশ্যে কেনাকাটা করে, তবে সে কাফির হয়ে যাবে।" (তাবয়ীনুল হাকায়েক ৬/২২৮)

তবে কোনো ব্যবসায়ী যদি তার নিজ পণ্যের প্রচার বা বিক্রয় বাড়াতে চায় তাহলে তা কোনো শিরকি উৎসবের নাম ও সংশ্লিষ্টতা ছাড়াই স্বাভাবিক নিয়মে কিংবা বছরের অন্য যেকোনো সাধারণ সময়ে করতে পারে। কিন্তু কোনো অবস্থাতেই পূজার প্রচার ও তার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা যাবে না।

পূজা উপলক্ষে মূল্যছাড় গ্রহণ:

কোনো অমুসলিম বা অসচেতন মুসলিম ব্যবসায়ী যদি পূজা কিংবা অন্য কোনো শিরকি উৎসব উপলক্ষে কোনো ডিসকাউন্ট বা অফার দেয়, তবে একজন সাধারণ মুসলিম ক্রেতার জন্য সেই ডিসকাউন্ট গ্রহণ করে নিজের প্রয়োজনীয় হালাল পণ্য ক্রয় করা মৌলিকভাবে নাজায়েজ নয়। কারণ পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের মূল চুক্তিটি হালাল পণ্যের ওপরই সংঘটিত হচ্ছে এবং হ্রাসকৃত মূল্যে ক্রয় করাটা ক্রেতা-বিক্রেতার পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতেই হচ্ছে। তাছাড়া এতে পূজা কিংবা শিরকি উৎসবের প্রতি সম্মান প্রদর্শন, সমর্থন ও সহযোগিতার মতো বিষয় জড়িত নেই। তাই এ ধরনের ডিসকাউন্ট গ্রহণ করে ক্রয় করা যাবে।

মোটকথা, মূল বিষয় হলো অমুসলিমদের পূজা বা ধর্মীয় উৎসবের প্রতি সম্মান প্রদর্শন ও সহযোগিতা। যেহেতু ক্রেতার ডিসকাউন্ট গ্রহণ করার ক্ষেত্রে তাদের ধর্মীয় উৎসবের প্রতি সম্মান প্রদর্শন ও সহযোগিতা নেই তাই ক্রেতা চাইলে উক্ত ডিসকাউন্ট গ্রহণ করতে পারে। অপরদিকে বিক্রেতা উৎসব উপলক্ষে ডিসকাউন্ট ঘোষণা করার অর্থ হলো ওই উৎসবের প্রতি সমর্থন ও সম্মান প্রদর্শন করা এবং প্রচারের মাধ্যমে তাতে সহযোগিতা করা। তাই এটি নিষিদ্ধ। এ থেকে বেঁচে থাকা জরুরি।

রেফারেন্স: মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা-৩২৪৭৩, ৩২৬৭৪, আল-মাতালিবুল আলিয়া-১৬৬০, আল-বাহরুর রায়েক ৫/১৩৩, রদ্দুল মুহতার ৬/৭৫৪, ফাতাওয়া হিন্দিয়াহ ৫/৩৪৬, আহকামু আহলিয যিম্মাহ-ইবনুল কাইয়্যিম ৩/১২৫০, ফাতাওয়াল লাজনাতিদ দায়িমা-প্রথম সংকলন-২৬/৪০৯।

লেখক: শিক্ষক, জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম মাদানিয়া যাত্রাবাড়ী ঢাকা। (যাত্রাবাড়ী বড় মাদরাসা)

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ