মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ ।। ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ ।। ৭ সফর ১৪৪৮

শিরোনাম :
জুলাই আন্দোলনে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের অবদানের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দাবি উম্মুল কুরা মহিলা মাদরাসার পরিচালকের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন  প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজে মাওলানা ইসলামাবাদী-ইকরামের নেতৃত্বাধীন জমিয়ত ‘তাহাফ্ফুজে ফিকরে আকাবির’ মহাসম্মেলন ৬ আগস্ট, প্রধান অতিথি দেওবন্দের মুহতামিম এই বাংলাদেশ দেখার জন্য বুলেটের সামনে দাঁড়াইনি: শায়খে চরমোনাই ‘হিজবুল বাহারের জাকাত’ নামে ধর্মীয় অনুষ্ঠান শরিয়তসম্মত নয়: মারকাযুদ দাওয়াহ কেন প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজ বর্জন, কী বলছে জমিয়ত নিউজিল্যান্ডের বৃহত্তম মসজিদ পরিদর্শনে রাবেতা মহাসচিব জাকাত বোর্ডকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নতুন রাজনৈতিক প্রধান বেছে নিলো হামাস

‘শুনে রাখুন, ফজলুর রহমান ভয় পাবে না, আত্মসমর্পণও করবে না’

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

পাকিস্তানের প্রভাবশালী ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম (জেইউআই-এফ)-এর প্রধান মাওলানা ফজলুর রহমান বলেছেন, তিনি দেশের প্রতি অনুগত এবং সংবিধান ও আইনের সীমার মধ্যেই সবসময় রাজনীতি করেছেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশটির আইন, সংসদ, গণতন্ত্র ও সংবিধানকে দুর্বল করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রোববার (১৯ জুলাই) ইসলামাবাদে জমিয়ত লইয়ার্স ফোরামের আইনজীবীদের এক সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে মাওলানা ফজলুর রহমান এসব কথা বলেন।

বক্তব্যের শুরুতে তিনি একটি উর্দু কবিতার লাইন উদ্ধৃত করে বলেন, ‘কাউকে নিজের কাজের হিসাবই বা কী দেব, যখন সব প্রশ্নই ছিল ভুল, তখন উত্তরই বা কী দিতাম।’ এরপর তিনি বলেন, ‘আমি এই দেশের প্রতি অনুগত। দেশের প্রতি আনুগত্যের শপথ নিয়েছি। জাতীয় ও স্পর্শকাতর বিষয়েও আমরা সবসময় সংবিধান ও আইনের মধ্যে থেকে আমাদের অবস্থান তুলে ধরেছি, যা আমাদের সাংবিধানিক অধিকার।’

তিনি বলেন, গত ৬০ বছর ধরে তার দল সক্রিয় রাজনীতি করছে, কিন্তু কখনোই উগ্রবাদ বা চরমপন্থার আশ্রয় নেয়নি। অথচ বর্তমানে দেশের আইনকে জিম্মি করা হয়েছে এবং সংসদ, গণতন্ত্র ও সংবিধানকে দুর্বল করে দেওয়া হচ্ছে।

মাওলানা ফজলুর রহমান বলেন, গণতন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়লে এর পেছনে রাজনীতিবিদদেরও কতটুকু দায় রয়েছে, তা নিয়ে আত্মসমালোচনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রকৃত দায় কার, সেটিও খতিয়ে দেখতে হবে।

তিনি অভিযোগ করেন, পশ্চিমা বিশ্ব মুসলিম সমাজে উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদের তকমা চাপিয়ে দিতে চায় এবং দুর্ভাগ্যজনকভাবে মুসলিম রাষ্ট্রগুলো অনেক সময় সেই নীতিরই অনুসরণ করছে। তার ভাষায়, আমাদের ধর্ম শান্তি, মানবাধিকার, মানুষের জীবন, সম্পদ ও সম্মানের নিরাপত্তার শিক্ষা দেয়।

মাওলানা ফজলুর রহমান অভিযোগ করেন, ২০০৪ সাল পর্যন্ত মাদরাসাসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের সঙ্গে একাধিক দফা আলোচনা ও চুক্তি হলেও আজও সেসব বাস্তবায়িত হয়নি। তিনি প্রশ্ন রাখেন, এত বছর পরও মাদরাসার নিবন্ধন সম্পন্ন হয়নি কেন? মাদরাসার ব্যাংক হিসাব বন্ধ কেন? এর অর্থ হচ্ছে, মাদরাসাগুলোকে ইচ্ছাকৃতভাবে উত্তেজনার দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।

নিজের বিরুদ্ধে সমালোচনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সরকারের বিভিন্ন নীতির সঙ্গে তিনি ভদ্রতা ও সম্মানের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন। কিন্তু তার বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে চরিত্রহননের চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, শুনে রাখুন, ফজলুর রহমান ভয় পাবে না, আত্মসমর্পণও করবে না।

বক্তব্যের শেষদিকে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর প্রতি সমর্থন জানিয়ে জেইউআই-এফ প্রধান বলেন, আল্লাহ না করুন, যদি কখনো আমার সেনাবাহিনীর ওপর কঠিন সময় আসে এবং তারা দেশের প্রতিরক্ষায় এগিয়ে যায়, তাহলে আমার এই ফকির সাথীদের তাদের পাশে, একই ট্রেঞ্চে দেখতে পাবেন।

তিনি আরও বলেন, জেইউআই কোনো সামরিক বাহিনী নয়। কিন্তু দেশের প্রতিরক্ষার জন্য আমাদের ২০০ কর্মী শহীদ হয়েছেন। দেশের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার জন্য দেওয়া এই আত্মত্যাগ আমরা গর্বের সঙ্গে স্মরণ করি।

সূত্র: রোজনামায়ে জং

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ