বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৩ রবিউস সানি ১৪৪৮


একটি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে একতরফা ব্যবস্থা উদ্বেগজনক: মাহমুদ মাদানী

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে প্রশাসনের একতরফা পদক্ষেপ, মব লিঞ্চিং, বুলডোজার অভিযান এবং মসজিদ-মাদরাসা উচ্ছেদের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে এসব বিষয়ে সাংবিধানিক ও আইনি পথে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি মাওলানা মাহমুদ আসাদ মাদানী।

তিনি বলেছেন, কোনো একটি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে একতরফা ব্যবস্থা নেওয়া এবং প্রশাসনিক পর্যায়ে এর পৃষ্ঠপোষকতা থাকা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। এ ধরনের ঘটনা শুধু একটি রাজ্য বা অঞ্চলে সীমাবদ্ধ নয়; দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে একই ধরনের ঘটনা সামনে আসছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নয়াদিল্লিতে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের মাহমুদিয়া লাইব্রেরিতে সংগঠনটির মজলিসে আমেলার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মাওলানা মাহমুদ মাদানী বলেন, কিছু ঘটনায় সরকার ও প্রশাসনের মধ্যে এমন সমন্বয় দেখা যাচ্ছে, যা উদ্বেগের কারণ। এর সঙ্গে যদি বিচারব্যবস্থার কাছ থেকেও কার্যকর আইনি সুরক্ষা ও দ্রুত প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ কমে যায় এবং কোনো একটি সম্প্রদায়ের মধ্যে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় তাদের জন্য কার্যকর কোনো পথ অবশিষ্ট নেই—এমন ধারণা তৈরি হয়, তাহলে তা কোনো দেশ বা সমাজের জন্য ভালো পরিস্থিতি নয়।

তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ সব ধরনের সাংবিধানিক ও আইনি পথ ব্যবহার করবে। ভারতের মুসলিম ও সাধারণ নাগরিকদের হতাশ বা ভীত না হয়ে সাহস ও দৃঢ়তার সঙ্গে সাংবিধানিক পদ্ধতিতে নিজেদের অধিকার রক্ষায় কাজ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

মাওলানা মাদানী বলেন, ভারত আমাদের দেশ এবং আমরা এ দেশের সমান নাগরিক। নিজেদের সাংবিধানিক ও আইনি অধিকার রক্ষা করা নাগরিকদের মৌলিক অধিকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব অধিকার রক্ষায় ভারতের সংবিধান যে আইনি ও গণতান্ত্রিক পথ দিয়েছে, জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ সেগুলো ব্যবহার করবে।

তিনি আরও বলেন, জাতীয় পর্যায়ের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও যেখানে সাংবিধানিক অধিকার, মানবাধিকার, ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন নিয়ে কার্যকরভাবে কথা বলা সম্ভব, সেখানেও বিষয়গুলো তুলে ধরা হবে। সংবিধান ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, আইনের শাসন বজায় রাখা এবং ভারতের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক পরিচয় রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এর আগে মজলিসে আমেলার বৈঠকে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ধর্মীয় অধিকার, মসজিদ-মাদরাসা, উপাসনালয় এবং নাগরিক অধিকারসংক্রান্ত পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে এসব বিষয়ে ভারতের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ ও অনুভূতি তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বৈঠকে প্রশাসনের বিভিন্ন পদক্ষেপ, মব লিঞ্চিং, বুলডোজার অভিযান এবং মসজিদ-মাদরাসা ধ্বংসের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এসব বিষয় সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক ও আইনি ফোরামেও তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মদ হাকিমুদ্দিন কাসেমি, দারুল উলুম দেওবন্দের মুহতামিম মুফতি আবুল কাসেম নোমানি, সহসভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ সালমান বিজনৌরি, কোষাধ্যক্ষ মাওলানা কারি শওকত আলী, স্থায়ী কমিটির সভাপতি মাওলানা রহমতুল্লাহ মীর কাশ্মীরি, নায়েবে আমিরে হিন্দ মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ সালমান মনসুরপুরিসহ বিভিন্ন রাজ্যের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ