বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬ ।। ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ১ সফর ১৪৪৮

শিরোনাম :
হজ ব্যবস্থাপনা ও হজ প্যাকেজ নিয়ে কিছু কথা ভুল সংশোধনের সুযোগ পাচ্ছেন নতুন ভোটাররা ব্যক্তিগত মন্তব্যের জন্য সংসদে দুঃখ প্রকাশ করলেন শিক্ষামন্ত্রী গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে মৃত্যু ১, হাসপাতালে ৩২৯ মহানগর দক্ষিণের কাউন্সিল সফল করতে রামপুরা নেতাদের সঙ্গে জমিয়তের মতবিনিময় ‎হানাফি উসুল অমূল্য রত্ন ও ফকিহ সাহাবায়ে কেরামের উত্তরাধিকার কওমি মাদরাসায় কারিগরি প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ বিষয়ে যা বললেন শিক্ষামন্ত্রী এইচএসসির পদার্থবিজ্ঞান প্রশ্নে ত্রুটি: চার শিক্ষককে শোকজ বন্যা দুর্গতদের মাঝে ইসলামী আন্দোলনের ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত বিকেএম কেন্দুয়া উপজেলা শাখার ৪১ সদস্যের নতুন কমিটি গঠন

দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে ১৮০ দিনের যৌথ কর্মপরিকল্পনা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ আরও সহজ ও কার্যকর করতে চারটি প্রধান বিনিয়োগ প্রচার সংস্থা— বিডা, বেজা, পিপিপিএ ও মিডার জন্য যৌথ ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে।

সোমবার (১৬ মার্চ) বিডার পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রোববার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এক বৈঠকে এই কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করেন বিডা, বেজা ও মিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং পিপিপিএ’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আশিক চৌধুরী।

বৈঠকে তিনি বলেন, এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হচ্ছে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলা, দ্রুত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা এবং বাস্তবায়নমুখী সংস্কারের মাধ্যমে বাংলাদেশে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগের প্রবাহ বাড়ানো।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের সহায়তা দেওয়াকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সহায়তা অব্যাহত থাকলেও দেশীয় বিনিয়োগকারীদের নতুন বিনিয়োগে উৎসাহিত করা এবং যারা ইতোমধ্যে দেশে ব্যবসা পরিচালনা করছেন, তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারণে সহযোগিতা করা হবে।

জানা গেছে, ১৮০ দিনের এই রোডম্যাপ তিনটি প্রধান স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। মোট ২৫টি উদ্যোগের মধ্যে অবকাঠামো শক্তিশালীকরণে রয়েছে ১৩টি উদ্যোগ (৫০ শতাংশ), বিনিয়োগ সহায়তা জোরদারে রয়েছে ৭টি উদ্যোগ (৩০ শতাংশ) এবং বিনিয়োগ উন্নয়নে রয়েছে ৫টি উদ্যোগ (২০ শতাংশ)।

অবকাঠামো শক্তিশালীকরণ খাতে বন্দর আধুনিকায়ন এগিয়ে নেওয়া, চাইনিজ ইকোনমিক জোন বাস্তবায়ন, শিল্পপার্কে ‘রেডি-টু-ইউজ’ প্লট সম্প্রসারণ, ফ্রি ট্রেড জোন ও ডিফেন্স ইকোনমিক জোন বাস্তবায়ন এবং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে পিপিপি, বিদেশি বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক অঞ্চলে রূপান্তরের মাধ্যমে পুনরুজ্জীবিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি জ্বালানি খাতেও বিভিন্ন উন্নয়ন উদ্যোগ বাস্তবায়নের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বিনিয়োগ সহায়তা খাতে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং বিনিয়োগকারীদের সেবা উন্নত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বিডা, বেজা, বেপজা, বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ ও পিপিপিএ— এই পাঁচটি সংস্থাকে একীভূত করার উদ্যোগ, বাংলাদেশ–দক্ষিণ কোরিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) বাস্তবায়নের কার্যক্রম, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বেসরকারি খাতের উপদেষ্টা পরিষদ গঠন এবং মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়া ‘বাংলাবিজ’ নামে একক বিনিয়োগ সেবা প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার বৃদ্ধি, বৃহৎ কৌশলগত বিনিয়োগকারীদের সমস্যা সমাধান এবং চীনে বিডার প্রথম বিদেশি কার্যালয় চালুর বিষয়ও এই কর্মপরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বিনিয়োগ উন্নয়ন খাতে দেশের শিল্প খাতের ম্যাপিং, অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত দেশগুলো থেকে নির্দিষ্ট খাতে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণের উদ্যোগ, ব্লু ইকোনমি উন্নয়নের অংশ হিসেবে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরা, মেরিকালচার ও রফতানিমুখী চিংড়ি প্রক্রিয়াজাত শিল্প গড়ে তোলা এবং নতুন এফডিআই প্রণোদনা কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

এই ২৫টি উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে অবকাঠামো উন্নয়ন, বিনিয়োগ সহায়তা জোরদার এবং ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের একটি শক্তিশালী পাইপলাইন তৈরির মাধ্যমে দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ আরও গতিশীল করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

আইএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ