যাকারিয়া মাহমুদ, সাব-এডিটর
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনের অসংখ্য স্থানে মানবসেবার কথা বলেছেন। তাঁর রাসুল সা. সারাজীবনের কর্মতৎপরতায় উম্মতকে দিখিয়ে গেছেন এর অগণিত দৃষ্টান্ত।
আল্লাহর সেসব বাণী ও রাসুলের আদর্শকে বাস্তবে রূপ দিতেই মাঠে নেমেছে হাফেজ্জী হুজুর রহ. সেবা ফাউন্ডেশন। জনমানুষের সেবায় নিবেদিত প্রাণ—একঝাঁক আলেমের হাত ধরে এই সংগঠন পরিচালিত। সংগঠনটির সেবার এই বহুমুখী ধারায় যুক্ত হয়েছে আগামীর জ্ঞানসাধকদের সহায়তা। গত চার বছর ধরে কওমি মাদরাসার গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে কিতাব বিতরণ করে আসছে সংগঠনটি।

এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার (০১ মে) রাজধানীর মোহাম্মদপুরে, সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে দ্বিতীয় দফায় কিতাব বিতরণ কর্মসূচি। এর আগে প্রথম দফার কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয় চলতি বর্ষের ১৭ এপ্রিল। দুইদফায় প্রায় সাতলক্ষ টাকার কিতাব বিতরণ করল সংগঠনটি। হাফেজ্জী হুজুর সেবা ফাউন্ডেশেনের পরিচালক মাওলানা রজীবুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় এই কিতাব বিতরণ কর্মসূচি।
দ্বিতীয় দফার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুফতি জসীম উদ্দিন রাহমানী ছাত্রদের নসিহত করে বলেন—‘আল্লাহ যেমন সালাত (নামাজ) কায়েমের কথা বলেছেন, একইভাবে তিনি দ্বীন কায়েমের কথাও বলেছেন। তাই সালাত কায়েমে যেমন গুরুত্ব দিই—অনুরূপ গুরুত্ব আমাদের দ্বীন কায়েমের বেলায়ও দিতে হবে। এখন এর পদ্ধতি সম্পর্কে যদি তোমরা আমাকে প্রশ্ন করো, তাহলে বলব—আমাদের একমাত্র আদর্শ হলেন—রাসুল সা.। আমরা নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত, জিকির—সমস্ত ক্ষেত্রে যেমন রাসুলের থেকে শিখেছি, আল্লাহর আদেশ-নিষেধ পালনে আমরা তাঁর অনুকরণ করি। তদ্রুপ দ্বীন কায়েমের বেলায়ও আমাদের রাসুল সা.-এর অনুকরণ করত হবে।
কিতাব বিতরণী অনুষ্ঠানে মাওলানা আবু তাহের রাহমানী ছাত্রদের সুন্দর আচরণের নসিহত করে বলেন, ‘আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় পড়াশোনা করি, দুনিয়া আমাদের উদ্দেশ্য না। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের বড় একটা উপায় হলো, চরিত্র ও সুন্দর আচরণ। আল্লাহ তাআলা রাসুল সা. উত্তম আদর্শ ও সুন্দর আচরণ দিয়ে দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন। রোজ হাশরে সুন্দর আচরণের পাল্লা হবে সবচে ভারি। তাই আমাদের আবশ্যক হলো, সুন্দর আচরণ ও উত্তম চরিত্রের গুণ অর্জন করা।’
কিতাব বিতরণী এই অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মিকাঈল করিমসহ বরেণ্য অনেকে।
হাফেজ্জী হুজুর রহ. সেবা ফাউন্ডেশন—কেবল একটি সংগঠন নয়; বরং অসংখ্য অসহায়ের ভরসার স্থল। অসহায় চাই আরাকানের নির্যাতিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী হোক কিংবা দেশের আকস্মিক বন্যায় ভেসে যাওয়া জনপদ—যেখানেই শোনা যায় তৃষ্ণার্তের আর্তনাদ, সেখানেই পৌঁছে যায় এই সংগঠনের একঝাঁক আলেম। সাধ্যানুযায়ী চেষ্টা তাদের মানুষের পাশে থাকার। দেশের নওমুসলিম থেকে শুরু করে সুদূর ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা পর্যন্ত বিস্তৃত তাদের এই নিঃস্বার্থ সেবার হাত।
হাফেজ্জী হুজুর রহ. সেবা ফাউন্ডেশন বিশ্বাস করে, মানুষের সেবা করাই হলো মহান রবের সন্তুষ্টি অর্জনের সহজ পথ। কিতাব হাতে এক একজন শিক্ষার্থী যখন আলোকিত মানুষ হয়ে গড়ে উঠবে, তখনই সার্থক হবে এই শ্রম। আসুন, এই মানবিক পথচলায় আমরাও শামিল হই।
জেডএম/