শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬ ।। ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ ।। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
দাড়ি নবীর সুন্নত, কটাক্ষ করার এখতিয়ার কারও নেই: সংসদে মনিরুল হক চৌধুরী নেতানিয়াহুকে ‘জাহান্নামে পাঠানোর’ হুঁশিয়ারি ইরানের মেজর জেনারেলের ২৮ আগস্ট ২০২৬: ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি কত? তানযীমুল আইম্মাহ ওয়াল উলামার উদ্যোগে দুই পর্বে সিরাত প্রতিযোগিতা নেপালে ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানি ৪৬৯, এখনও নিখোঁজ ১৪৬৮ আমিরে মজলিসের তত্ত্বাবধানে ৫০ হুইলচেয়ার ও ৫০ ভ্যান বিতরণ কুমিল্লায় খেলাফত মজলিসের উলামা ও সুধী সমাবেশ সিরাজগঞ্জে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মতবিনিময় সভা লখনৌয়ে ১২ দিনব্যাপী সিরাতুন্নবী (সা.) অধিবেশনের সমাপ্তি কিশোরগঞ্জের জামিআ আবু বকরে ভাষা-সাহিত্যের বিশেষ কোর্স শুরু 

৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্তে আমি আশাবাদী!


নিউজ ডেস্ক

নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ফাইল ছবি

|| মুফতি এনায়েতুল্লাহ ||

নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষা জোরদার করার লক্ষ্যে দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রায় ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সরকার। শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকেলে তেজগাঁও প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের কবরী হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমীন। নিঃসন্দেহে এটি একটি চমৎকার সিদ্ধান্ত।

কিন্তু নানা কারণে আমার ধারণা, ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত হলেও এবং কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসের সনদধারীদের আগ্রহ থাকলেও স্বীকৃতির যথাযথ মূল্যায়ন না থাকায়, মনে হয় তারা সেখানে নিয়োগ তো পরের কথা, আবেদনই করতে পারবেন না।

অবশ্য সরকার বিশেষ সিদ্ধান্ত নিলে- নিতে পারে। যেহেতু বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে বলেছে, ‘কওমি সনদ স্বীকৃতির পূর্ণ বাস্তবায়ন করা হবে। কওমি সনদধারীদের বিদেশে (যোগ্যতার মাপকাঠিতে উত্তীর্ণ) ধর্মীয় উচ্চশিক্ষালাভে প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণ ও রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করা হবে। যোগ্যতা অনুযায়ী সরকারি চাকুরিতে নিয়োগ- বিশেষত সরকারি মসজিদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, সেনাবাহিনী, নৌ বাহিনী, বিমান বাহিনীর ধর্মীয় শিক্ষক কাম ইমাম, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলে ধর্মীয় শিক্ষক হিসেবে সার্টিফিকেটধারীদের নিয়োগে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।’

আমি আশাবাদী, নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে সরকার কওমি নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আন্তরিক আলাপ-আলোচনা করে কোনো একটা পথ বের করবে। যেন কওমি শিক্ষা তার স্বকীয়তা ও স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখতে পারে, আলেমরা আস্থার সঙ্গে সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারে; সেই সঙ্গে আলেম-উলামাদের কর্মসংস্থান হয়।

আমার বিশ্বাস, এই বিপুল সংখ্যক আলেম শিক্ষকতায় প্রবেশ করলে সমাজে তার ব্যাপক প্রভাব পরবে। সহিহ-শুদ্ধভাবে কোরআন শিক্ষার পাশাপাশি নীতি-নৈতিকতা চর্চায় নতুন প্রজন্ম আলোকিত হবে। ফলে কিশোর অপরাধ কমার পাশাপাশি সারা বাংলাদেশে এক নতুন আবহাওয়া চালু হবে।

এদিকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল একটু-আধটু দাবি তুলছে, কওমি সনদের যথাযথ ও পূণার্ঙ্গ বাস্তবায়নের। সেই সঙ্গে স্কুলে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ নিয়েও রাজনৈতিক দলগুলো আলাপ-আলোচনা শুরু করেছে। এটা খুবই ভালো দিক।

তাব কওমি মাদ্রাসাকেন্দ্রিক বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনগুলোর প্রতি আমার বিনীত নিবেদন, আপনারা বিষয়টি গুরুত্বসহ ভাবুন, নানাবিধ ইগো, অভিমান ও স্বার্থের দ্বন্দ্ব দূরে রেখে এ বিষয়ে ফোকাস করুন। না হলে, এবারও কওমি আলেমরা বঞ্চিত হবে। শুধু আমাদের আলাপ-আলোচনাই চলতে থাকবে, কাজের কাজ কিছুই হবে না। প্লীজ একটু ভাবুন, দয়া করুন।

লেখক: সিনিয়র আলেম সাংবাদিক ও বিশ্লেষক

জেডএম/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ