সোমবার, ২২ জুন ২০২৬ ।। ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ৭ মহর্‌রম ১৪৪৮


ঢাকা-তেহরান সরাসরি ফ্লাইটের প্রস্তাব ইরানের

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

জাতীয় সংসদে সোমবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত মি. রেটো রেলিং এবং ইরানের রাষ্ট্রদূত ড. জলিল রাহিমী জাহানাবাদী। পৃথক এই দুই বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি, সরাসরি বিমান ফ্লাইট চালু, সংসদীয় অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে শক্তিশালী করাসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়।

সোমবার (২২ জুন) সংসদে স্পিকারের সঙ্গে আলাদা আলাদা বৈঠক করেন দুই দেশের রাষ্ট্রদূত।

শুরুতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত মি. রেটো রেলিং। বৈঠককালে রাষ্ট্রদূত গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত বর্তমান নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার ও শক্তিশালী বিরোধী দলের আস্থা অর্জন করে সংসদকে কার্যকর করে তোলায় স্পিকারের অনন্য ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

এ সময় স্পিকার বলেন, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী এই সংসদ গণঅভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে গণমানুষের পূর্ণ আস্থা অর্জন করে তার মেয়াদ পূরণ করবে। সংসদ সদস্যদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত রাষ্ট্র হিসেবে সুইজারল্যান্ডের ইতিবাচক ভূমিকার জন্য স্পিকার ধন্যবাদ জানান। একইসঙ্গে বাংলাদেশের গণতন্ত্র এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে আরও শক্তিশালী করতে সুইজারল্যান্ডকে বাংলাদেশের পাশে থাকার আহ্বান জানান তিনি।

স্পিকার দুই দেশের মধ্যে আন্তঃসংসদীয় টিম গঠন করে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের প্রস্তাব দেওয়ার পাশাপাশি ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) মাধ্যমে সংসদীয় কার্যক্রম জোরদার এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দেন। জবাবে সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে মানবিক সহায়তা, শিক্ষা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, জলবায়ু সহনশীলতা এবং বেসরকারি খাতে সুইজারল্যান্ড সরকারের চলমান সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

এদিকে, দিনের অন্য এক বৈঠকে স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ইরানের রাষ্ট্রদূত ড. জলিল রাহিমী জাহানাবাদী। এই বৈঠকে স্পিকার ইরানের সংসদের সঙ্গে বাংলাদেশের সংসদের নিবিড় সম্পর্ক স্থাপনে দুই দেশের সংসদীয় টিম গঠনের উপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। ইরানিদের বীরের জাতি হিসেবে উল্লেখ করে যুদ্ধের সময় ইরানের সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের সাহসী ভূমিকার প্রশংসা করেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র প্রসারিত হলে উভয় দেশই উপকৃত হবে বলে তিনি মনে করেন।

বৈঠকে ইরানের রাষ্ট্রদূত ঢাকা-তেহরান সরাসরি ফ্লাইট চালু করতে স্পিকারের সহযোগিতা কামনা করেন এবং বাংলাদেশে ইরানের বাণিজ্য-বিনিয়োগ ১ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে ইরানের বিশ্বমানের চিকিৎসা সেবা নিতে বাংলাদেশিদের উৎসাহিত করার অনুরোধ জানিয়ে রাষ্ট্রদূত সাশ্রয়ী দামে ইরানের পেট্রোকেমিক্যাল, ইউরিয়া সার ও খাদ্যসামগ্রী বাংলাদেশে রপ্তানির প্রস্তাব দেন এবং বাংলাদেশের বিশ্বমানের তৈরি পোশাক আমদানিতে তেহরানের গভীর আগ্রহের কথা জানান। ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুতে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে শোক প্রস্তাব পাস করায় রাষ্ট্রদূত স্পিকারকে বিশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। এ সময় তিনি ইরান ও বাংলাদেশের মধ্যকার সাংস্কৃতিক বিনিময় ও শুল্কমুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নবায়নে এবং দুই দেশের সংসদীয় সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে স্পিকারের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।

আরএইচ/


সম্পর্কিত খবর