বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৩ রবিউস সানি ১৪৪৮

শিরোনাম :

আদানির বিদ্যুৎ প্রকল্পের বলি ১৪০০ মুসলিম পরিবার!

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এক বছর আগেও আসামের ধুবরি জেলার চাপর এলাকার চারুবাখরা, চিরাকুটা ও সন্তোষপুরে ছিল মানুষের বসতি। ঘরবাড়ি, উঠান, গবাদিপশু আর মানুষের কোলাহলে মুখর ছিল এলাকাগুলো। কিন্তু ২০২৫ সালের জুলাইয়ে উচ্ছেদ অভিযানে সেসব ঘরবাড়ি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। উচ্ছেদ করা হয় ১ হাজার ৪০০-এর বেশি বাংলাভাষী মুসলিম পরিবারকে। স্থানীয় বাসিন্দাদের হিসাবে, এতে প্রায় ১০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হন।

এ ঘটনার এক বছরের কিছু বেশি সময় পর সেই জমিতেই শুরু হয়েছে আদানি পাওয়ারের ৩ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ। গত ২০ সেপ্টেম্বর প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। প্রায় ৪৮ হাজার কোটি রুপি বিনিয়োগে নির্মিতব্য প্রকল্পটি চাপরের চারুবাখরা, চিরাকুটা-১ ও ২ এবং সন্তোষপুর এলাকায় হচ্ছে।

আদানি পাওয়ার জানিয়েছে, প্রকল্পটিতে চারটি ৮০০ মেগাওয়াট ইউনিট থাকবে। প্রথম ধাপে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা ২০৩০ সালের ডিসেম্বর থেকে। নির্মাণকাজে প্রায় ২০ হাজার এবং প্রকল্প চালু হলে প্রায় ৫ হাজার কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে কোম্পানিটি জানিয়েছে।

তবে প্রকল্পের জমি নিয়েই নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, যে এলাকায় প্রকল্পটি হচ্ছে, সেখানে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে বসবাসকারী ১ হাজার ৪০০-এর বেশি বাংলাভাষী মুসলিম পরিবারের ঘরবাড়ি উচ্ছেদ করা হয়েছিল। সে সময় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রায় ১ হাজার ১৫৭ একর সরকারি জমি থেকে পরিবারগুলোকে সরিয়ে দেওয়ার কথা জানানো হয়েছিল।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, তাদের অনেক পরিবার তিন থেকে চার দশক ধরে ওই এলাকায় বসবাস করে আসছিল। তাদের কেউ কেউ ব্রহ্মপুত্রের নদীভাঙনে আগের বসতভিটা হারিয়ে সেখানে বসতি গড়েছিলেন। উচ্ছেদের পর পর্যাপ্ত পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ পাওয়া নিয়ে অনেকে অভিযোগ করেছেন।

পুনর্বাসনের জন্য বাইজার আলগা এলাকায় জমি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও স্থানীয়দের একাংশ সেখানে যেতে আপত্তি জানিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তাদের দাবি, প্রস্তাবিত জায়গাটি নিচু ও নদীভাঙনপ্রবণ হওয়ায় বর্ষাকালে সেখানে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা রয়েছে। ক্ষতিপূরণ নিয়েও কিছু জমির মালিকের অভিযোগ রয়েছে।

প্রকল্পটির পরিবেশগত ছাড়পত্রসংক্রান্ত নথিতে প্রকল্প এলাকায় কোনো বসতি নেই এবং পুনর্বাসন বা পুনর্বাসনসংক্রান্ত কোনো দাবি নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। অথচ প্রকল্পের নির্ধারিত এলাকায় এর আগে বসতি উচ্ছেদের ঘটনা ঘটেছে—এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দারা।

চাপরের এই ঘটনা আসামে উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে পুরোনো বিতর্কও সামনে এনেছে। ২০২৫ সালের উচ্ছেদের সময় প্রায় ৫০টি এক্সকাভেটর ও বুলডোজার এবং বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করে কয়েক হাজার বিঘা সরকারি জমি খালি করা হয়েছিল বলে সে সময়ের প্রতিবেদনে উঠে আসে। 

এসএইচ/ 


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ