রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ ।। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :

‘চিহ্নিত দুর্বলতা কাটিয়ে মাদরাসা শিক্ষায় আধুনিকায়ন ও সংস্কার জরুরি’

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

মাদরাসা শিক্ষার বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র রোধে করণীয় নির্ধারণে গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে মাদরাসা শিক্ষার স্বকীয়তা বজায় রেখে চিহ্নিত দুর্বলতা দূর করতে আধুনিকায়ন ও সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন আলেম, শিক্ষাবিদ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে জাতীয় উলামা পরিষদের উদ্যোগে ‘বাংলাদেশে মাদরাসা শিক্ষার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার রোধে করণীয়’ শীর্ষক এ গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মনন গঠনে মাদরাসা শিক্ষার ঐতিহাসিক ভূমিকা অনস্বীকার্য। ১৭৫৭ সালে ব্রিটিশদের হাতে স্বাধীনতা হারানোর আগে এ দেশের শিক্ষা, বিচার ও আইন বিভাগ আলেম সমাজের হাতে ছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, বর্তমানে মাদরাসা শিক্ষা নিয়ে চরম মিথ্যাচার ও সুদূরপ্রসারী অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। মাদরাসা কোনো উগ্রবাদ বা সন্ত্রাস তৈরির জায়গা নয়; বরং রাষ্ট্রীয় কোনো অনুদান ছাড়াই জনগণের সহায়তায় বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীকে আদর্শ ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলছে।

মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ বলেন, কোনো ব্যক্তি বিশেষের নৈতিক বিচ্যুতি বা প্রশাসনিক ত্রুটিকে কেন্দ্র করে পুরো শিক্ষাব্যবস্থা এবং লাখ লাখ আলেম-শিক্ষার্থীকে ঢালাওভাবে দায়ী করার চক্রান্ত কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আব্দুল কাদের বলেন, মাদরাসা শিক্ষার বিরুদ্ধে চলমান ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় আত্মপক্ষ সমর্থনের ঊর্ধ্বে উঠে আত্মসমালোচনা ও অভ্যন্তরীণ সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, মাদরাসা শিক্ষার্থীদের সমসাময়িক বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য আরবি ভাষার প্রায়োগিক চর্চা, বাংলা ও ইংরেজি ভাষার মানোন্নয়ন এবং আইসিটি ও কারিগরি শিক্ষার বিস্তার ঘটাতে হবে।

পাশাপাশি কোনো মাদরাসায় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তা দ্রুত তদন্তের জন্য পর্যবেক্ষণ সেল ও বিশেষ হটলাইন চালু করা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। অপপ্রচার রোধে কওমি বোর্ডের অধীনে কার্যকর ‘ফ্যাক্ট-চেকিং ইউনিট’ ও ‘লিগ্যাল প্যানেল’ গঠনেরও দাবি জানান।

বৈঠকে বক্তারা সরকারের প্রতি কওমি সনদের স্বীকৃতির পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন ও বাস্তবায়নের দাবি জানান। একই সঙ্গে সরকারি সব ক্ষেত্রে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের বৈষম্য দূর করে যোগ্যতা অনুযায়ী পদায়নের দাবি করেন তারা।

এ ছাড়া প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষকের পদ সৃষ্টি করে আলেমদের নিয়োগ এবং দেশের সর্বস্তরের শিক্ষায় ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার দাবি জানানো হয়।

জাতীয় উলামা পরিষদের আহ্বায়ক মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইনের সভাপতিত্বে বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংগঠনের সদস্য সচিব মাওলানা ফারুক আহমদ ভূঁইয়া। কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মাওলানা সাইফ উদ্দিন আহমদ খন্দকারের সঞ্চালনায় এতে আলেম, মাদরাসা শিক্ষক, শিক্ষাবিদ ও বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।

আলোচনায় অংশ নেন মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, শায়খুল হাদীস শেখ আজিম উদ্দিন, ড. মাওলানা ঈসা সাহেদী, মুফতি মোহাম্মদ আবুল হাসান এমপি, মাওলানা এহতেশামুল হক নোমানী, ড. মুহাম্মদ সারোয়ার হোসেন, মুহাদ্দিস শেখ মুহাম্মদ সালাহউদ্দিন, মাওলানা আবু আম্মার, মাওলানা আরিফ হক্কানী, অধ্যক্ষ শেখ কামাল হোসেন, শিক্ষাবিদ ড. মুস্তাফিজুর রহমান ফয়সাল, মুফতি আব্দুল্লাহ ইয়াহিয়া, মাওলানা রুহুল আমিন সাদী, সিনিয়র মুহাদ্দিস মুফতি ইলিয়াস, উপাধ্যক্ষ মাওলানা সাব্বির আহমেদ, মাওলানা জাকির হোসেন কাসিমী, শায়খুল হাদীস মাওলানা আব্দুস সামাদ, অধ্যক্ষ মাওলানা আজিজুল হক, মুফতি আব্দুল হক আমিনী, মাওলানা নুরুল ইসলাম, মুহাম্মদ রায়হান আলী, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি, প্রিন্সিপাল মাওলানা মোস্তফা কামাল, মুহতামিম মাওলানা নুরুল হক, মুহতামিম মাওলানা নুরুল আমিন এবং শিক্ষাবিদ ড. মাহমুদুল হাসান কিবরিয়াসহ অনেকে।

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ