বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬ ।। ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ২৫ জিলহজ ১৪৪৭

শিরোনাম :
চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী লাইসেন্স বাতিলের প্রতিবাদে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও রোগীর স্বজনদের বিক্ষোভ বিতর্কিত শিবমূর্তি অপসারণের দাবিতে রাজধানীতে খেলাফত আন্দোলনের বিক্ষোভ সাবেক এমপি বাহারের বক্তব্যের প্রতিবাদ, দেশে এনে বিচারের দাবি আলেমদের প্রস্তাবিত বাজেট ঋণনির্ভর ও উচ্চাভিলাসী: খেলাফত মজলিস আশাবাদে ভারাক্রান্ত সুলিখিত বাজেট, বাস্তবায়নে বড় চ্যালেঞ্জ: ইসলামী আন্দোলন কুমিল্লা ও নগরকান্দায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রশিক্ষণ সভা অনুষ্ঠিত হিল্লার নামে ‘পাতানো বিয়ে’ কবিরা গুনাহ: মাওলানা আজহারী বৃহৎ রামমূর্তি নির্মাণ নিয়ে উদ্বেগ, দ্রুত অপসারণ চান পীর সাহেব মধুপুর আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার চায় ইসলামী আন্দোলন

সাবেক এমপি বাহারের বক্তব্যের প্রতিবাদ, দেশে এনে বিচারের দাবি আলেমদের

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

কুমিল্লা-৭ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা বাহাউদ্দীন বাহারের বিরুদ্ধে মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে আপত্তিকর ও ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্য এবং কুমিল্লার জনগণকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তুলে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে কুমিল্লা জেলা কওমি মাদরাসা সংগঠন।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) কুমিল্লায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা এ প্রতিবাদ জানান এবং তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণসহ ইন্টারপোলের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে এনে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও মহানগর সেক্রেটারি মুফতী শামছুল ইসলাম জিলানী।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সাবেক এমপি বাহাউদ্দীন বাহার সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত একটি টকশোতে দেশের ঐতিহ্যবাহী মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থা বন্ধের দাবি জানান এবং কুমিল্লার জনগণকে হুমকি দেন, যা গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, তার এ বক্তব্য ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার উসকানি।

সংগঠনের নেতারা বলেন, মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক শিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। এ বাস্তবতায় এই শিক্ষাব্যবস্থা বন্ধের আহ্বান শুধু ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিপন্থী নয়, বরং সাংবিধানিক অধিকারেরও লঙ্ঘন।

তারা আরও বলেন, বাহারের বক্তব্য বিচ্ছিন্ন কোনো মন্তব্য নয়, বরং এটি দেশের স্থিতিশীলতা বিনষ্টের একটি ষড়যন্ত্রের অংশ।

সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ বাহাউদ্দীন বাহারের রাজনৈতিক অতীত নিয়েও সমালোচনা করেন। তারা তাকে গডফাদার, স্বৈরাচারী ও পরিবারতন্ত্রের প্রতীক হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, দমন-পীড়ন ও অর্থপাচারের অভিযোগ তোলেন। জনগণের ভোটাধিকার হরণ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে তিনি দীর্ঘদিন ক্ষমতায় ছিলেন বলেও অভিযোগ করা হয়।

নেতৃবৃন্দ বলেন, পলাতক অবস্থায় থেকেও বাহারের উসকানিমূলক বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। তাকে দ্রুত ইন্টারপোলের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে এনে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় বিচারের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। অন্যথায় দেশের ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সহ-সভাপতি ও মহানগর সভাপতি হাফেজ মাওলানা মুনীর হুসাইন। দোয়া পরিচালনা করেন তিনি।

এতে আরও উপস্থিত ছিলেন— সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, মাওলানা আনিসুর রহমান আশরাফী, মাওলানা আবুল হাসান রাজাপুরী, হাফেজ আজীজুল হক, মাওলানা তৈয়ব, মাওলানা খলীলুর রহমান, মাওলানা আবুল কাশেম, মাওলানা মারুফুল রহমান, আবু তাহের, মাওলানা আবুল খায়ের, মাওলানা রফীকুল ইসলাম, মাওলানা ইলিয়াস, মাওলানা জিয়া উদ্দীন গালিব, মাওলানা যুবাইরসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলার প্রতিনিধিরা।

আরএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ