মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬ ।। ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ ।। ১৪ সফর ১৪৪৮

শিরোনাম :

টুথপেস্টে বিষ, ফিরুন সুন্নতি মিসওয়াকে!


নিউজ ডেস্ক

নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: আওয়ার ইসলাম

|| ফিয়াদ নওশাদ ইয়ামিন ||

সকালবেলা ঘুম থেকে উঠেই ব্রাশে খানিকটা টুথপেস্ট লাগিয়ে নেওয়া আমাদের রোজকার অভ্যাস। বিজ্ঞাপন দেখে আমরা ভাবি, পেস্টের ওই সাদা বা রঙিন ফেনা আমাদের দাঁতকে একদম হিরের মতো চকচকে করে দিচ্ছে। কিন্তু কখনো কি পেস্টের টিউবের পেছনের উপাদানের তালিকাটা মন দিয়ে পড়েছেন?

দেখতে সুন্দর ও চকচকা হলেও তা আপনাদের দাত এবং মুখ কে হয়তো চিরস্থায়ী ক্ষতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে!

বাংলাদেশে ৩৪ টা টুথপেস্ট এরমধ্যে ২৬ টি টুথপেস্টে, বিষাক্ত মাইক্রো প্লাস্টিক পাওয়া গেছে,এটা বাংলাদেশের জন্য নতুন কিছু না। দাঁতের সুস্বাস্থ্যের জন্য, দাঁত ব্রাশ করলাম,এর ফলাফল দিনশেষে,জটিল ও মরণব্যাধি রোগের আক্রান্ত হব, ভাবতেই অবাক লাগে,

কিন্তু আজ থেকে প্রায় ১৫০০ বছর আগে আমাদের প্রিয় নবী নূরে মুজাসসাম হাবিবুল্লা হুজুরে পাক  (সা.) এর সুন্নাহের দিকে যাই, মিসওয়াক বা পিলু গাছের ডাল দাঁতের সুরক্ষায় একই সাথে ‘মেকানিক্যাল’ ও ‘কেমিক্যাল’ দুই ভাবেই কাজ করে। অর্থাৎ, এর আঁশগুলো যেমন ব্রাশের মতো দাঁতের কোণায় জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার করে, তেমনি এর রস প্রাকৃতিকভাবে মুখের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে। এমনকি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও ওরাল হাইজিনের জন্য মিসওয়াককে একটি কার্যকর ও নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

আধুনিক বাণিজ্যিক টুথপেস্টে ব্যবহৃত প্লাস্টিক কণা মানুষের অজান্তেই পাকস্থলীতে প্রবেশ করে নানা জটিল ব্যাধি সৃষ্টি করছে। অথচ প্রিয় নবী হুজুরের পাক (সা.) অজু, নামাজ ও দৈনিক দিনচর্যায় মিসওয়াকের যে অভ্যাস শিখিয়েছেন, তা সম্পূর্ণ কেমিক্যালমুক্ত ও শতভাগ নিরাপদ। মহানবী (সা.) বলেছেন, “মিসওয়াক হলো মুখ পরিষ্কার করার উপকরণ এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উপায়।” (মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদিস: ৩৫০)।

ইসলামে মিসওয়াককে পরিচ্ছন্নতা ও স্বভাবজাত সুনানের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সহিহ মুসলিমে বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, মানবজাতির ১০টি স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্যের অন্যতম হলো মিসওয়াক করা।

মুসনাদে আহমাদে (হাদিস: ২২২৬৯) এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যখনই জিবরাইল (আ.) আমার কাছে আসতেন, তখনই আমাকে মিসওয়াকের নির্দেশ দিতেন। এমনকি তিনি উম্মতের কষ্টের কথা বিবেচনা না করলে প্রতি নামাজের আগেই মিসওয়াক ফরজ বা বাধ্যতামূলক করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৮৮৭)।

রাসুলুল্লাহ (সা.) দিন-রাতের যেকোনো সময়েই মিসওয়াক করতেন (উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রা. এর বর্ণনা অনুযায়ী)। তবে ৯টি বিশেষ মুহূর্তে মিসওয়াক করা সুন্নাত ও মুস্তাহাব:

১. প্রতিবার নামাজের সময়।

২. কোরআন তেলাওয়াতের আগে।

৩. অজুর শুরুতে।

৪. ঘুম থেকে উঠার পর।

৫. মুখে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হলে।

৬. রাতে ঘুমানোর আগে।

৭. দীর্ঘ সময় কথা বলার পর।

৮. পানাহারের পূর্বে ও পরে।

৯. দুর্গন্ধযুক্ত খাবার গ্রহণের পর।

সুন্নতি তরিকায় মিসওয়াক করার সঠিক নিয়ম

ভুল নিয়মে মিসওয়াক করলে দাঁত বা মাড়ির ক্ষতি হতে পারে। সঠিক পদ্ধতি নিচে দেওয়া হলো:

আকার ও পরিমাপ: মিসওয়াক হাতের আঙুলের মতো মোটা এবং এক বিঘত পরিমাণ লম্বা হওয়া উচিত।

ধরা ও আঙুলের পজিশন: ডান হাত দিয়ে মিসওয়াক ধরতে হবে। ডান হাতের কনিষ্ঠাঙ্গুলি (ছোট আঙুল) থাকবে মিসওয়াকের নিচে, মধ্যমা ও তর্জনী ওপরের দিকে এবং বৃদ্ধাঙ্গুলি নিচে থাকবে।

মাজার সঠিক দিক: মুখের ডান দিক থেকে শুরু করতে হবে। ওপর থেকে নিচে মিসওয়াক করতে হবে, কখনোই ডান-বামে আড়াআড়িভাবে ঘষা উচিত নয়। দাঁতের ভেতরের ও বাইরের অংশ এবং জিহ্বার গোড়া পর্যন্ত আলতোভাবে পরিষ্কার করতে হবে।


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ