সোমবার, ০৯ মার্চ ২০২৬ ।। ২৪ ফাল্গুন ১৪৩২ ।। ২০ রমজান ১৪৪৭


ইফতারের আগে হাত তুলে দোয়া, ইসলাম কী বলে

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

|| মুফতি আবুল ফাতাহ কাসেমী ||

দোয়া ইসলামের স্বতন্ত্র মৌলিক ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত। কুরআনে কারিমে আল্লাহ তায়ালা তার বান্দাদের দোয়া করতে আদেশ করেছেন। নামাজ রোজা হজ ইত্যাদির জন্য শরিয়ত কর্তৃক সময় নির্ধারিত থাকলেও দোয়ার জন্য কোনো সময় নির্ধারিত নেই। বান্দা যখন ইচ্ছা তখন তার রবকে ডাকবে- এটাই স্বাভাবিক। তবে সময়ের গুরুত্ব বিবেচনায় এ দোয়ার মর্যাদা আরও বেড়ে যায়। বিশেষ কিছু সময়ে দোয়া কবুলের কথা আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন। যেমন বাইতুল্লাহ দেখে দোয়া করা, শুক্রবার আসরের পর দোয়া করা ইত্যাদি।

ঠিক তেমনি ইফতারের আগে রোজা ভাঙার এ বিশেষ মুহূর্তেও আল্লাহর কাছে দোয়া করা অবশ্যই পছন্দনীয় ও অধিক সওয়াবের কাজ। হাদিস শরীফে এসেছে, রোজাদারের দোয়া ইফতারের সময় প্রত্যাখ্যাত হয় না। এ থেকে বোঝা যায় যে, ইফতারের মুহূর্তে দোয়া করা আল্লাহর নিকট অত্যন্ত প্রিয় ও পছন্দনীয় আমল। সুতরাং এ সময় পূর্ণ মনোযোগ ও আদব রক্ষা করে একান্তভাবে (হাত তুলে/হাত তোলা ছাড়া মৌখিক) বেশি বেশি দোয়া করা উচিত।

দোয়ার একটি আদব হলো, হাত তুলে দোয়া করা। তাই হাত তুলে দোয়া করা সুন্নত। দোয়া কী? দোয়া কীভাবে করতে হয়, কখন করতে হয় বিস্তারিত বিবরণ হাদিসে বিদ্যমান রয়েছে। তথাপি অধুনা কতিপয় লোক সম্মিলিতভাবে হাত তুলে দোয়া করা নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। অতিশয়তার শিকার হয়ে কেউ কেউ তো বিদআত বলে বেড়াচ্ছেন। আল্লাহর কাছে চাওয়ার মতো এত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিয়ে প্রান্তিকতার শিকার হওয়া অনুচিত।

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাধারণত হাত তুলে দোয়া করতেন। হজরত ছাইব ইবনে ইয়াজিদ তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, كان رسول الله صل الله عليه وسلم إذا دعا رفع يديه ومسح وجهه بيديه

অর্থ  : রাসুল সা. যখন দোয়া করতেন তখন হাত তুলে দোয়া করতেন এবং শেষে হাত দিয়ে চেহারা মাসাহ করতেন।। তিরমিজি শরিফে হজরত উমর রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,  كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا رفع يديه ام يحطهما حتى يمسح بهما وجهه

রাসুল সা. যখন দোয়াতে হাত তুলতেন তখন চেহারা মাসাহ না করে হাত দুটো নামাতেন না। {সুনানে তিরমিজি, কিতাবুদ দাওয়াত, বাবু মাজা ফি রাফঈল আইদি ইনদাদ দুআ, হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি হাদিসটিকে হাসান বলেছেন।}

এছাড়া ইফতারের একটি দোয়া হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। তা হলো—

“اللَّهُمَّ لَكَ صُمْتُ، وَعَلَى رِزْقِكَ أَفْطَرْتُ”

অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনারই জন্য রোজা রেখেছি এবং আপনারই দেওয়া রিজিক দ্বারা ইফতার করছি।

ইফতারের পর আরেকটি দোয়াও হাদিসে বর্ণিত হয়েছে—

“ذَهَبَ الظَّمَأُ وَابْتَلَّتِ الْعُرُوقُ وَثَبَتَ الْأَجْرُ إِنْ شَاءَ اللهُ”

অর্থ: পিপাসা দূর হয়েছে, শিরা-উপশিরাগুলো সিক্ত হয়েছে এবং ইনশাআল্লাহ সওয়াব নিশ্চিত হয়েছে।

ইফতারের সময় ব্যক্তিগতভাবে দোয়া করা উত্তম। তবে কখনো কখনো—যেমন কোনো ইফতার মাহফিলে, আলেম উলামাদের মজলিসে, মসজিদে ইতিকাফকারীদের সম্মিলিত ইফতারের সময়—সম্মিলিতভাবে দোয়া করা হলে এবং তাকে বাধ্যতামূলক বা বিশেষ ফজিলতপূর্ণ মনে না করা হলে, তাতে কোনো অসুবিধা নেই।

এছাড়াও ইফতারের সময় সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সা. থেকে এ বর্ণনা পাওয়া যায় যে, তিনি বলেছেন, প্রত্যেক রোজাদারের জন্য একটি দোয়া রয়েছে। যখন সে ইফতার করার ইচ্ছা করবে, তখন প্রথম লোকমা গ্রহণের সময় এ দোয়া পড়বে,

’’يا واسع المغفرة اغفر لي‘‘

‘হে অতি ব্যাপক ক্ষমাশীল! আমাকে ক্ষমা করুন।’ আয যুহদ (ইবনুল মুবারক) পৃ. ৪৯৪, মুসনাদুশ শিহাব: ২/১২৮। কবুলিয়াতের এই সময়ে (ইফতারের মুহূর্তে) অন্যান্য দোয়ার সঙ্গে উল্লিখিত দোয়াটিও পড়া উচিত।

এ বিষয়ে জানতে আরও দেখতে পারেন, সুনানে আবু দাউদ, বাবুদ দুআ, মুসতাদরাকে হাকিম 1/535, তাবারানী, হাদীস নং 6142, আল আদাবুল মুফরাদ, ইমাম বুখারীকৃত, হাদীস নং 613 ইত্যাদি।

লেখক: মুহাদ্দিস, জামিয়া কাসেম নানুতবী ঢাকা ও খতিব, আয়েশা মসজিদ রামপুরা

আইএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ