ইমরান ওবাইদ, সাব-এডিটর-
আজ ১০ মুহাররম, শুক্রবার। পবিত্র আশুরার দিন। মুসলমানদের জন্য এই দিন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ইসলামি বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস মুহাররম। এটি আল্লাহ তাআলার সম্মানিত চার মাসের অন্যতম। মুহাররম আরবি শব্দ। এর বাংলা অর্থ সম্মানিত। ‘আশারা’ শব্দটিও আরবি, অর্থ: দশ। আর আশুরা মানে দশম। মুহাররমের ১০ তারিখ ইয়াওমু আশুরা নামে পরিচিত।
মহান আল্লাহর রহমত ও ক্ষমা পাওয়ার আশায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা নফল রোজা, নামাজ, দান-খয়রাত ও জিকির-আজকারের মাধ্যমে এই দিনটি পালন করেন।
আশুরার রোজা ও রসুলুল্লাহ (সা.):
রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মদিনায় আগমন করেন, তখন তিনি ইহুদিদের আশুরার দিনে রোজা রাখতে দেখেন। কারণ জানতে চাইলে তারা বলল, ‘এটি এক মহান দিন। এ দিনে আল্লাহ মুসা ও তার সম্প্রদায়কে মুক্তি দিয়েছেন এবং ফেরাউন ও তার সম্প্রদায়কে ডুবিয়েছেন। তাই মুসা আ. কৃতজ্ঞতাস্বরূপ রোজা রেখেছিলেন। তখন রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘মুসার সঙ্গে তাদের চেয়ে আমার সম্পর্ক অধিক ঘনিষ্ঠ।’ এরপর তিনি রোজা রাখলেন এবং সাহাবিদেরও রোজা রাখার নির্দেশ দিলেন।(সহিহ বুখারি:২০০৪)
আশুরার রোজার ফজিলত
আশুরার দিনের রোজা ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নফল ইবাদত। রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘আমি আল্লাহর কাছে আশা করি, আশুরার দিনের রোজা পূর্ববর্তী এক বছরের (সগিরা) গুনাহের কাফফারা হবে। (সহিহ মুসলিম:১১৬২)।
নবী দৌহিত্রের শাহাদাত বরণ:
হিজরি ৬১ সনের ১০ মহররম সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে যুদ্ধ করতে গিয়ে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসেন (রা.) এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা কারবালার প্রান্তরে ফোরাত নদীর তীরে নির্মমভাবে শহীদ হন।
শান্তি ও সম্প্রীতির ধর্ম ইসলামের মহান আদর্শকে সমুন্নত রাখতে কারবালায় হজরত ইমাম হোসেন (রা.)-এর আত্মত্যাগ মানবতার ইতিহাসে সমুজ্জ্বল হয়ে আছে। কারবালার শোকাবহ ঘটনা অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে অনুপ্রেরণা জোগায়। সত্য ও সুন্দরের পথে চলার প্রেরণা জোগায়।
কারবালার এই শোকাবহ ঘটনা ছাড়াও ইসলামের ইতিহাসে ১০ মহররম নানা গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যময় ঘটনা ঘটেছে।
এ দিনটি আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে অনেক প্রিয়। তাই তিনি এ দিন রোজা পালনকারীদের বহুগুণ সওয়াব প্রদান করে থাকেন। হাদিসে মহরমকে ‘শাহরুল্লাহ’ বা ‘আল্লাহর মাস’ বলা হয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে মহরম মাস সম্পর্কে কিছু ভুল ধারণা রয়েছে । যেমন এ মাসে বিয়েশাদি না করা, নতুন ঘরবাড়ি নির্মাণ না করা, মাংস না খাওয়া ও নিরামিষ আহার করা, নতুন কাপড় ও সুন্দর পোশাক পরিধান না করা, সব ধরনের আনন্দ-উৎসব পরিহার করা—এসবই কুসংস্কার।
আশুরার দিন বিশেষ করে মিষ্টি, খিচুড়ি বা হালুয়া রান্না করা এবং তা খাওয়া বা বিতরণ করাকে অনেকে জরুরি বা সওয়াবের কাজ মনে করেন, যা সম্পূর্ণ মনগড়া। আশুরার দিন চোখে সুরমা লাগালে চোখ ভালো থাকে বা সওয়াব হয়—এমন কোনো প্রমাণ নেই। কারবালার মর্মান্তিক ঘটনা স্মরণে অনেকে নিজেদের শরীরে আঘাত করে বা রক্তপাত ঘটিয়ে শোক প্রকাশ করেন, যা ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আশুরার দিনের একমাত্র সহিহ আমল হলো রোজা রাখা।
আইও