
|
‘আয়নাঘর’ বিগত সরকারের ‘ফ্যাসিবাদী’ চরিত্রের চরম বাস্তবতা: চিফ প্রসিকিউটর
প্রকাশ:
০১ আগস্ট, ২০২৬, ০৩:১৬ দুপুর
নিউজ ডেস্ক |
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারপতি ও প্রসিকিউটররা রাজধানীর উত্তরার র্যাব-১ কার্যালয়ে ‘আয়নাঘর’ হিসেবে পরিচিত টর্চার সেল পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শকন শেষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, এ কক্ষগুলো কোনো রূপকথা নয়, বরং বিগত সরকারের ‘ফ্যাসিবাদী’ চরিত্রের চরম বাস্তবতা। শনিবার (১ আগস্ট) সকালে ট্রাইব্যুনালের তিনজন বিচারপতি, প্রসিকিউশন টিম, ভিকটিম পরিবারের সদস্য এবং মানবাধিকার কর্মীদের নিয়ে এই যৌথ পরিদর্শন চালানো হয়। পরিদর্শনকালে বিচারে সংশ্লিষ্ট আসামিপক্ষের আইনজীবীরা ও সাংবাদিকরাও উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, সারা বিশ্ব যে আয়নাঘর সম্পর্কে শুনে আসছিল, সেটি আসলে কতটা নির্মল টর্চার সেল ছিল, তা সরজমিনে দেখার জন্য আমরা আজ এসেছিলাম। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রুল ৪৬ (এ) এবং রোম স্ট্যাটিউটের রুল ৭ ও ৭৩ অনুযায়ী এই বিচারিক পরিদর্শনের বিধান রয়েছে। তিনি জানান, পরিদর্শনে তারা ছোট-বড় মোট ২২টি কামরা খুঁজে পেয়েছেন। আমিনুল ইসলাম বলেন, সেখানে অত্যন্ত অমানবিক চিত্র আমরা দেখেছি। ২২টি কামরার মধ্যে ভিকটিমদের দিনের পর দিন, মাসের পর মাস এমনকি বছরের পর বছর আটকে রাখা হতো। ঘরগুলো এতটাই সরু যে একজন স্বাভাবিক মানুষের লম্বা হয়ে শোয়ার উপায় নেই। তদন্তের বিষয়ে তিনি জানান, র্যাব কার্যালয়ের এই টিএফআই (টাস্ক ফোর্সেস ইন্টারোগেশন) সেলে অনেক কক্ষ দেয়াল দিয়ে ঢেকে তথ্য গোপনের চেষ্টা করা হয়েছিল। চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আমাদের ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (তদন্ত সংস্থা) এসে প্রথমে বিভ্রান্তিতে পড়েছিল। কিন্তু ভিকটিমদের বর্ণনার সঙ্গে যখন মিলছিল না, তখন সন্দেহ থেকে নতুন করে তোলা দেওয়ালগুলো শনাক্ত করা হয়। সেই স্ট্রাকচারগুলো (অবকাঠামো) সরানোর পর ভয়াবহ চিত্র বেরিয়ে আসে এবং আমরা কক্ষগুলোর সন্ধান পাই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং ব্যারিস্টার আরমানকে এই সেলে আটকে রাখার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার দাবি করেন চিফ প্রসিকিউটর। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত প্রায় ২৫০ জনের বেশি গুম হওয়া ব্যক্তির সন্ধান আমরা পাইনি। সালাহউদ্দিন আহমেদকেও এই র্যাব-১ এর কোনো এক কামরায় রাখা হয়েছিল বলে আমাদের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। আইনি লঙ্ঘনের বিষয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, কাউকে গ্রেফতার করলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে হাজির করার যে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা (অনুচ্ছেদ ৩৩) এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ৬১ ও ১৬৭ ধারা রয়েছে, এই আয়নাঘরের ক্ষেত্রে তার চরম লঙ্ঘন হয়েছে। এটি স্পষ্টতই মানবতাবিরোধী অপরাধ। তিনি আরও জানান, কেবল মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা নন, যারা 'সুপিরিয়র রেসপন্সিবিলিটি'তে ছিলেন এবং যেসব রাজনৈতিক দল এই ফ্যাসিস্ট শাসনে সহায়তা করেছে, তাদের প্রত্যেককেই আইনের আওতায় আনা হবে। আগামী শনিবার সেনানিবাসের ভেতরে ডিজিএফআই-এর কার্যালয়ের ইন্টারোগেশন সেল (জিআইসি) পরিদর্শনের কথা রয়েছে বলেও জানান তিনি। তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, প্রসিকিউশন টিম সার্বক্ষণিক তদন্ত কার্যক্রম মনিটর করছে। আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখেই সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। এই পরিদর্শনের ওপর ভিত্তি করে একটি মেমোর্যান্ডাম তৈরি করা হবে, যা আদালতের বিচারের অংশ হিসেবে গণ্য হবে। আইও/ |