যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা বাজারের জ্বালানি বিক্রেতা ও পেট্রোল স্টেশনগুলোকে অবিলম্বে তেলের দাম কমানোর কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে দাম না কমালে তেল বিক্রেতাদের সামনে ‘বড় ধরনের সমস্যা’ অপেক্ষা করছে বলে কড়া সতর্কবার্তা দেন তিনি।
সোমবার (২৯ জুন) নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমলেও যুক্তরাষ্ট্রের পাম্পগুলোতে দাম না কমায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং দাম কমানোর এই নির্দেশ দেন ট্রাম্প।
পোস্টে তিনি বলেন, ‘পেট্রোলিয়াম বিক্রেতাদের অবশ্যই খুব দ্রুত তাদের তেলের দাম কমিয়ে আনতে হবে। বাজারে কোনো ধরনের অবৈধ মূল্যবৃদ্ধি বা অতিরিক্ত মুনাফা করা বরদাশত করা হবে না, যা সম্পূর্ণ আইনবহির্ভূত।’
ট্রাম্প বলেন, ‘খুচরা বিক্রেতারা যদি এটি না করে, তাহলে তাদের সামনে বড় ধরনের সমস্যা অপেক্ষা করছে! প্রতি গ্যালন ২ দশমিক ৫০ ডলারে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করুন।’
তিনি আরও লেখেন, ‘খুচরা বিক্রেতাদের উচিত এই বক্তব্যের প্রতি দ্রুত সাড়া দেওয়া এবং তারা যা সঠিক বলে জানে, সেটিই করা—আমাদের মহান মার্কিন জনগণের জন্য দাম কমিয়ে দেওয়া।’
ট্রাম্প বিশেষভাবে দেশটির ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের জ্বালানি কর নীতির তীব্র সমালোচনা করেন। অতিরিক্ত করের কারণে সাধারণ মানুষ ভুগছেন উল্লেখ করে তিনি সেখানে পেট্রোলের ওপর আরোপিত ভারী কর কমানোরও আহ্বান জানান।
তিনি লেখেন, ‘খুব শিগগিরই করের পরিমাণ পণ্যের দামের চেয়েও বেশি হয়ে যাবে। যুক্তরাষ্ট্র এটি মেনে নেবে না, ক্যালিফোর্নিয়ার জনগণও মেনে নেবে না। তারা এই অযৌক্তিক কর এবং নিজেদের সরকারের কারণে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।’
এর আগে গত সপ্তাহেও বড় তেল কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে গ্রাহকদের ঠকানোর (প্রাইস গাউজিং) অভিযোগ এনেছিলেন ট্রাম্প। বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৬৮ ডলারে নেমে এলেও সেই অনুপাতে পাম্পে দাম না কমায় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগকে বিষয়টি অবিলম্বে তদন্ত করার নির্দেশ দেন।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি ইরান যুদ্ধের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছিল। এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে মার্কিন নাগরিকদের জীবনযাত্রায় বাড়তি চাপ তৈরি হয়, যা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন সমালোচনার মুখে পড়ে। আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের বাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্র: বিবিসি, আলজাজিরা
আইও