বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬ ।। ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ ।। ১৫ রমজান ১৪৪৭

শিরোনাম :
বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনে প্রার্থীদের আপিলের সুযোগ ১০ মার্চ পর্যন্ত ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্য প্রধানমন্ত্রীর ২৯৭ আসনের কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল প্রকাশ ইসির তালিকা করে চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী  মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে বিদ্যুৎ-জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে শঙ্কায় বাংলাদেশ ৬ সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট তিন বিষয়ে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ শুরুর নির্দেশ ডিএনসিসির ইরানে যেই দায়িত্ব নেবে, তাকেও হত্যার লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি ইসরায়েলের  ‘সরকারি কাজে কোনো ধরনের অবহেলা সহ্য করা হবে না’  ‘কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কারিগরি শিক্ষা খাতই হবে প্রধান চালিকাশক্তি’

আল-আজহারে ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে পালিত হলো পবিত্র ইসরাআ ও মেরাজ

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

জাহেদুল ইসলাম আল রাইয়ান

ইমানি আবহ ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পবিত্র ইসরাআ ও মেরাজের স্মরণে বিশেষ অনুষ্ঠান পালন করেছে আল-আজহার শরিফ। শুক্রবার সন্ধ্যায় মাগরিব নামাজের পর কায়রোর ঐতিহাসিক আল-আজহার মসজিদে এ আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন আল-আজহার শরিফের শীর্ষ আলেম, মিসর সরকারের মন্ত্রী, গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। অনুষ্ঠানটি মিসরের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও কোরআন কারিম রেডিওতে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আল-আজহার শরিফের উপ-মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আদ-দুওয়াইনি, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ড. উসামা আল-আজহারি, মিসরের গ্র্যান্ড মুফতি অধ্যাপক ড. নাজির আয়াদ, কায়রোর গভর্নর ড. ইব্রাহিম সাবির, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালামা দাউদ, ইসলামিক রিসার্চ একাডেমির মহাসচিব অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আল-জুন্দি, আশরাফ বংশধরদের প্রধান মাহমুদ আশ-শরিফ এবং সুফি তরিকার সর্বোচ্চ পরিষদের প্রধান ড. আবদুল হাদি আল-কাসাবিসহ বহু আলেম, চিন্তাবিদ ও অতিথি।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে ইসলামিক রিসার্চ একাডেমির সদস্য ও আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইব্রাহিম আল-হাদহাদ বলেন, ইসরাআ ও মেরাজ এমন এক মহান স্মৃতি, যা শুধু মানুষের হৃদয়েই নয়—আসমান ও জমিনকেও আনন্দিত করে। তিনি বলেন, এই অলৌকিক ঘটনা ছিল আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে রাসূলুল্লাহ সা. এর জন্য বিশেষ সম্মান ও মর্যাদার ঘোষণা এবং নবীজির ওপর নেমে আসা দুঃখ-কষ্টের পর তাঁর হৃদয়কে সান্ত্বনা ও দৃঢ়তা দানের এক অনন্য নিদর্শন।

তিনি আরও বলেন, এই ঘটনা মুসলিম উম্মাহকে আল্লাহর প্রতিশ্রুতি, সাহায্য ও পরিকল্পনার ওপর পূর্ণ আস্থা রাখার শিক্ষা দেয়। পাশাপাশি ইসরাআ ও মেরাজের সঙ্গে মসজিদুল আকসার গভীর সম্পর্কের কথা স্মরণ করে তিনি দোয়া করেন—আল্লাহ যেন মসজিদুল আকসাকে আবার স্বাধীনভাবে মুসলমানদের কোলে ফিরিয়ে দেন এবং সমস্ত ইসলামি পবিত্র স্থানকে হেফাজত করেন।

অন্যদিকে, আল-আজহার শরিফের কুরআন বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ড. আবু আল-ইয়াজিদ সালামা বলেন, ইসরাআ ও মেরাজ মুসলমানদের জীবনে এক মহান ইমানি অধ্যায়, যার মাধ্যমে বিশ্বাস, ধৈর্য ও অবিচলতার শিক্ষা নতুন করে হৃদয়ে জাগ্রত হয়। তিনি বলেন, কোরআন ও সহিহ হাদিসের স্পষ্ট প্রমাণ অনুযায়ী ইসরাআ ও মেরাজ রূহ ও দেহ—উভয়ভাবেই সংঘটিত হয়েছে এবং এ বিষয়ে উম্মাহর মধ্যে সুস্পষ্ট ঐকমত্য রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এই আসমানি সফর ছিল রাসূলুল্লাহ সা. এর রিসালাতের সার্বজনীনতা ও শেষত্বের এক জীবন্ত প্রমাণ। মসজিদুল আকসায় সকল নবীকে একত্রিত করে তাঁদের ইমাম হিসেবে রাসূল সা. এর নামাজ আদায় ছিল নবুয়তের ঐক্য ও ধারাবাহিকতার এক অনুপম দৃশ্য। এত উচ্চ মর্যাদার অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও রাসূল সা. এর বিনয় ছিল অনন্য—তিনি জিবরাইল আ. এর নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত ইমামতিতে অগ্রসর হননি।

উল্লেখ্য, আল-আজহার শরিফ নিয়মিতভাবে এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় দিবস পালন করে আসছে, যার মাধ্যমে তারা ইসলামের সঠিক শিক্ষা প্রচার, ধর্মীয় সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মুসলিম সমাজকে তাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে দৃঢ়ভাবে যুক্ত রাখতে ভূমিকা রেখে চলেছে।

লেখক কলামিস্ট ও শিক্ষার্থী, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়,কায়রো,মিশর


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ