চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কানাইমাদারী জায়নুল উলুম মাদরাসার নতুন মুহতামিম, নির্বাহী মুহতামিম ও সদরে মুহতামিম (উপদেষ্টা মুহতামিম) নির্বাচিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে মাদরাসার সার্বিক প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে কার্যনির্বাহী (আমেলা) কমিটি এবং অর্থসংক্রান্ত অডিট কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুর ১২টায় মাদরাসা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত নীতিনির্ধারণী ফোরাম মজলিসে শুরার অধিবেশনে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়ার মুহতামিম আল্লামা একরাম হোসাইন ওয়াদুদী।
সভায় সর্বসম্মতিক্রমে আল্লামা একরাম হোসাইন ওয়াদুদীকে কানাইমাদারী জায়নুল উলুম মাদরাসার নতুন মুহতামিম, মাওলানা মুকাদ্দেস কুতুবীকে নির্বাহী মুহতামিম এবং মাওলানা তাজুল ইসলামকে সদরে মুহতামিম (উপদেষ্টা মুহতামিম) হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।
এছাড়া মাদরাসার প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট আমেলা (কার্যনির্বাহী) কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা হলেন—আনোয়ারা কাফকো জামে মসজিদের ইমাম মুফতি আবুল হোসাইন, মাওলানা মুকাদ্দেস কুতুবী, মাওলানা হাফেজ নুর হোসাইন, মাওলানা হামিদুল্লাহ এবং মাদরাসার নাজেমে তালিমাত।
মাদরাসার আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে তিন সদস্যের একটি অডিট কমিটিও গঠন করা হয়েছে। এতে কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড আঞ্জুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিসের হিসাব নিরীক্ষক মাওলানা জাফর সাদেক, আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়ার সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা হামিদুল্লাহ এবং জায়নুল উলুম মাদরাসার শিক্ষক ও হিসাবরক্ষক মাওলানা মুজিবুর রহমানকে সদস্য করা হয়েছে।
সভায় মাদরাসার গত ৩৮ বছরের শিক্ষা কার্যক্রম, শিক্ষার মান, প্রশাসনিক অগ্রগতি এবং আয়-ব্যয়ের বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। এ সময় শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং অতীতের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে প্রতিষ্ঠানের সার্বিক উন্নয়নে বিভিন্ন সংস্কারমূলক সিদ্ধান্ত ও দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।
দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠিত এ নীতিনির্ধারণী সভায় গৃহীত সংস্কারমূলক সিদ্ধান্তগুলোকে স্বাগত জানিয়েছেন অভিভাবক ও স্থানীয় এলাকাবাসী। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে প্রাচীন এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষা, প্রশাসন ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় আরও গতিশীলতা ও স্বচ্ছতা ফিরে আসবে বলে তারা আশাবাদী।
আইও/