সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১০ রবিউস সানি ১৪৪৮

শিরোনাম :
সংবিধান সংশোধন: বিশেষ কমিটির দ্বিতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত এমপি ভবনে গাজী নজরুলের সেই স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার  মাদক নির্মূলে শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে  রাষ্ট্রপতির সঙ্গে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির সৌজন্য সাক্ষাৎ  নাজাত ইসলামী মারকাজের বহুমুখী কার্যক্রম নিয়ে সাংবাদিক-গুণীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় গণভোটের রায়ের আলোকে সংবিধান সংস্কারের দাবি খেলাফত মজলিসের কুমিল্লায় স্কুলছাত্র অপ্রতিম হত্যার দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি সমালোচনার মুখে ‘নেক্সাস’ বই ফেরত নিলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শরিয়াহ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সমন্বয়ে গুরুত্বারোপ মিসরের গ্র্যান্ড মুফতির ‘এই ভূখণ্ডকে আমরা আর কবে বাসযোগ্য করে তুলতে পারব!’

জমজমকে ঘিরে জনবসতির সূচনা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

হজরত হাজেরা আলাইহাস সালাম তাঁর শিশু পুত্র হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালামকে নিয়ে জমজম কূপের পাশে বসবাস করতে থাকেন। মহান আল্লাহর অসীম রহমতে জমজমের পানি তাঁদের তৃষ্ণা নিবারণ করত এবং জীবনধারণের ব্যবস্থা করে দিত। জনমানবহীন মরুপ্রান্তরে আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রেখেই মা ও ছেলে দিন কাটাতে থাকেন।

কিছুদিন পর ইয়েমেনগামী জুরহুম গোত্রের একটি বাণিজ্য কাফেলা ওই এলাকার কাছ দিয়ে অতিক্রম করছিল। দীর্ঘ মরু সফরে তাদের পানির মজুত প্রায় শেষ হয়ে এসেছিল। এমন সময় তারা আকাশে কয়েকটি পাখিকে একটি নির্দিষ্ট স্থানের ওপর ঘোরাফেরা করতে দেখে। মরুভূমিতে পাখির এমন উপস্থিতি সাধারণত পানির অস্তিত্বের ইঙ্গিত বহন করত। তাই তারা সেদিকে অগ্রসর হলো।

কিছুক্ষণ পর তারা বিস্ময়ের সঙ্গে দেখতে পেল, জনশূন্য উপত্যকায় একটি পানির কূপের পাশে এক নারী তাঁর শিশুসন্তানকে নিয়ে অবস্থান করছেন। তারা হজরত হাজেরা আলাইহাস সালামের কাছে এসে তাঁর পরিচয় জানতে চাইলেন। তিনি নিজের পরিচয় দেওয়ার পাশাপাশি আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহে জমজমের পানি লাভের ঘটনাও তাঁদের শুনিয়ে দিলেন।

কাফেলার লোকেরা জমজমের পানি পান করার অনুমতি চাইলে হজরত হাজেরা আলাইহাস সালাম আন্তরিকতার সঙ্গে তাঁদের অনুমতি দিলেন। তারা তৃষ্ণা নিবারণ করে নিজেদের পানির পাত্রও পূর্ণ করে নিল। এরপর তারা হজরত হাজেরা আলাইহাস সালামের কাছে এ স্থানে বসবাসের অনুমতি প্রার্থনা করল।

হজরত হাজেরা আলাইহাস সালাম তাঁদের সেখানে বসতি স্থাপনের অনুমতি দিলেন। তবে জমজম কূপের মালিকানা তাঁর কাছেই থাকবে—এই শর্ত তাঁরা সানন্দে মেনে নিলেন। এরপর জুরহুম গোত্রের লোকেরা সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে।

ক্রমে তাঁরা ঘরবাড়ি নির্মাণ করল, ব্যবসা-বাণিজ্য চালু করল এবং মরু উপত্যকায় একটি নতুন জনপদের ভিত্তি স্থাপন করল। হজরত ইসমাঈল আলাইহিস সালামও তাঁদের মধ্যেই বেড়ে ওঠেন। পরবর্তীকালে তিনি জুরহুম গোত্রের ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হন এবং প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর ওই গোত্রেই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

জমজম কূপকে কেন্দ্র করে ধীরে ধীরে মানুষের আনাগোনা বাড়তে লাগল। পানির প্রয়োজন, বাণিজ্যিক যাতায়াত এবং নিরাপদ অবস্থানের কারণে এ অঞ্চল দ্রুত একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদে পরিণত হয়। মরুপ্রান্তরের সেই নির্জন উপত্যকা অল্প সময়ের মধ্যেই মানুষের বসবাস, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামাজিক জীবনের প্রাণকেন্দ্র হয়ে ওঠে।

এই জনপদই কালক্রমে মক্কার ভিত্তি রচনা করে। পরবর্তীকালে হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম ও তাঁর পুত্র হজরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম পবিত্র কাবা পুনর্নির্মাণ করেন। তখন থেকে মক্কা আরও বেশি গুরুত্ব লাভ করে এবং যুগে যুগে আল্লাহর একত্ববাদের কেন্দ্র ও বিশ্বের অন্যতম পবিত্র নগরী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। 

মূল: মাওলানা আব্দুর রহমান কাওসার মাদানী

অনুবাদ: শরিফ হাসানাত

এসএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ