শনিবার, ১০ জানুয়ারি ২০২৬ ।। ২৫ পৌষ ১৪৩২ ।। ২১ রজব ১৪৪৭

শিরোনাম :
মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে সংঘর্ষে বাসের ভেতরে মোটরসাইকেল, নিহত ২ রাজধানীতে ভয়াবহ গ্যাস সংকট, কেন ঢাকার বহু এলাকায় গ্যাস নেই? আগামী নির্বাচন ৫০ বছরের ভাগ্য নির্ধারণ করবে: ফাওজুল কবির খান স্বপ্নেই চিনেছিলেন সন্তানের কবর, ডিএনএ মিলল সেই গাছের নিচেই ভারতে এবার পশু চুরির অপবাদে মুসলিম ব্যক্তিকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের গাইডলাইন’ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হাসনাতের মনোনয়ন বাতিল চেয়ে ইসিতে আবেদন বিএনপি প্রার্থীর একপক্ষীয় নির্বাচনের শঙ্কা দেখা দিয়েছে: পীর সাহেব চরমোনাই সিরাজগঞ্জে রেললাইনে কাঠ দিয়ে জোড়াতালি আইনুল হক কাসিমীসহ গ্রেপ্তার আলেমদের অবিলম্বে মুক্তি দাবি

পাকিস্তান থেকে জেএফ-১৭ কিনছে সৌদি আরব

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

পাকিস্তানে থেকে জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান কিনতে যাচ্ছে সৌদি অরব। দেশটিকে দেওয়া প্রায় ২০০ কোটি ডলারের ঋণকে যুদ্ধবিমান চুক্তিতে রূপান্তর করার বিষয়ে আলোচনা করছে।

পাকিস্তানের দুটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বলে জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স। বৃহস্পতিবার (০৮ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, সম্ভাব্য চুক্তির মোট মূল্য হতে পারে ৪০০ কোটি ডলার, যার মধ্যে ঋণ রূপান্তরের বাইরে অতিরিক্ত ২০০ কোটি ডলারের সামরিক সরঞ্জাম অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। আলোচনা সম্পর্কে অবগত সামরিক সূত্রগুলো নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসব তথ্য জানায়। পাকিস্তানের তীব্র আর্থিক চাপের মধ্যে এ তথ্য সামনে এসেছে।

একটি সূত্র জানিয়েছে, আলোচনার মূল বিষয় জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান, যা পাকিস্তান ও চীনের যৌথভাবে উন্নয়ন করা হালকা যুদ্ধবিমান এবং পাকিস্তানেই উৎপাদিত হয়। অন্য সূত্রটি বলেছে, জেএফ–১৭ই প্রধান বিকল্প হলেও আরও কিছু সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে। তবে পাকিস্তানের সামরিক, অর্থ ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সৌদি সরকারের গণমাধ্যম দপ্তর এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।

পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে জানানো হয়, পাকিস্তান বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল জহির আহমেদ বাবর সিধু চলতি সপ্তাহে সৌদি আরব সফর করেন এবং তার সৌদি সমকক্ষ লেফটেন্যান্ট জেনারেল তুর্কি বিন বান্দার বিন আবদুলআজিজের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেন।

অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল ও বিশ্লেষক আমির মাসুদ বলেন, পাকিস্তান বর্তমানে ছয়টি দেশের সঙ্গে জেএফ–১৭, ইলেকট্রনিক সিস্টেম ও অস্ত্র সরবরাহ নিয়ে আলোচনা করছে বা চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। তিনি জানান, সৌদি আরবও এই তালিকায় রয়েছে, তবে নির্দিষ্ট কোনো চুক্তির বিস্তারিত নিশ্চিত করেননি।

তিনি জানান, যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত হওয়ায় জেএফ-১৭-এর বাজারযোগ্যতা বেড়েছে, পাশাপাশি এটি তুলনামূলকভাবে ব্যয়সাশ্রয়ী। পাকিস্তান দাবি করেছে, গত বছর মে মাসে ভারতের সঙ্গে সংঘাতে এই বিমান ব্যবহৃত হয়েছিল, যা দুই প্রতিবেশীর মধ্যে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে তীব্র সংঘর্ষ ছিল।

গত সেপ্টেম্বর স্বাক্ষরিত পাকিস্তান-–সৌদি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বলা হয়েছে, কোনো এক পক্ষের ওপর আগ্রাসন হলে তা উভয়ের ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচিত হবে—যা কয়েক দশকের নিরাপত্তা সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দেয়।

পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই সৌদি আরবকে সামরিক প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিয়ে আসছে। অন্যদিকে সৌদি আরব বারবার পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সংকটে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে। ২০১৮ সালে রিয়াদ ৬০০ কোটি ডলারের সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেছিল, যার মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ৩০০ কোটি ডলারের আমানত এবং ৩০০ কোটি ডলারের তেল ছিল স্থগিত পরিশোধ সুবিধায়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই আমানত একাধিকবার নবায়ন করা হয়েছে।

রয়টার্স জানিয়েছে, পাকিস্তান সাম্প্রতিক মাসগুলোতে অস্ত্র রপ্তানি বাড়াতে সক্রিয় হয়েছে। গত মাসে দেশটি লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মির সঙ্গে ৪০০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের অস্ত্র চুক্তি করে, যাতে জেএফ–১৭ যুদ্ধবিমান ও প্রশিক্ষণ বিমান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বাংলাদেশকেও জেএফ–১৭ বিক্রির বিষয়ে আলোচনা চলছে।

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ সম্প্রতি বলেছেন, দেশটির অস্ত্র শিল্পের সাফল্য অর্থনীতির চেহারা বদলে দিতে পারে। তিনি বলেন, আমাদের বিমানগুলো পরীক্ষিত। এত অর্ডার আসছে যে ছয় মাসের মধ্যে পাকিস্তানের আইএমএফের প্রয়োজন নাও হতে পারে।


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ