আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাচ্যুত হয়ে প্রায় দুই বছর ধরে ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চলতি বছরের মধ্যেই দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। মৃত্যুকে ভয় পান না জানিয়ে তিনি বলেছেন, সব ধরনের প্রতিকূলতা ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে তিনি এ বছরই বাংলাদেশে ফিরবেন।
রোববার (২৮ জুন) ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক ই-মেইল সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।
সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ক্ষমতা অর্জনের জন্য নয়, বরং বাংলাদেশের মানুষের কল্যাণ এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যেই তিনি রাজনীতি করেন। মৃত্যুকে ভয় পান না উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, জীবনে বহুবার ষড়যন্ত্র ও প্রাণনাশের চেষ্টা মোকাবিলা করেছেন। তাই কোনো বাধাই তাকে দেশে ফেরা থেকে বিরত রাখতে পারবে না।
তিনি বলেন, ‘সব বাধা ও ষড়যন্ত্র অতিক্রম করে চলতি বছরই আমি আমার দেশে ফিরব।’
আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা দাবি করেন, আওয়ামী লীগ কোনো কাগুজে সংগঠন নয়; এটি দেশের ইতিহাস, মাটি ও মানুষের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত একটি রাজনৈতিক দল। দীর্ঘ ৭৭ বছরের ইতিহাসে দলটি বহু সংকট ও নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলা করেও জনগণের সমর্থনে বারবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কোনো সরকারের সদিচ্ছার ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং জনগণের সমর্থনের ওপরই নির্ভর করে। দলীয় কার্যালয় বন্ধ, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা কিংবা নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ সীমিত করা হলেও জনগণের হৃদয় থেকে আওয়ামী লীগকে মুছে ফেলা সম্ভব নয়।
ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা অভিযোগ করেন, বাংলাদেশবিরোধী একটি চক্র ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জনগণের একাংশকে বিভ্রান্ত করে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে সরিয়েছে। তবে মানুষের সমর্থন এখনো দলের পক্ষেই রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
বিএনপির সঙ্গে আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে গোপন যোগাযোগের গুঞ্জনও নাকচ করে দেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ ধরনের প্রচারণা ভিত্তিহীন এবং জনগণকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে ছড়ানো হচ্ছে। গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও রাজনৈতিক অধিকার কোনো গোপন সমঝোতার বিষয় নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আইও/