আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মুসলিম উম্মাহর শক্তি ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব ও পারস্পরিক সহযোগিতার মধ্যেই নিহিত বলে মন্তব্য করেছেন পবিত্র মসজিদুল হারামের খতিব শায়খ ড. ফয়সাল বিন জামিল গাজ্জাবি। তিনি বলেন, মুসলমানদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ও সংহতি কোনো ঐচ্ছিক বিষয় নয়; বরং এটি ঈমানি জীবনের অন্যতম মৌলিক ভিত্তি এবং শরিয়তের অপরিহার্য নির্দেশনা।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) ২৪ সফর ১৪৪৮ হিজরির জুমার খুতবায় তিনি এসব কথা বলেন।
খতিব বলেন, আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে ঘোষণা করেছেন, "নিশ্চয়ই মুমিনরা পরস্পর ভাই ভাই।" (সুরা আল-হুজুরাত: ১০)। এই ঈমানি ভ্রাতৃত্ব রক্তের সম্পর্ক, ভাষা, বর্ণ, গোত্র বা জাতিগত পরিচয়ের ঊর্ধ্বে। এটিই এমন এক বন্ধন, যার ওপর একটি ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী মুসলিম সমাজ প্রতিষ্ঠিত হয়।
তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বিখ্যাত হাদিস উদ্ধৃত করে বলেন, মুমিনরা পারস্পরিক ভালোবাসা, দয়া ও সহমর্মিতায় একটি দেহের মতো। দেহের কোনো একটি অঙ্গ অসুস্থ হলে পুরো দেহ জেগে থাকে এবং জ্বরে আক্রান্ত হয়। তিনি বলেন, একজন মুসলমান বিপদে পড়লে অন্য মুসলমানের উচিত তার পাশে দাঁড়ানো, তার কষ্ট ভাগ করে নেওয়া এবং সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করা।
শায়খ গাজ্জাবি বলেন, ঈমানি ভ্রাতৃত্ব রক্ষার জন্য হিংসা, বিদ্বেষ, সম্পর্কচ্ছেদ, পরস্পরের প্রতি ঘৃণা ও অবজ্ঞা থেকে দূরে থাকতে হবে। তিনি আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত একটি হাদিস উল্লেখ করে বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা একে অপরকে হিংসা করো না, পরস্পরের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করো না, সম্পর্ক ছিন্ন করো না; বরং আল্লাহর বান্দা হিসেবে পরস্পর ভাই হয়ে থাকো।
তিনি আরও বলেন, একজন মুসলমানের রক্ত, সম্পদ ও সম্মান অন্য মুসলমানের জন্য পবিত্র। তাই কোনো অবস্থাতেই অন্যায়, অবহেলা বা অপমানের মাধ্যমে এই সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করা যাবে না।
খুতবায় তিনি মুসলমানদের নেককাজ ও তাকওয়ার ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি কোরআনের নির্দেশনা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, তোমরা নেককাজ ও তাকওয়ায় একে অপরকে সহযোগিতা করো। (সুরা আল-মায়িদা: ২)
তিনি বলেন, সহযোগিতা শুধু দ্বীনি বিষয়েই নয়, মানুষের কল্যাণমূলক সব কাজেই প্রয়োজন। অজ্ঞকে শিক্ষা দেওয়া, পথভ্রষ্টকে সঠিক পথ দেখানো, অসহায় মানুষের প্রয়োজন পূরণ করা, বিপদগ্রস্তের কষ্ট লাঘব করা এবং সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠায় একে অপরকে সহায়তা করা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।
তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আরেকটি হাদিস উদ্ধৃত করে বলেন, বান্দা যতক্ষণ তার ভাইয়ের সাহায্যে নিয়োজিত থাকে, আল্লাহও ততক্ষণ তার সাহায্যে থাকেন।
খতিব বলেন, ইসলামী উম্মাহর শক্তির মূল উৎস হলো তাদের ঐক্য ও সংহতি। পক্ষান্তরে বিভক্তি ও পরস্পর বিরোধিতাই মুসলিম জাতির দুর্বলতার প্রধান কারণ। তাই মুসলমানদের উচিত পারস্পরিক ভালোবাসা, সম্প্রীতি ও সহযোগিতা বৃদ্ধি করা এবং সব ধরনের ফিতনা, বিরোধ ও বিভেদের কারণ থেকে নিজেদের দূরে রাখা।
তিনি বলেন, প্রত্যেক মুসলমান নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী দ্বীন ও সমাজের কল্যাণে অবদান রাখতে পারেন—কেউ জ্ঞানের মাধ্যমে, কেউ সম্পদের মাধ্যমে, কেউ প্রভাব-প্রতিপত্তি ব্যবহার করে, আবার কেউ মানুষকে সৎকাজের দিকে আহ্বান জানিয়ে। এভাবেই একটি শক্তিশালী, ঐক্যবদ্ধ ও কল্যাণমুখী মুসলিম সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। সূত্র: ইনসাইড দ্য হারামাইন
আারএইচ/