নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হামলা, সংঘর্ষ ও সহিংসতার অভিযোগ তুলে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ। একই সঙ্গে শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস ও সহিংস রাজনীতি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে এ দাবি জানান ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুনতাছির আহমাদ এবং সেক্রেটারি জেনারেল সুলতান মাহমুদ।
বিবৃতিতে তারা অভিযোগ করেন, ঢাকা কলেজ শাখার সহ-সভাপতি রাইসুল ইসলামসহ সংগঠনের দায়িত্বশীল নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রদলের হামলা, ঢাকা আলিয়ায় ছাত্রশিবিরের ভাঙচুর এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন ক্যাম্পাসে সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনায় তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।
নেতৃদ্বয় বলেন, শিক্ষাঙ্গন জ্ঞানচর্চা, নৈতিকতা ও সুস্থ রাজনৈতিক বিকাশের কেন্দ্র। সেখানে হামলা, দখলদারিত্ব, অস্ত্রের মহড়া ও সহিংসতার কোনো স্থান নেই। ভিন্নমতকে যুক্তি ও আদর্শের মাধ্যমে মোকাবিলা না করে শক্তি প্রয়োগের সংস্কৃতি ছাত্ররাজনীতির জন্য অশনিসংকেত।
তারা আরও বলেন, জুলাই-পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাসম্পন্ন ক্যাম্পাস প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা সেই প্রত্যাশাকে ব্যাহত করছে। অতীতে শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে যে অবস্থান নেওয়া হয়েছিল, তার পরিবর্তে নতুন করে সহিংস রাজনৈতিক সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি উদ্বেগজনক বলেও মন্তব্য করেন তারা।
বিবৃতিতে নেতারা বলেন, ছাত্ররাজনীতি হতে হবে নৈতিকতা, আদর্শ, শিক্ষার্থীদের অধিকার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে। পেশিশক্তি, ভয়ভীতি ও অস্ত্রের মাধ্যমে ক্যাম্পাস নিয়ন্ত্রণের সব ধরনের অপচেষ্টা বন্ধ করতে হবে।
ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ অবিলম্বে সাম্প্রতিক হামলাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানায়। একই সঙ্গে সব ছাত্রসংগঠনের প্রতি সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং শান্তিপূর্ণ শিক্ষাঙ্গন গড়ে তুলতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।
আইও/