নিজস্ব প্রতিবেদক
গুম প্রতিরোধে বাতিল হওয়া ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, ২০২৫’ পুনর্বহাল করে তা আইনে পরিণত করার দাবি জানিয়েছে খেলাফত মজলিস। একই সঙ্গে গুমের অভিযোগ তদন্তে একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী তদন্ত সংস্থা গঠনেরও দাবি জানিয়েছে দলটি।
আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে রোববার (৩০ আগস্ট) দেওয়া এক বিবৃতিতে এ দাবি জানান খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ ও মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের।
বিবৃতিতে গুমের শিকার নিরপরাধ ব্যক্তিদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে তাঁদের শোকাহত ও প্রতীক্ষারত পরিবার-পরিজনের প্রতি সমবেদনা জানান দলটির দুই শীর্ষ নেতা।
তারা অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রণীত ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, ২০২৫’ বাতিল করে বর্তমান সরকার গুমের সঙ্গে জড়িতদের দায়মুক্তির সুযোগ তৈরি করতে চায়।
খেলাফত মজলিসের নেতারা বলেন, মূল অধ্যাদেশে গুমের অভিযোগ প্রমাণিত হলে মৃত্যুদণ্ডসহ কঠোর কারাদণ্ডের বিধান ছিল। কিন্তু প্রস্তাবিত নতুন বিলে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। একইভাবে মূল অধ্যাদেশে গুমের বিচার করতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের কথা থাকলেও প্রস্তাবিত বিলে সাধারণ দায়রা জজ আদালতে বিচার করার কথা বলা হয়েছে।
তারা আরও বলেন, মূল অধ্যাদেশে গুমকে ‘চলমান অপরাধ’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া এবং গোপন আটক কেন্দ্র স্থাপনকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। বিপরীতে নতুন বিলে গুমের সংজ্ঞা সীমিত করা হয়েছে।
খেলাফত মজলিসের নেতাদের মতে, প্রস্তাবিত নতুন বিলের মাধ্যমে কার্যকরভাবে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার সম্ভব নয়। তাই বাতিল হওয়া অধ্যাদেশটিকেই আইনে পরিণত করার পাশাপাশি গুমের অভিযোগ তদন্তের জন্য আলাদা স্বাধীন ও নিরপেক্ষ শক্তিশালী সংস্থা গড়ে তোলা জরুরি।
বিবৃতিতে তারা গুমের ঘটনায় জড়িতদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ সুগম করতে কার্যকর আইন ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
আইও/