গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে মন্দির চত্বরে নির্মিত বিতর্কিত শিবমূর্তি অপসারণের দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বাদ আসর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে আয়োজিত সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে সংগঠনের আমীর মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী বলেন, গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দিরের বাইরে ৩০ ফুট উঁচু এবং কয়েক টন ওজনের শিবমূর্তি নির্মাণ করা হয়েছে, যা তিনি অপমানজনক ও উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন।
তিনি দাবি করেন, এ ধরনের স্থাপনা দেশের ধর্মীয় ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে এবং এর পেছনে বিদেশি প্রভাব ও অর্থায়নের বিষয় খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সংবিধানে উপাসনালয়ে ধর্মীয় আচার পালনের সুযোগ থাকলেও মন্দিরের বাইরে এত বড় আকারের মূর্তি স্থাপন জনমনে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
হাবিবুল্লাহ মিয়াজী অভিযোগ করেন, গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি এবং নির্দিষ্ট মহলের ইন্ধনে এ ধরনের স্থাপনা তৈরি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে কোনোভাবেই অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দেওয়া যাবে না।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দাবি বাস্তবায়ন না হলে গাইবান্ধা অভিমুখে লংমার্চসহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
সমাবেশে নায়েবে আমির মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী বলেন, সীমান্ত পরিস্থিতি, পুশইন এবং বিভিন্ন অঞ্চলে ধর্মীয় উত্তেজনা সৃষ্টি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের কোনো প্রচেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না।
অন্যান্য বক্তারা বলেন, ধর্মীয় স্থাপনা নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে তার দায় প্রশাসনকে নিতে হবে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন— সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি সুলতান মহিউদ্দিন, প্রচার সম্পাদক মাওলানা সাইফুল ইসলাম সুনামগঞ্জী, মুফতি আবুল হাসান কাসেমী, শাহিন আলম ও মুফতি নুরুর রহমান প্রমুখ।
আরএইচ/