নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির শায়খুল হাদিস মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হক বলেছেন, গণভোটের রায়ের ভিত্তিতে জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কারের দাবিতে চলমান আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে। একই সঙ্গে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, দেশের সার্বিক বাস্তবতা ও জনগণের স্বার্থ বিবেচনায় রেখে দল ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
শনিবার (১ আগস্ট) রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ২০২৫–২০২৬ সেশনের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার তৃতীয় অধিবেশনে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশন পরিচালনা করেন দলের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ।
মামুনুল হক বলেন, ইসলাম, দেশ ও জনগণের বৃহত্তর কল্যাণকে সামনে রেখেই দলের সব কর্মসূচি ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নির্ধারিত হবে। তিনি বলেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন অপরিহার্য। এ লক্ষ্য অর্জনে আন্দোলনকে আরও সুসংগঠিত, শক্তিশালী ও কার্যকর করার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি কোনো বক্তব্য বা রাজনৈতিক পদক্ষেপ যেন চলমান আন্দোলনকে দুর্বল না করে এবং জাতীয় ঐক্যে বিভেদ সৃষ্টি না করে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতির ওপর গুরুত্বারোপ করে খেলাফত মজলিসের আমীর বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা ও সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকারের সব স্তরের নির্বাচনের জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। যোগ্য, সৎ, দক্ষ ও জনস্বার্থে নিবেদিত প্রার্থী বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রতিটি এলাকায় শক্তিশালী সাংগঠনিক ভিত্তি গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
অধিবেশনে অভিভাবক পরিষদের অন্যতম সদস্য শায়খুল হাদীস মাওলানা আকরাম আলী, নায়েবে আমীর মাওলানা রেজাউল করীম জালালী, শায়খুল হাদীস মাওলানা আলী উসমান, শায়খুল হাদীস মুফতি সাঈদ নূর ও মাওলানা কোরবান আলী কাসেমী বক্তব্য দেন। এছাড়া কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম, দাওয়াতি কার্যক্রম, অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, প্রচার, প্রকাশনা, যুব ও ছাত্র কার্যক্রমসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিবেদন ও প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন দলের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতারা।
সভায় সর্বসম্মতিক্রমে নয় দফা প্রস্তাব গৃহীত হয়। প্রস্তাবে সংবিধানে ‘আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ পুনঃস্থাপন, কুরআন-সুন্নাহবিরোধী আইন ও নীতিমালা অকার্যকর ঘোষণার সাংবিধানিক বিধান সংযোজন, আল্লাহ, রাসূল (সা.) ও ইসলামের অবমাননার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে আইন প্রণয়ন এবং জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়।
এছাড়া গাজায় চলমান হামলা বন্ধে কার্যকর আন্তর্জাতিক উদ্যোগ, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, ভারতে মুসলিমদের ওপর নির্যাতন বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা, কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা, সীমান্তে বিএসএফের অবৈধ পুশ-ইন বন্ধ, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দুর্নীতি দমন এবং ইসলামী খেলাফত প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য জোরদারের আহ্বান জানানো হয়।
প্রস্তাবে হবিগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিরোধী রাজনৈতিক দলের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলার নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং সব রাজনৈতিক দলের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়।
আইও/