বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬ ।। ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ১১ জিলহজ ১৪৪৭


‘গণভোটের রায় বাস্তবায়নে টালবাহানা জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা’


নিউজ ডেস্ক

নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

গণভোটের রায় বাস্তবায়নে বিলম্ব বা টালবাহানা জাতির সঙ্গে সরাসরি বিশ্বাসঘাতকতার শামিল—এমন মন্তব্য করে সরকারের প্রতি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জোর আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি। দলটির নেতারা বলেছেন, জনগণের রায় অগ্রাহ্য করা হলে তা শুধু রাজনৈতিক ব্যর্থতা নয়, বরং জুলাই অভ্যুত্থানে জীবন উৎসর্গকারী শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি নির্মম অবজ্ঞা হিসেবে ইতিহাসে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে অনুষ্ঠিত দলের ‘মজলিসে শুরার অধিবেশন’-এ সভাপতিত্ব করেন পার্টির আমির আল্লামা সারোয়ার কামাল আজিজী এবং সঞ্চালনা করেন মহাসচিব মুসা বিন ইযহার। সভায় নেতৃবৃন্দ দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

নেতৃবৃন্দ বলেন, রাষ্ট্র সংস্কার ও নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার মহান প্রত্যাশা বুকে ধারণ করে এ দেশের শিশু-কিশোর, শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষ চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানে রাজপথে নেমেছিল। সেই আন্দোলনে হাজারো মানুষ শহীদ হয়েছেন, অসংখ্য মানুষ রক্ত দিয়েছেন, অনেকে আজীবনের জন্য পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। তাদের ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত গণআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেছিল গত ফেব্রুয়ারির গণভোটে, যেখানে প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটার ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছিলেন। কিন্তু একই দিনে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠনের পরও সেই রায় বাস্তবায়নে গড়িমসি শুরু হয়েছে—যা গভীরভাবে হতাশাজনক ও উদ্বেগজনক।

নেতৃবৃন্দ দৃঢ় ভাষায় বলেন, ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়—জনগণের প্রত্যাশার বিরুদ্ধে গিয়ে, গণরায়ের প্রতি অবজ্ঞা দেখিয়ে কোনো সরকার দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারেনি। বরং এমন পথ বেছে নেওয়া শাসকদের পরিণতি হয়েছে করুণ ও লজ্জাজনক। তাই তারা বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানান—অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে, জনগণের স্পন্দন অনুভব করে, শহীদদের রক্তের মর্যাদা রক্ষায় দ্রুত গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে।

সভায় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। নেতারা বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনার আলোকে দেশে শান্তি, শৃঙ্খলা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে দেখা যাচ্ছে শিক্ষাঙ্গনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অস্থিতিশীলতা বাড়ছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সন্ত্রাস, মববাজি ও দখলবাজি নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত ন্যাক্কারজনক হামলাগুলোর সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন—বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুল মাজেদ আতহারী, নায়েবে আমীর মুফতি মোখলেসুর রহমান কাসেমী, নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুর রহমান চৌধুরী, সংগঠন সচিব মাওলানা আবু তাহের খান, সহকারী মহাসচিব হাফেজ আজিজুল হক, সহকারী অর্থ সচিব আলহাজ্ব আনোয়ারুল কবীর, শিল্প ও বাণিজ্য সচিব আলহাজ্ব শাকিরুল হক খান, সহকারী সংগঠন সচিব মাওলানা ইনআমুল হক কুতুবী, সমাজকল্যাণ সচিব মাওলানা এরশাদ বিন জালাল সহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

সভা শেষে দলীয় কার্যক্রমকে দেশব্যাপী আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বেশ কিছু কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।

জেডএম/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ