বুধবার, ১০ জুন ২০২৬ ।। ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ২৪ জিলহজ ১৪৪৭


কোরআনের ব্যাখ্যায় এআইনির্ভরতা, মিসরের গ্র্যান্ড মুফতির সতর্কতা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

পবিত্র কোরআনের তাফসির বা ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-এর ওপর এককভাবে নির্ভর করা শরিয়তসম্মত নয় বলে মন্তব্য করেছেন মিসরের গ্র্যান্ড মুফতি ড. নাজির আইয়াদ। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, পর্যাপ্ত ধর্মীয় জ্ঞান ও যোগ্য আলেমদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধান ছাড়া কেবল প্রযুক্তির মাধ্যমে কোরআনের অর্থ নির্ধারণ করা হলে প্রকৃত মর্ম বিকৃত হওয়ার বড় ঝুঁকি রয়েছে।

সম্প্রতি মিসরের রাষ্ট্রীয় ফতোয়া প্রদানকারী সংস্থা ‘দারুল ইফতা আল-মিসরিয়য়্যাহ’-এর দাপ্তরিক ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি এ সতর্কবার্তা দেন।

বিবৃতিতে ড. নাজির আইয়াদ উল্লেখ করেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অনেক ক্ষেত্রে তথ্য বিশ্লেষণে অনুমান ও জল্পনা-কল্পনার ওপর ভিত্তি করে উত্তর প্রদান করে, যা আল্লাহর বাণীর সঠিক মর্ম অনুধাবনের ক্ষেত্রে মারাত্মক বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। তাই কোনো প্রামাণ্য ধর্মীয় জ্ঞানের ভিত্তি ও বিশেষজ্ঞ আলেমের তত্ত্বাবধান ছাড়া এআইয়ের মাধ্যমে কোরআনের অর্থ নির্ণয় করা ইসলামি আইনের দৃষ্টিতে বৈধ নয়।

গ্র্যান্ড মুফতি আরও বলেন, কোরআনে কারিমের তাফসির করার অধিকার কেবল তাঁদেরই রয়েছে, যাঁদের তাফসির ও ফিকহ শাস্ত্রে গভীর জ্ঞান এবং এর স্বীকৃত পদ্ধতিগুলোর ওপর পূর্ণ দখল রয়েছে। যোগ্য আলেমদের নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ ছাড়া কোরআনের কোনো ব্যাখ্যা করা হলে তা ঐশী গ্রন্থটির মর্যাদা, পবিত্রতা ও গ্রহণযোগ্যতাকে দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

পবিত্র কোরআনের সঠিক ও নির্ভুল অর্থ অনুধাবনের জন্য মুসলমানদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানান গ্র্যান্ড মুফতি। তিনি আয়াতের মর্ম বুঝতে প্রতিষ্ঠিত ও নির্ভরযোগ্য তাফসির গ্রন্থসমূহ অধ্যয়ন অথবা বিশ্বস্ত আলেম ও স্বীকৃত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। 

এতে কোরআন বোঝার প্রক্রিয়া হবে আরও জ্ঞানভিত্তিক ও বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে নির্ভরযোগ্য, পাশাপাশি পবিত্র কোরআনের সুমহান মর্যাদাও অক্ষুণ্ন থাকবে।


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ