ইসরায়েল গাজায় নতুন করে সামরিক অভিযান চালালে পরিস্থিতি মানবিক সুনামিতে রূপ নেবে বলে জনিয়েছেন জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ।
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) এক বিজ্ঞপ্তিতে তারা এ আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।
সংস্থাটির মুখপাত্র আদনান আবু হাসনা বলেন, যদি ইসরায়েল গাজায় প্রবেশ করে, এখানকার মানুষ পালানোর কোনো জায়গা পাবে না। ফলে আমরা ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছি। বর্তমানে গাজায় জনগণের চাহিদা মেটাতে সক্ষম একমাত্র সংস্থা হচ্ছে ইউএনআরডব্লিউএ।
তিনি আরও জানান, খাদ্য সংকট এখন গোটা গাজাজুড়েই ছড়িয়ে পড়েছে। সীমান্তে দীর্ঘদিন আটকে থাকায় কিছু খাদ্য পচেও গেছে। তিনি ইসরায়েলকে অবিলম্বে সাহায্য পাঠানোর ওপর থেকে সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আহ্বান জানান।
দুর্ভিক্ষের বর্তমান অবস্থায় বলা হচ্ছে-
- জাতিসংঘ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো ইতোমধ্যে গাজায় আনুষ্ঠানিকভাবে দুর্ভিক্ষ ঘোষণা করেছে।
- সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ এই সংকট আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে দেইর আল-বালাহ ও খান ইউনুস এলাকায়।
- বর্তমানে গাজার ৫ লাখেরও বেশি মানুষ রয়েছে পঞ্চম ধাপে, যা খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার সবচেয়ে ভয়াবহ ও অপরিবর্তনীয় স্তর।
- আরও প্রায় ১০ লাখ মানুষ আছে চতুর্থ ধাপে, যা জরুরি পর্যায়ের ক্ষুধা।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে প্রাণহানির চিত্র—
- ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি অভিযানে নিহত হয়েছেন ৬২ হাজার ৮৯৫ জন ফিলিস্তিনি।
- আহত হয়েছেন ১ লাখ ৫৮ হাজার ৯২৭ জন।
- খাদ্যের সন্ধান করতে গিয়ে নিহত হয়েছেন ২ হাজারেরও বেশি মানুষ এবং আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ হাজার।
- দুর্ভিক্ষ ও অপুষ্টিতে মারা গেছেন ৩১৩ জন, এর মধ্যে ১১৯ জন শিশু।
এমএম/