|| যুবায়ের আহমদ ||
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিদের সামনে দেওয়া ১ ঘন্টার পুরো বক্তব্য শুনলাম। মুগ্ধতা অনেক বাড়ল। মনে হচ্ছিল, এমন একজন মানুষ, যিনি বাংলাদেশি সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব করেন।
বক্তব্যে জাতির দাদা, জাতির মা এসব কোথাও নেই। অহঙ্কার নেই, পুরো বক্তব্যজুড়ে বিনয়৷ চোখমুখে দেশ নিয়ে স্বপ্ন। তিনি বাংলাদেশকে লালন করেন।
রাষ্ট্র পরিচালনায় কতটা সফল হচ্ছেন তা বলতে বছরখানেক সময় নিতে হবে। কিন্তু তাঁর বিদেশ সফরে কূটনৈতিক একটি বার্তা আছে। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেছেন, বিজয়ী হবার পর মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ড. আনোয়ার ইবরাহিম তাঁকে প্রথমদিকে অভিনন্দন জানান। তার মানে আনোযার ইবরাহিম বাংলাদেশ নিয়ে চোখ রাখছিলেন। তিনি সে বন্ধুত্বকে মূল্যায়ন করলেন। সে দেশেই আগে গেলেন। মালয়েশিয়ার সঙ্গে আমাদের ধর্মীয়, শিক্ষা, সংস্কৃতি অনেককিছুর মিল। বলতে পারেন, মালয়েশিয়া কিছুটা শিক্ষা, সংস্কৃতি ও অর্থনীতিতে মডেলও হতে পারে। সে দিকেই আমাদের প্রধানমন্ত্রীর সফর ইঙ্গিত করছে।
দ্বিতীয়ত, তাঁর পুরো বক্তব্যে বাংলাদেশের খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড নিয়ে কথা আছে। একবারও ক্বিরাত প্রতিযোগিতা তার মুখ থেকে বাদ যায়নি। আমার মনে হলো, ববি হাজ্জাজরা যা-ই চাক, প্রধানমন্ত্রী যে সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে চান তাতে ধর্ম অনেক শক্তিশালী জায়গায় থাকবে। এর ব্যাখ্যা দেব ইনশাআল্লাহ!
আরেকটা বিষয় ভালো লাগল, ব্যক্তিগত জীবনে ইসলামের চর্চা, বক্তব্যে আল্লাহর প্রতি অবিচল আস্থা, বিশ্বাসের প্রমাণ পাওয়ার মতো অনেককিছু আছে। তার স্ত্রীকে সম্মানের সঙ্গে আপনি বলে সম্বোধন করেছেন। তার স্ত্রী পুরো পর্দা করেন না। কিন্তু একদম শালীন পোশাক পরেন, এটা বাংলাদেশি সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব করে৷
তাকে কাজ করতে দেওয়া দরকার। সবদিক থেকে সমর্থন করা উচিত। বিরোধী দলও সতর্ক থাকা দরকার। বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা না করে এমন কোনো কাজ যদি তিনি করতে যান, যেটা রাষ্ট্রের জন্য ভালো হবে না; আন্তরিকভাবে তাকে আগে বলা দরকার। যেহেতু তিনি আন্তরিক। হ্যাঁ, তাতেও কাজ না হলে তাকে ভুল থেকে রক্ষা করতেই বিরোধী দল কঠোর ভূমিকায় যাবে। যেতে হবে। এটাই তাদের দায়িত্ব৷ কিন্তু সেটা হতে হবে দেশের স্বার্থে, দলের স্বার্থে নয়।
জ্বালানি ও ভোজ্য তেল, নিত্য প্রযোজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়ানো ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যেন স্বাভাবিক থাকে এ নিয়ে বিরোধী দল কঠোরভাবে সরকারকে চাপে রাখতে পারে।
সরকার সফল হবার জন্য একটি গুড টিম প্রয়োজন। শুধু প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতা থাকলেই হবে না। শুধু তাঁর স্বপ্ন থাকলেই হবে না৷ স্বপ্ন বাস্তবায়নে 'মন্ত্রীসভা' নামক যে টিম আছে তা যতটা প্রোডাক্টিভ হবে, সরকার ততটা সফল হবে। মন্ত্রিসভায় কয়েকজন লোক আছে ফিটনেসবিহীন। ববি হাজ্জাজসহ এ কয়জনকে সরকারের উচিৎ বাদ দেওয়া। অন্তত দফতর পরিবর্তন। শিক্ষায় ববি ফিট না। সে বাংলাদেশি সংস্কৃতিতে বিশ্বাস করে বলে মনে হয় না। প্রয়োজনে তাকে উজিরে খামোখা পদে রাখা যেতে পারে।
সরকারকে সফল করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে আইনশৃংখলায়। এসব স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাজ। দেশের একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমি মনে করি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোটামুটি স্থিতিশীল থাকলেও অগ্রগতিতে আমি সন্তুষ্ট না। অবশ্য বিগত আমলে গড়ে তোলা পুলিশবাহিনীকে রিফর্ম করতে সময় লাগবে। কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এদিকে নাজর বেশি দিলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অগ্রগতি বাড়বে।
গাইবান্ধায় যে শিবিরকর্মীকে হত্যা করা হলো, দ্রুততম সময়ে ঘাতককে গ্রেফতার করে একটা বার্তা দেবার দরকার ছিল যে, এ ধরণের অন্যায় করলে দলের লোকজনকেও ছাড় নয়৷ তাহলে দলীয় লোকজন অন্যায-অপরাধ করতে ভয় পেতো। শিবিরকর্মীর কোনো ভুল থাকতে পারে, তাকে হত্যা করার অধিকার কে দিল যুবদল নেতাকে? এসবকে শায়েস্তা করার দাযিত্ব তো সরকারেরই। ওই ঘাতক এখনও গ্রেফতার না হওয়া নেতিবাচক ইঙ্গিত। প্রয়োজনে একজন যোগ্য প্রতিমন্ত্রী নিযোগ দেওয়া দরকার। যিনি কঠোরভাবে শুধু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দেখবেন।
লেখক: কলামিস্ট, খতিব ও শিক্ষক
আইও