যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধ থামাতে মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান। তবে পাকিস্তান সরকারের এই মধ্যস্থতার কড়া সমালোচনা করেছেন দেশটির বিরোধী দলীয় নেতা এবং প্রখ্যাত আলেম মাওলানা ফজলুর রহমান। তিনি দাবি করেছেন শান্তি আলোচনার নামে পাকিস্তান সরকার কার্যত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) রাতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
মাওলানা ফজলুর রহমান বলেন, একদিকে ফিলিস্তিনে গণহত্যা চলছে, অন্যদিকে লেবানন ও ইরানে আগ্রাসন চালাচ্ছে ইসরাইল ও তার মিত্ররা। এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মাঝে পাকিস্তান সরকার যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতার নামে মূলত মার্কিন এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার একদিকে বিদেশি শক্তির তোষামোদি করছে, আর অন্যদিকে দেশের মানুষকে বোকা বানিয়ে রাখছে।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ জানিয়ে এই বর্ষীয়ান নেতা বলেন, সরকার দাবি করছে হরমুজ প্রণালী দিয়ে ১০টি তেলবাহী জাহাজ করাচি পৌঁছানোর অনুমতি পেয়েছে। যদি তাই হয়, তবে দেশে কেন বারবার তেলের দাম বাড়ানো হচ্ছে? এসব তেল কি তবে অন্য কোনো দেশে পাচার করা হয়েছে? জাতি জানতে চায় এই জাহাজগুলো আসলেও করাচিতে নোঙর করেছে কি না।
সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি একে ‘জাতির সঙ্গে তামাশা’ বলে উল্লেখ করেন। মাওলানা ফজলুর রহমান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যে সরকার নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নিতে পারে না এবং ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যর্থ নীতির পদাঙ্ক অনুসরণ করে, তারা জনগণের সেবা করতে পারে না। সরকারের এই ব্যর্থতা ও ভুল পররাষ্ট্রনীতির প্রতিবাদে আগামী ১২ এপ্রিল পাকিস্তানজুড়ে বড় ধরনের বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছেন তিনি।
জেডএম/