|| সলিমুদ্দীন মাহদী কাসেমী ||
রোববার রাতে জাতীয় সংসদে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জামায়াতে ইসলামীর আকিদা-বিশ্বাস সম্পর্কিত কয়েকটি মৌলিক প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন। রাজনৈতিক মতভেদ এক বিষয়, কিন্তু আকিদার প্রশ্ন মুসলিম সমাজের কাছে অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই এ নিয়ে দ্ব্যর্থহীন বক্তব্য দেওয়া সময়ের দাবি।
যেসব বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রত্যাশিত:
১. ‘ক্ষমতায় গেলে শরিয়াহভিত্তিক আইন প্রতিষ্ঠা’ সম্পর্কে তাদের নীতিগত অবস্থান কী? তারা কি ইসলামী শরিয়াহ বাস্তবায়নকে তাদের আদর্শিক ও সাংবিধানিক লক্ষ্য হিসেবে ধারণ করে, নাকি এ বিষয়ে তাদের অবস্থানের পরিবর্তন হয়েছে?
২. ‘ইসমতে আম্বিয়া (আলাইহিমুস সালাম)’ অর্থাৎ নবীগণের নিষ্পাপ হওয়ার আকিদা সম্পর্কে তাদের স্পষ্ট বিশ্বাস কী? এ বিষয়ে কোনো অস্পষ্টতা বা বিতর্ক থাকলে তা পরিষ্কার করা জরুরি।
৩. সাহাবায়ে কেরাম (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-মুসলিম উম্মাহর জন্য ‘মেয়ারে হক’ (সত্য যাচাইয়ের মানদণ্ড) এবং অনুসরণীয় আদর্শ কি না, এ বিষয়ে তাদের সুস্পষ্ট বক্তব্য প্রয়োজন।
৪. জামায়াতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠালগ্নের স্লোগান ‘আন আকীমুদ্দীন’ পরবর্তীতে কেন তাদের আনুষ্ঠানিক পরিচয় ও লোগো থেকে বাদ দেওয়া হলো? এর পেছনে আদর্শগত, সাংগঠনিক বা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, সেটিও জাতির সামনে স্পষ্ট হওয়া উচিত।
এসব প্রশ্ন নতুন নয়। অতীতেও উপমহাদেশের আকাবির আলেমগণ মাওলানা আবুল আ'লা মওদূদী (রহ.)-এর কিছু বক্তব্যের ভিত্তিতে আপত্তি উত্থাপন করেছিলেন। আজ যখন বিষয়গুলো আবার আলোচনায় এসেছে, তখন নীরবতা নয়, দ্ব্যর্থহীন ব্যাখ্যা দেওয়াই সময়ের দাবি। আকিদার প্রশ্নে অস্পষ্টতার কোনো অবকাশ নেই। মুসলিম সমাজের কাছে জামায়াতে ইসলামীর সুস্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরা এখন অত্যন্ত জরুরি।
লেখক: তত্ত্বাবধায়ক, তাফসির বিভাগ, জামিয়া ইসলামিয়া পটিয়া
আইও/