সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬ ।। ৩ কার্তিক ১৪৩৩ ।। ৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ ৮০ শতাংশে ফিরেছে: যুক্তরাষ্ট্র স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অংশ নিতে কোনো বাধা নেই ফজরের পর ঝাড়ু দেওয়া এখন আর দেখা যায় না: প্রধানমন্ত্রী কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন: প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের বিষয়ে আইনমন্ত্রী ‘দেশের প্রায় অর্ধেক পরিবার ঋণগ্রস্ত, অর্থনীতির সাফল্যের দাবি অর্থহীন’ ঐতিহাসিক ‘ইএসডিপি-এমওসি’ চুক্তি সই, ১ এপ্রিল থেকে কর্মী নেবে জাপান ওসমানী উদ্যানে ‘জুলাই স্মৃতি স্তম্ভ’ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী সৌদিতে শহীদ মুফতি নাসরুল্লাহ বদরের পরিবারের পাশে খিদমাতুল ইসলাম পরিষদ বিশ্ববাসীকে ফিলিস্তিনিদের কথা ভুলে না যাওয়ার আহ্বান পেপ গার্দিওলার ১৯ অক্টোবর ২০২৬-এর নামাজের সময়সূচি

‘দেশের প্রায় অর্ধেক পরিবার ঋণগ্রস্ত, অর্থনীতির সাফল্যের দাবি অর্থহীন’

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের প্রায় ৪৭ দশমিক ৪২ শতাংশ পরিবার ঋণগ্রস্ত এবং পরিবারের গড় মাসিক আয়ের তুলনায় ব্যয় বেশি হওয়ার তথ্যকে দেশের সাধারণ মানুষের গভীর অর্থনৈতিক সংকটের এক ভয়াবহ চিত্র হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির অর্থ বিষয়ক সচিব মাওলানা ইরশাদ বিন জালাল।

তিনি বলেন, নিত্যপণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের সংকট ও মানুষের প্রকৃত আয় কমে যাওয়ার ফলে সাধারণ পরিবারগুলো আজ ঋণের বোঝা টানতে বাধ্য হচ্ছে। মানুষের আয় দিয়ে যখন সংসার চলে না, তখন উন্নয়নের বুলি শুনিয়ে জনগণের দুর্দশা আড়াল করার কোনো সুযোগ নেই।

রবিবার (১৮ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন। 

মাওলানা ইরশাদ বিন জালাল বলেন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর  লিভিং স্ট্যান্ডার্ড সার্ভে ২০২৫ অনুযায়ী, জাতীয় পর্যায়ে ৪৭ দশমিক ৪২ শতাংশ পরিবার ঋণগ্রস্ত। গ্রামীণ এলাকায় এই হার ৫১ দশমিক ৯১ শতাংশ, শহরাঞ্চলে ৪০ দশমিক ১৯ শতাংশ এবং সিটি করপোরেশন এলাকায় ৩২ দশমিক ১১ শতাংশ। জরিপ অনুযায়ী, পরিবারপ্রতি মাসিক গড় আয় ৩৩ হাজার ৫১৩ টাকা হলেও গড় ব্যয় ৩৫ হাজার ৩১১ টাকা। অর্থাৎ মাসে গড়ে ১ হাজার ৭৯৮ টাকা ঘাটতি নিয়েই পরিবারগুলোকে চলতে হচ্ছে। আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি হলে মানুষ সঞ্চয় করবে কীভাবে, ঋণ শোধ করবে কীভাবে, আর ভবিষ্যৎই বা গড়বে কীভাবে? এই পরিসংখ্যান সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ভেঙে পড়ার স্পষ্ট সংকেত।

তিনি বলেন, ২০২২ সালের খানা আয় ও ব্যয় জরিপে পরিবারের গড় মাসিক আয় ছিল ৩২ হাজার ৪২২ টাকা এবং ব্যয় ছিল ৩১ হাজার ৫০০ টাকা। তখন সামান্য উদ্বৃত্ত থাকলেও বর্তমান জরিপে আয়-ব্যয়ের ব্যবধান ঘাটতিতে পরিণত হয়েছে। সিটি করপোরেশন এলাকায় গড় মাসিক ব্যয় ৪৬ হাজার ৭৭৮ টাকা, যা জাতীয় গড়ের চেয়ে অনেক বেশি। দীর্ঘস্থায়ী উচ্চ মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থানের স্থবিরতা ও প্রকৃত মজুরি কমে যাওয়ায় মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। বিশ্বব্যাংকের ৬ অক্টোবর প্রকাশিত বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, দারিদ্র্যের হার ২০২২ সালের ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে ২০২৬ সালে ২২ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। এ অবস্থায় অর্থনৈতিক দুরবস্থাকে বিচ্ছিন্ন সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি নীতিগত ব্যর্থতা ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর ক্রমবর্ধমান চাপের গুরুতর সতর্কবার্তা।

মাওলানা ইরশাদ বিন জালাল আরও বলে, যে অর্থনীতিতে বিপুলসংখ্যক পরিবার ঋণ করে খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মেটায়, সেই অর্থনীতির সাফল্য নিয়ে আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই। সরকারকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, নিত্যপণ্যের বাজারে কার্যকর নজরদারি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শ্রমজীবী মানুষের প্রকৃত আয় বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে কাজের সুযোগ বাড়াতে জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারের জন্য কার্যকর সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। জনগণকে ঋণের বোঝায় ডুবিয়ে রেখে রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অগ্রগতির দাবি অর্থহীন। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ফিরিয়ে আনা ও পরিবারগুলোকে ঋণের ফাঁদ থেকে রক্ষা করাই এখন সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ