দারুননাজাত একাডেমি ‘রত্নগর্ভা মা অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’ পেয়েছেন ৩৩ নারী। সন্তানের রেজাল্ট, কো-কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিসসহ বাৎসরিক সার্বিক সফলতার ওপর ভিত্তি করে এই অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকালে দারুননাজাত একাডেমি অডিটরিয়ামে ৩৩ জন মায়ের হাতে অ্যাওয়ার্ড তুলে দেওয়া হয়।
‘রত্নগর্ভা মা অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’ অনুষ্ঠানে একাডেমির সিইও নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা পাহাড় চূড়ায় উঠলে আর উপরে ওঠার কিছু থাকে না। তখন শীর্ষ চূড়া ধরা রাখতে হয়। আমাদের সন্তানদের বেলায়ও একই নিয়ম। তাদের শীর্ষস্থান ধরে রাখতে হবে। লেখাপড়ার পাশাপাশি কো-কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিস ও আমল-অখরাকের প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে।’
সিইও বলেন, ‘সন্তানকে মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে মায়ের অবদান সীমাহীন। ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা একদিন এই জাতির পথপ্রদর্শক হবে। পৃথিবীর অমূল্য সম্পদ হবে। ইমাম শাফেয়ী, আহমদ ইবনে হাম্বল, ইমাম বুখারি, ইমাম গাজজালিসহ অসংখ্য সফল মানুষকে তাদের মা মানুষ করেছেন। মায়েদের অপরিসীম ত্যাগ, সীমাহীন কষ্ট ও দিনের পর দিন সন্তানকে মানুষ করার আপ্রাণ প্রয়াস থেকে তারা মহান হয়েছেন।’
দারুননাজাত একাডেমির ইনচার্জ মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমাদের পিতৃতান্ত্রিক সমাজ মায়েদের অবদান সেভাবে স্বীকার করতে পারে না। মনে করে পুরুষ সারা দিন অফিস করে। বাইরে থাকে। মা তো ঘরে বসে থাকেন। তেমন কষ্ট তার হয় না। কিন্তু সন্তান মানুষ করতে ঘুম ছড়া বাকি পুরোটা সময় মাকে ফিকির করেই কাটাতে হয়। সে-কারণে মায়েদের কষ্টের কথা ইসলামে বারবার এসেছে। আমরাও তাই আপনার সন্তানকে নিয়ে আপনি যে ত্যাগ স্বীকার করছেন তার একটা প্রাথমিক স্বীকৃতি দিচ্ছি মাত্র। আমরা আশা করি এর মাধ্যমে আপনি আপনার সন্তানের সফলতার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে সক্ষম হবেন।’
দারুনননাজাত একাডেমির অধ্যক্ষ মাওলানা জিয়াউল হক বলেন, ‘মায়ের অবদান সম্পর্কে কুরআন, হাদিসসহ বহু গ্রন্থে বহু আলোচনা এসছে। মনিষী, বিজ্ঞানী ও সফল ব্যক্তির জীবনী পড়লে দেখা যায়, একজন সাধারণ মানুষ থেকে অসাধারণ হয়ে ওঠা, মনিষী হয়ে ওঠা, সফল হয়ে ওঠার পেছনে সবচেয়ে বেশি আবদান রাখা ব্যক্তিই হলেন মা। মায়ের অবদান চিরকালই অসামান্য।’
‘রত্নগর্ভা মা অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’ বিজয়ী ইফাত ফারজানা বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ! দারুননাজাত একাডেমি আমাদের সম্মানিত করছেন। অন্য প্রতিষ্ঠান এভাবে হয়তো চিন্তা করে না। করতে পারে না। এই দিকে দারুননাজাত একাডেমি অনন্য। এখানে যারা পুরস্কার পাননি তাদের অনেকেও এই পুরস্কারের যোগ্য। প্রতিষ্ঠানে যোগ্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক। এই পুরস্কার আমাদের সফলতার ধারা অব্যাহত রাখতে সহায়তা করবে, ইনশাআল্লাহ।
আরেক বিজয়ী তামিমা মাসুম বলেন, ‘দারুননাজাত একাডেমি মাত্র দুই বছরে শিক্ষায় যে অসামন্য কাজ করেছে তা বিরল। একাডেমি এগিয়ে যাক দুর্বার গতিতে। একাডেমি তার সফলতা ধরে রাখলে অচিরেই দেশ ও জাতির সম্পদ হয়ে উঠবে। আমি আমার সন্তানের সার্বিক উন্নয়নে গর্বিত। আমার সন্তান গত বছরও এই সফলতার অংশীদার করেছে আমাকে। আমি আমার সন্তানের জন্য দোয়া চাই।’
‘রত্নগর্ভা মা অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’ পেয়েছেন ইতি আকতার, রোজিনা সুলতানা, মনসুরা আকতার, সুমাইয়া আকতার তামিমা, রিয়াজুল জান্নাত পিংকী, কামরুন নাহার, সাবিনা আকতার, সারমিন আকতার, ইফাত ফারজানা, ফারজানা আকতার, জান্নাতুল ফেরদাউস, আসমা আকতার রত্না, রায়হানা খাতুন, মাকসুদা আকতার, বিউটি আকতার, শামসুন্নাহার, খাইরুননেছা, আসমা সুলতানা, মাহমুদা সুলতানা, সুমাইয়া, নাসরিন সুলতানা রিমো, মারজিনা আকতার, ফিরোজা আকতার, নিপা আকতার, সাদিয়া আকতার, রুমানা ইয়াসমিন, আছিয়া আকতার বেলী, রুমা আকতার, সৈয়দা আয়শা খাতুন, সাজেদা আকতার, আফরোজা অকতার, রওশন আরা ও মৃত্তিকা জামান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দারুননাজাত একাডেমির বাংলা প্রভাষক শাকিল আহমেদ, গণিত প্রভাষক খাদিজা আকতার প্রমুখ।
আরএইচ/